খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে একটি টেকসই এবং স্মার্ট কৃষির দিকে জোর দেয়ার বিকল্প নেই। মূলত প্রকৃতিনির্ভর কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি ব্যাপক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ নিবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনোদনমূলক কৃষি বা বিনোদন কৃষির গুরুত্ব, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করা। বিনোদন কৃষির ধারণাটি বাংলাদেশে খুব বেশি পরিচিত বা আলোচিত নয় এবং বিনোদন কৃষির প্রয়োজনীয়তা এখন পর্যন্ত কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, ব্যবস্থাপক, নীতিনির্ধারক বা কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। বিনোদন কৃষি-সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চলমান রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী নয় এবং বিনোদন কৃষি ধারণার আওতায়ও নয়। ১৩টি থিমেটিক খাতে প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত কৃষি মহাপরিকল্পনাতেও সরাসরি বিনোদন কৃষি অন্তর্ভুক্ত নেই। টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে জড়িতদের বা অংশীজনের আর্থিক সচ্ছলতার সঙ্গে মানসিক প্রশান্তি, আগ্রহ, আনন্দ কিংবা স্বতঃস্ফূর্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনোদন কৃষি কৃষকদের অর্থনৈতিক সুবিধা এবং মানসিক তৃপ্তির উভয় দিককেই সম্বোধন করে।

বিনোদন কৃষি বা তার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সমার্থক কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেমন অবসর কৃষি, কৃষি পর্যটন, আনন্দ কৃষি ইত্যাদি। ‘বিনোদন কৃষি’ শব্দটি কৃষিতে আনন্দ উপাদানের একটি গুচ্ছ বা প্যাকেজ বোঝায়, যদিও বিশ্বব্যাপী এটি কৃষি পর্যটনের সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃষকদের দ্বারা বা কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে পর্যটন সেবা প্রদান একটি স্বীকৃত এবং প্রচলিত কার্যকলাপ যা ইউরোপে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে "গ্রামীণ পর্যটন" শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও কৃষি পর্যটন এবং গ্রামীণ পর্যটন ভিন্ন ধারণা, কৃষি পর্যটনকে গ্রামীণ পর্যটনের একটি উপাদান বলা যায়।

কৃষি বিনোদনমূলক কার্যকলাপ বলতে কৃষির স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রশান্তি, বিনোদন, আনন্দদায়ক কিছু কার্যকলাপ বোঝায়। বিস্তৃত অর্থে, কৃষি বিনোদনমূলক কার্যকলাপের মধ্যে শস্য উৎপাদন ছাড়াও কৃষিকাজের সম্মানজনক স্বীকৃতি, অ্যাওয়ার্ড, আনন্দ ভ্রমণ, শিক্ষাভ্রমণ, শিকার, শুটিং, সাঁতার, ডাইভিং, টিউবিং, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত। এটি কৃষক সম্প্রদায়ের আয় বৃদ্ধি করে, কৃষক সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে সহজতর করে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে, কৃষিকাজের প্রতি কৃষকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি করে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে এবং পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারিত করে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধি করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র খামার কেন্দ্রের মতে, কৃষি পর্যটন বলতে একটি কর্মক্ষম খামার বা কৃষিভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগকে বোঝায় যা দর্শনার্থীদের আনন্দের জন্য পরিচালিত হয় এবং খামার মালিকের জন্য পরিপূরক আয় তৈরি করে। ন্যাশনাল চুং হসিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লি হোয়াং-জাও বিনোদন কৃষিকে একটি কৃষি ব্যবসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা কৃষি থেকেই উদ্ভূত। তিনি এর মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—১. কৃষি, অর্থাৎ শস্য উৎপাদন কার্যক্রম, বনায়ন, পশুপালন, মৎস্য উৎপাদন; ২. পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যার মধ্যে রয়েছে গোচারণভূমি, জীবপরিবেশ এবং পরিবেশগত অন্যান্য সম্পদ; এবং ৩. গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনধারা। তার মতে, নাগরিকদের এ ধরনের অনন্য কৃষিভিত্তিক বিনোদনমূলক কার্যকলাপ উপভোগ করতে এবং উপভোগে আকৃষ্ট করার জন্য প্রচারণা চালানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ।

কৃষি পর্যটন ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে বেশি প্রচলিত এবং বিশ্বজুড়ে বিনোদন কৃষি গতি পাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইতালি, তাইওয়ানের মতো কিছু ইউরোপীয় এবং এশীয় দেশ এক্ষেত্রে অগ্রণী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনোদনমূলক পরিষেবা প্রদানকারী কৃষি পর্যটন খামারের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রায় ২৩ হাজার থেকে ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে প্রায় ৩৩ হাজার হয়েছে। ২০০৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে একটি বিনোদনমূলক কৃষি খামার ছিল ১ হাজার ১০টি, যা ২০১২ সালে ১ হাজার ৩০০-তে উন্নীত হয়েছিল এবং ২০১২ সালে এ খামারগুলোতে আয় ৭৮৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ইউয়ান থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৭১ দশমিক ৫ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। শুধু বেইজিংয়ের হুয়াই রো জেলায় ৭৬টি অবসর কৃষি খামার রয়েছে। বিনোদন কৃষির বার্ষিক আয় ৩২০ মিলিয়ন ইউয়ান।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে কৃষি পর্যটন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি লোক ইতালীয় কৃষি পর্যটন খামার দ্বারা আতিথেয়তা লাভ করেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সময়কালে পর্যটনমূলক কার্যকলাপে জড়িত খামারের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৭২০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৬৬১ (+২৮ শতাংশ) হয়েছে এবং শয্যা ধারণক্ষমতা ১৭৯ হাজার ৯৮৫ থেকে বেড়ে ২৪৫ হাজার ৪৭৩ (+৩৬ শতাংশ) হয়েছে। একই সময়ে মোট খামারের সংখ্যা ৯২১ হাজার থেকে কমে ৭৫৬ হাজার হয়েছে, যার অর্থ মোট খামারের সংখ্যার তুলনায় কৃষি পর্যটনের ঘটনা ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ শতাংশ হয়েছে। জার্মানিতে ২০০৬ সালে প্রায় ২৫ হাজার খামার অপারেটর পর্যটন পরিষেবা প্রদান করেছিলেন এবং অনুমান করা হয় যে পরিষেবাগুলো তাদের সামগ্রিক আয়ের ২৫ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে অবদান রাখে। অস্ট্রিয়ায় মোট খামারের ৬ শতাংশ পর্যটন পরিষেবা প্রদান করে এবং কৃষি পর্যটন দ্বারা প্রদত্ত রাতের আবাসন শয্যা সংখ্যার দিক থেকে দেশের মোট আবাসন সরবরাহের ১০ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।

বিশ্বব্যাপী কৃষিবাজারে ক্রমাগত পণ্য পরিবর্তন, কৃষিপণ্যের দাম এবং শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের দামের মধ্যে ক্রমাগত পরিবর্তন, অকৃষি খাতে জমি ব্যবহারের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নগরায়ণের জন্য জমির ব্যবহার, কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কৃষি খামারগুলোর, বিশেষ করে ছোট ছোট খামারের লাভজনক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কৃষিকাজ কষ্টসাধ্য এবং ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কখনো কখনো বিশেষ করে গ্রামীণ ভরণপোষণযোগ্য কৃষি পরিবারে কায়িক শ্রমসাধ্য খাতটি সম্পূর্ণরূপে সংগঠিত নয় এবং এ খাতে যাদের কর্মসংস্থান হয় তাদের অনেকেই পেশাদার বা চাকরিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি কম।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ যুবকরা কৃষিকাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বৈদেশিক কর্মসংস্থান যাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। প্রবাসী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত এ বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কিছু কিছু যুবকদের অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলেছে, চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে গল্প করে সময় অতিবাহিত করছে। তাছাড়া বাস্তবে সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা কম থাকায় কৃষি খাত একটি প্রিয় পেশা হিসেবে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

নগরায়ণ, দ্রুত শিল্পায়ন, বর্ধিত ভৌত অবকাঠামো এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ধীরে ধীরে মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমি হ্রাস করে। ফলে মানুষ কৃষিবহির্ভূত খাতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাংলাদেশের নগর জনসংখ্যা ১৯৭২ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৩৯ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে, যা গড়ে বার্ষিক ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমি হ্রাসের হার ১ শতাংশ। এ পটভূমি বিবেচনা করে কৃষির অংশীজনরা অত্যন্ত উৎসাহী এবং আরো উদ্যোগী না হলে অন্য কথায় কৃষি বিনোদনমূলক না হলে খাদ্যনিরাপত্তা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা এবং টেকসই করা যাবে না।

বিনোদনহীন কৃষির অজানা এবং অদৃশ্য নেতিবাচক প্রভাব কৃষির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে বেশির ভাগ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর, বিপুলসংখ্যক ছদ্মবেশী বেকারত্ব এবং প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে, সেখানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিনোদন কৃষির গুরুত্বের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত। এছাড়া নানা কারণে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির কারণে বিনোদন কৃষিকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যাতে মানুষ পারিবারিক পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে। বিনোদন কৃষির একটি সাম্প্রতিক এবং বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে ছাদকৃষি, যা প্রাথমিকভাবে অবসরকালীন কৃষি হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা এবং কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছাদকৃষি বাহারি বা আলংকারিক উদ্ভিদ দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফল এবং শাকসবজি চাষে পরিণত হয়েছে। ছাদকৃষির সুবিধাগুলো হচ্ছে ছাদের সঠিক ব্যবহার, ছাদের আয়ু বৃদ্ধি, ক্লান্তিকর জীবনযাত্রা থেকে মুক্তি, জীববৈচিত্র্যের প্রচার, শব্দের মাত্রা হ্রাস, তাপ সুরক্ষা, খরচ সাশ্রয়, সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করা, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ধুলো এবং ধোঁয়ার মাত্রা হ্রাস করা। বর্তমানে সরকার, জনগণ, এনজিও এবং মিডিয়া ছাদ বাগানের প্রচার এবং সমর্থন করছে।

বিনোদন কৃষি ব্যবসায়িক সুযোগকে সম্প্রসারিত করে অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে, যেমন পর্যটন খাত সম্প্রসারণ করে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মেলা এবং সম্মেলন আয়োজনে সহায়তা করে, গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক স্মারক এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা/প্রদর্শনীর মাধ্যমে সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে/ব্যবসা বৃদ্ধি করে, ছোট-বড় স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আশপাশের পরিবেশ (স্যানিটারি সুবিধা, হাঁটার পথ, হোটেল ইত্যাদি) উন্নত করে।

কৃষি পর্যটনে খামার এবং খামার সম্পর্কিত বিস্তৃত ক্রিয়াকলাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: বহিরাঙ্গন বিনোদন (মাছ ধরা, শিকার, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অধ্যয়ন, ঘোড়ায় চড়া), শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা (খামার ভ্রমণ, রান্নার ক্লাস, কৃষি জাদুঘর), বিনোদন (ফসল কর্তন উৎসব, শস্যাগার নৃত্য, “পোষা প্রাণী" খামার), আতিথেয়তা পরিষেবা (রাত্রিতে খামারযাপন, আনন্দভ্রমণ) এবং খামারে সরাসরি বিক্রয় (নিজের পছন্দের, টাটকা/অক্ষত সামগ্রী, রাস্তার পাশের স্ট্যান্ড, কৃষকদের ছোট ছোট বাজারে বিক্রি)।

কৃষি পর্যটন বিভিন্ন কারণে তাদের খামার আয় বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক খামার মালিকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। কৃষি পর্যটন কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করে। দ্বিতীয়ত, কৃষি পর্যটন সম্পদ এবং মূলধনের বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করতে পারে এবং এর ফলে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। তৃতীয়ত, এটি কৃষকের আয় প্রবাহকে বৈচিত্র্যময় করে এবং আবহাওয়া, দাম এবং সরকারি নীতির পরিবর্তনশীলতার কারণে উদ্ভূত আয়ের ওঠানামা থেকে কৃষকদের রক্ষা করে।

এছাড়া দর্শনার্থীরা কম খরচে কাছাকাছি কৃষিপণ্যসহ পণ্য ও পরিষেবা কিনতে পারেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করে। কৃষি পর্যটন কৃষকদের কৃষিজমি এবং সম্পর্কিত প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা, যেমন বন, স্রোত ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রদান করতে পারে, যা দ্রুত নগরায়ণকারী শহরতলির এবং বহির্মুখী এলাকায় জীবনযাত্রার মানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এটি আশপাশের জমির মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে, যা স্থানীয় স্কুল এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বৃদ্ধি করতে পারে। (আগামীবারে সমাপ্য)

সিকদার আনোয়ার: কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব