মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল, দেশের শীর্ষস্থানীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান মুসপানার চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব লিমিটেডের পরিচালক ও ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) আজীবন ফেলো। পড়াশোনা করেছেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে ড. ইউনূসের ‘শূন্য কার্বন নিঃসরণ’ নীতির প্রতিফলন জ্বালানি খাতে কতটা ঘটেছে বলে মনে করেন?

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সার্বিক উন্নয়নে আমরা হতাশ। সরকারপ্রধানের যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও দর্শন, তার আলোকে এ খাতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিল, বাস্তবতা তার ধারেকাছেও নেই। এখনো সবকিছু নীতিগত আলোচনার পর্যায়েই রয়ে গেছে, বাস্তবিক অগ্রগতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। বরং কিছু ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়েছি। প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে পাকিস্তান যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অভাবনীয় উন্নতি করছে, আমরা সেখানে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালাই পাইনি। নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অর্থায়নের কারণে পাকিস্তান নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা এখনো আশার মুখ দেখছি না।

আপনি নীতিগত দুর্বলতার কথা বললেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা ঠিক কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন?

মাঠ পর্যায়ের অবস্থা আরো জটিল। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। একটি ছাড়পত্রের জন্য এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হয়, কিন্তু সুরাহা মেলে না। একটি উদাহরণ দেই। আমি গত বছরের অক্টোবরে একটি সাইট হস্তান্তর করেছি। কিন্তু ১০ মাস পরও সেই প্রকল্পের নেট মিটার সংযোগ পাইনি। সম্প্রতি কিছু সংযোগ দেয়া শুরু হলেও দীর্ঘসূত্রতা রয়েই গেছে। মনে হচ্ছে, পরিষেবা সংস্থাগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে স্বাগত জানাচ্ছে না। কারণ এতে তাদের প্রচলিত ব্যবসা কমে যেতে পারে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার এমন ব্যবসায়িক মনোভাব থেকে কাজ করতে পারে না। তাদের অসহযোগিতার কারণে আমাদের মতো উদ্যোক্তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

সরকারের শূন্য কার্বন নিঃসরণ নীতির সঙ্গে বর্তমান ট্যাক্স-ভ্যাট কাঠামো ও ভর্তুকি নীতির কোনো বৈপরীত্য বা স্ববিরোধিতা দেখছেন কি?

এখানে একটি বিশাল স্ববিরোধিতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশের (সোলার ইনভার্টার) আমদানির শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২৮ শতাংশ (টিটিআই) নির্ধারণ করেছে সরকার। সোলার প্যানেলের ক্ষেত্রে আগের ১১ শতাংশ শুল্ক যা ছিল তাই বলবৎ আছে। অন্যদিকে, সরকার যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানিতে প্রতি বছর লক্ষাধিক কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কোনো ভর্তুকি তো নেই-ই, বরং পদে পদে খরচ দৃশ্যমান কমানো হয় নাই। এটি সরকারের ঘোষিত নীতির পুরোপুরি বিপরীত। হয় আমাদের বুঝতে ভুল হচ্ছে অথবা সরকারের কোনো একটি পর্যায়ে ভুল বার্তা পৌঁছানোর কারণে এমনটি ঘটছে। যেখানে এ খাতে আরো বেশি প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেয়া উচিত, সেখানে উল্টো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আপনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা সংগঠনের একজন নীতিনির্ধারক। গত এক-দেড় বছরে এ খাতের উন্নয়নে, বিশেষ করে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার বা আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল?

আমরা বর্তমান কমিটি গত জানুয়ারি থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন, অর্থাৎ বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনকে (বিএসআরইএ) সরকারি পর্যায় থেকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতো না। কিন্তু এখন আমরা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছি। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়—সেটি নীতিমালা হোক বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত—সরকার কোনো না কোনোভাবে আমাদের সম্পৃক্ত করছে। এটি খাতের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক এবং আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি।

সরকারের সঙ্গে আপনাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে, এটা অবশ্যই একটি অগ্রগতি। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আপনাদের অ্যাসোসিয়েশনের সক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলো কী? এ সীমাবদ্ধতা নিয়েই আপনারা কীভাবে খাতটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন?

আমাদের রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনার সুযোগ কম। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন এখনো বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর মতো শক্তিশালী নয়; আমরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা বসে নেই। আমরা নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী যোগাযোগ স্থাপন করেছি, যে কাজটি সরকারের পক্ষ থেকেও করা যেত। বর্তমানে আমরা বিশ্বের প্রায় ৩০-৩৫টি দেশের সোলার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি—কোন দেশে নীতিমালায় কী পরিবর্তন আসছে বা কোথায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এ তথ্যগুলো আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, যেমন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সঙ্গে বিনিময় করছি।

সরকারি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে স্রেডার ভূমিকা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো সফল উদাহরণ কি অনুসরণ করা যেতে পারে?

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে স্রেডাকে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, স্রেডায় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এখানে এমন কিছু স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা প্রয়োজন, যারা খাতটিকে প্রকৃত অর্থে ধারণ করবেন এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিবেদিত থাকবেন।

এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ খুবই প্রাসঙ্গিক। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রায় ৫২ শতাংশ আবাসিক বাড়িতে সোলার রুফটপ নেট মিটারিং স্থাপন করেছে। তাদের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হলো প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িতে এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ব্যাটারি) যুক্ত করা। এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্ভব হচ্ছে কারণ তাদের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং উদ্যোক্তাদের অ্যাসোসিয়েশন খুব ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছে। প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, নীতিমালা কেমন হবে এবং ব্যবসায়ীরা কীভাবে লাভবান হবেন—প্রতিটি বিষয় তারা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনেরও একটি চমৎকার সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা যদি স্রেডাকে শক্তিশালী করতে পারি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো এমন সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারি, তাহলে আমাদের দেশেও ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব।

সরকার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই যে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে, এটি কি খাতটিকে চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারবে?

আমি অত্যন্ত আশাবাদী। গত কয়েক মাসে আমাদের যতটা অগ্রগতি হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় যে এখানে বিশাল সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেতে শুরু করেছি। আশা করি ভবিষ্যতে এটি আরো বাড়বে। সরকার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যদি এ সহযোগিতার সম্পর্ক বা সেতুবন্ধ ঠিকভাবে গড়ে ওঠে, তাহলে বিশ্বাস করি, খাতটি চরম সফলতার মুখ দেখবে। এতে সরকার, জনগণ এবং আমরা উদ্যোক্তা—সবাই উপকৃত হব।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে সরকারের কাছে আপনারা সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধরনের নীতি সহায়তা প্রত্যাশা করছেন?

আমাদের প্রথম এবং প্রধান প্রত্যাশা হলো নীতিগুলো যেন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না, সেই নীতি কীভাবে কাজ করবে, অর্থায়নের প্রক্রিয়া কী হবে এবং পরিষেবা (ইউটিলিটি) সংস্থাগুলো আমাদের কীভাবে সহযোগিতা করবে—এ বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। অনেক সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্পষ্টতা বা ভুল ধারণা থাকে। একটি শক্তিশালী স্রেডা পারত নিয়মিত কর্মশালা বা আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসায়ী কমিউনিটির সঙ্গে বসে এ ধারণাগুলো পরিষ্কার করতে। এতে কাজের গতি অনেক বাড়ত এবং সমন্বয়হীনতা দূর হতো।

সারা দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সোলার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার দিয়েছে, বাস্তবতার নিরিখে এটিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

এটিই আমাদের মূল উদ্বেগের জায়গা—ঘোষণা ও বাস্তবতার মধ্যে বিশাল ফারাক। সরকার জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দিল। এখন অক্টোবর প্রায় শেষ, আর মাত্র দুই মাস বাকি। অথচ এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) বা সমীক্ষার কাজই চলছে। এ সমীক্ষার ফলাফল আসতেই ডিসেম্বর পার হয়ে যাবে। তারপর হবে বাজেট বরাদ্দ এবং সবশেষে বাস্তবায়ন। এ দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা।

যদি সরকারের পুরো তথ্যভাণ্ডার স্রেডার কাছে থাকত, তাহলে মূল্যায়নের কাজটি একদিনেই সম্পন্ন করা যেত।

কিন্তু জনবলের অভাবে তা হচ্ছে না। কাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই আমরা মনে করি, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুধু একটি সেল না রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিদপ্তর’ গঠন করা অপরিহার্য। বিশ্বের অনেক দেশে এখন আলাদা ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়’ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশে একটি অধিদপ্তর তৈরি হলে তাদের একমাত্র কাজই হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা। তখন তারা কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। এখন যা হয়, কর্মকর্তারা দুই বছরের জন্য আসেন, আবার বদলি হয়ে চলে যান, দিনশেষে কেউ দায়বদ্ধতা নেন না। একটি নিবেদিত অধিদপ্তর থাকলে তথ্যের ঘাটতি কমবে এবং এটি একটি ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট অব কন্টাক্ট’ হিসেবে কাজ করবে, যা এখন খুবই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোন উৎসটি সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়?

আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ খুবই সীমিত। কাপ্তাইয়ে যা আছে, তার বাইরে নতুন কোনো সম্ভাবনার জরিপ এখনো আমরা পাইনি। দ্বিতীয়ত, বায়ুবিদ্যুতের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত যতগুলো প্রতিবেদন এসেছে, সেগুলো মূলত পাইলট প্রকল্পের ভিত্তিতে। বায়ুপ্রবাহের ধরন খুব একটা সুনিশ্চিত না হওয়ায় এখান থেকে বড় আকারে সাফল্য পাওয়ার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। সুতরাং, আমাদের জন্য একমাত্র এবং সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার জায়গা হলো সৌরশক্তি। বাংলাদেশে সৌরশক্তির সম্ভাবনা এতটাই বেশি যে তা কল্পনাও করা যায় না।

আপনি সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনার কথা বললেন, কিন্তু ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপনের (রুফটপ সোলার) ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো কী এবং এর সমাধান কীভাবে সম্ভব?

এখানেই আমাদের নীতিগত এবং পরিকল্পনাগত বড় দুর্বলতাটি প্রকাশ পায়। আমাদের ভবনগুলোর ছাদ সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয় না। ছাদে পানির ট্যাংক, লিফট রুম এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাঠামোর কারণে পুরো জায়গাটা ব্যবহার করা যায় না। আপনি যদি আমেরিকা বা চীনের মতো দেশের দিকে তাকান, দেখবেন তাদের ভবনগুলোর ছাদ পরিকল্পিতভাবে রাখা হয়, যাতে সহজেই প্যানেল বসানো যায়। আমাদের দেশে ছাদগুলো কেন এত উঁচু-নিচু হবে?

এর সমাধান হলো যারা নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি এবং ডিজাইনার আছেন, তাদের সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে একটি নীতিগত আলোচনা শুরু করতে হবে। রাজউক বা অন্যান্য সিটি করপোরেশনকে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের সময়ই ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর উপযোগী ডিজাইন বাধ্যতামূলক করতে হবে। যেমন সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে যে কোনো ভবন ১০ তলার বেশি হবে না এবং তার ছাদের ডিজাইন হবে একটি ইউনিক প্যাটার্নের, যেখানে সৌরশক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।

ভূমি স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ কি ভারত বা পাকিস্তানের মতো বড় আকারের সোলার ফার্ম স্থাপনে পিছিয়ে পড়ছে? এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় কী?

জমির স্বল্পতা আমাদের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, এটাই বাস্তবতা। আমি প্রায় ১৫ বছর আগে ভারতের ঝাড়খণ্ডে একটি ১০ মেগাওয়াটের সোলার পাওয়ার প্লান্ট দেখতে গিয়েছিলাম। আমি দেখেছি, সেখানে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। তাই ভারত বা পাকিস্তান চাইলেই বিশাল সোলার ফার্ম স্থাপন করতে পারছে। আমাদের সেই সুযোগ নেই।

এ কারণেই আমাদের রুফটপ সোলার বা অব্যবহৃত জায়গাগুলোকে কাজে লাগানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ অন্তর্বর্তী সরকারের একটি দারুণ সুযোগ ছিল এ পরিকল্পনাগত পরিবর্তন আনার। যদি দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদ আমরা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে কয়েক গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সহজেই উৎপাদন করা সম্ভব হতো। সরকার যেখানে মাত্র তিন গিগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে, সেখানে শুধু ছাদ ব্যবহার করেই আমরা এর চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ পেতে পারি, যা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কোন কোন পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?

সব আলোচনার মূলে ঘুরেফিরে একই বিষয় আসছে—সমন্বিত সরকারি নীতি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং একটি একক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। আমাদের এমন একটি ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিদপ্তর’ প্রয়োজন, যারা এ সবগুলো বিষয় যেমন নগর পরিকল্পনা, জ্বালানি নীতি এবং উদ্যোক্তাদের সুবিধা-অসুবিধা সমন্বয় করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ প্রক্রিয়ায় এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যারা খাতটি সম্পর্কে বোঝেন এবং অভিজ্ঞতা রাখেন। যে কাউকে এনে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই এ বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বাংলাদেশ কীভাবে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী শিল্প খাতে পরিণত হতে পারে?

আমরা প্রায় শতভাগই আমদানিনির্ভর। আমাদের দেশে সৌর প্যানেল ‘উৎপাদন’ বলতে মূলত যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে এনে অ্যাসেম্বল বা সংযোজন করাকে বোঝায়। আজ থেকে ১৩-১৪ বছর আগে প্রায় সাতটি দেশীয় কোম্পানি ২০-৩০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করে প্যানেল সংযোজনের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু সঠিক নীতি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের অভাবে এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানিই এখন বিলুপ্ত। টিকে আছে মাত্র একটি। তারাও প্যানেলের সেল, স্ট্রাকচারসহ সবকিছু বিদেশ থেকে এনে এখানে শুধু সংযোজন করে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা কী? বৈশ্বিক বাজারে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমরা কেন পেরে উঠছি না?

মূল কারণ হলো সৌর প্যানেল বা ইনভার্টারের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৯০ শতাংশই চীননির্ভর। এমনকি ভারত যে কয়েকটি বড় কোম্পানি তৈরি করেছে, তাদেরও প্যানেলের মূল উপাদান ‘সেল’ চীন থেকেই আনতে হয়, যা তাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। ভূরাজনৈতিক কোনো বড় পরিবর্তন না ঘটলে বাংলাদেশের পক্ষে এ বাজারে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা কঠিন। এর আরেকটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারের দাম এখন এতটাই কমে গেছে যা অকল্পনীয়। এ কম দামের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে প্রতিযোগিতা করা প্রায় অসম্ভব।

একদিকে যেমন উৎপাদন নেই, অন্যদিকে দেশে এ খাতে হাজার হাজার কোম্পানি তৈরি হয়েছে। সেবার মান নিয়ে আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী?

এটি এ খাতের সবচেয়ে বড় সংকট। একটা সময় আমরা হাতেগোনা ৮-১০টি কোম্পানি কাজ করতাম। আর এখন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করা কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। কিন্তু এদের ৯০ শতাংশই সেবার মান নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ, মান নিশ্চিত করার জন্য যে কারিগরি জ্ঞান বা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দরকার, সেটাই তাদের নেই। তারা সোলার সিস্টেম স্থাপন করাকে আইপিএস সংযোগ দেয়ার মতো সহজ মনে করে। ফলে প্যানেল বসানো থেকে শুরু করে তারের সংযোগ বা লেসিং পর্যন্ত কোনো কিছুই সঠিকভাবে করা হয় না, যা পুরো সিস্টেমকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

এ মানহীন সেবা এবং আমদানিনির্ভরতার সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী?

এ সংকট থেকে বের হতে হলে প্রথমত, সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে, যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের সেরা ১০-২০টি মানসম্মত কোম্পানির মধ্যে বড় প্রকল্পগুলো ভাগ করে দিতে পারে। এতে দ্রুত এবং মানসম্মত কাজ নিশ্চিত হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা সেবার মান বাড়ানোর জন্য কাজ করছি এবং সরকারেরও সহযোগিতা পাচ্ছি। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনে কিছুটা সময় লাগবে।

বিশ্বের অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৩০-৫০ শতাংশ অর্জন করেছে। আমরা এখনো ৫-৬ শতাংশে আছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের পথে মূল বাধা কী এবং তা অর্জন করা কি আদৌ সম্ভব?

২০৪১ সাল পর্যন্ত আমাদের একটি মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু এর জন্য সঠিক নীতি এবং সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমি একজন ব্যবসায়ী, আমি ব্যবসা করতে এসেছি। আমার ১ কোটি টাকা ব্যাংকে রাখলে যদি আমি বছরে ৮-১০ লাখ টাকা মুনাফা পাই, তাহলে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে আমাকে এর চেয়ে বেশি আয় করতে হবে। নয়তো এত পরিশ্রমের কোনো মানে হয় না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করে সেই পরিমাণ মুনাফা অর্জনের নিশ্চয়তা পেলেই বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন।

এর জন্য একটি বিশেষ তহবিল বা স্বল্প সুদে পুনঃঅর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন। এখানেই মূল সমস্যা। সরকার জীবাশ্ম জ্বালানিতে প্রতি বছর ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে। আমরা বলছি, সেই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দিতে। যদি স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে এ খাতকে এগিয়ে নেয়া যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল আসবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ালে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে বর্তমানে যে ১ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, পাঁচ বছর পর হয়তো তা ৫০ হাজার কোটিতে নেমে আসবে এবং ২০ বছর পর হয়তো ১০ হাজার কোটিতে। এতে দেশের ৯০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সরকার যদি এ ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের পক্ষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

আপনি এর আগেও বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে না। বিষয়টিকে যদি আরেকটু ব্যাখ্যা করতেন?

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ ও সুন্দর নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে, যা দেখে আমরা ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ কাজের প্রত্যাশা করেছিলাম। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোয় দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ানসহ সব ধরনের প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) প্রায় কেউই গত ৮-১০ মাসে কোনো বলার মতো ব্যবসা পায়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের কোম্পানিরই গত আট মাস ধরে কোনো ব্যবসা নেই বললেই চলে। অন্যদের অবস্থাও একই।

এ খাতে প্রায় ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তাহলে ব্যবসাটা ঠিক কোথায় আটকে আছে? সবাই কেন কাজ পাচ্ছে না?

কাজ যা-ও সামান্য আসছে, সেটাও মূলত টেন্ডারভিত্তিক। সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা, ব্যাংক সলভেন্সিসহ নানা শর্ত থাকে, যা এ ১০ হাজার নতুন কোম্পানির পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে কাজগুলো হাতেগোনা কয়েকটি পুরনো কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—দেশে হাজার হাজার উদ্যোক্তা আছে, কিন্তু তাদের জন্য কোনো ব্যবসার সুযোগ নেই।

এখন এ ১০ হাজার কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখাও তো একটি দায়িত্ব। আমরা কথায় কথায় ‘সাসটেইনেবিলিটি’ বা টেকসই উন্নয়নের কথা বলি। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়ন কীভাবে হবে যদি তাদের কাজই না থাকে? এ দায়িত্ব শুধু আমাদের দুর্বল অ্যাসোসিয়েশনের নয়, সরকারেরও। আমাদের অ্যাসোসিয়েশন বিজিএমইএর মতো শক্তিশালী নয় যে একাই সব দায়িত্ব নেবে। তাই ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারের নীতিগত সমর্থন জরুরি।

এ অচলাবস্থা কাটাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাফল্য থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

নীতিনির্ধারণী পর্যায়কে আরো বাস্তবমুখী হতে হবে। নীতিনির্ধারণী এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে হবে যারা খাতটি নিয়ে ভাবেন, বোঝেন ও কাজ করেন। আমাদের নতুন করে কিছু উদ্ভাবন করার দরকার নেই। আমাদের চারপাশে সফল উদাহরণ প্রস্তুত হয়ে আছে। আমাদের শুধু সেগুলো থেকে শিখতে হবে। পাকিস্তান, ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো কীভাবে এ খাতে এতটা সফল হলো, তাদের সেই সফলতার গল্পগুলোকে সরকারকে বিশ্লেষণ করতে হবে। এর জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা যেতে পারে, যারা আগামী ১০ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল কর্মপরিকল্পনা দেবে।

এ খাতের সমন্বিত বিকাশ ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?

এ খাতের একটি বিশাল সম্ভাবনা হলো বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি। ১০ হাজার কোম্পানিতে গড়ে পাঁচজন করেও যদি কাজ করে, তাহলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বিরাট ব্যাপার। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে একটি একক, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক কর্তৃপক্ষ গঠন করা অপরিহার্য।

এর জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিদপ্তর’ বা একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা যেতে পারে। এমন একটি কর্তৃপক্ষ থাকলে সবাইকে—সরকার, উদ্যোক্তা ও অ্যাসোসিয়েশন—একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে এবং সবার মধ্যে একটি সমন্বিত দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। এটি করা না গেলে বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় এ খাতের টেকসই উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়।

একজন উদ্যোক্তা ও এ খাতের নীতিনির্ধারক হিসেবে আগামী দশকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

আগামী দশকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত—২০৩০ সালের নির্ধারিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা। আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে সরকার এবং আমাদের উদ্যোক্তা সংগঠন (বিএসআরইএ) সমন্বিতভাবে কাজ করে এ লক্ষ্য পূরণ করবে। আমরা যদি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি, তবে এটি দেশ ও জাতির জন্য এক বিশাল সাফল্য বয়ে আনবে এবং আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে।