হাঙরকে আমরা চিনি নীরব শিকারি হিসেবে। কোনো স্বরযন্ত্র না থাকায়, তাদের জগৎ ছিল শব্দহীন। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় এ ধারণায় বড়সড় এক ধাক্কা লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের উপকূলের রিগ হাঙ্গর নাকি বেলুন ফাটানোর মতো শব্দ করতে পারে!
গবেষকরা প্রথমবারের মতো এ হাঙরের শব্দ করার প্রমাণ পেয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের গবেষক ক্যারোলিন নিডার ২০২১ সালে হাঙ্গর নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এক অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেয়েছেন। সেই কৌতূহল থেকেই এ আবিষ্কার। ১০টি রিগ হাঙ্গরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই শব্দ তৈরি করছে।
তাদের শরীরে বিশেষ কোনো স্বরযন্ত্র না থাকলেও, গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, শক্ত ও ধারালো দাঁত দিয়েই তারা এ শব্দ তৈরি করে। কাঁকড়া বা শামুকের মতো শক্ত খাবার ভাঙার কাজে লাগে এই দাঁত। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ক্লিকের গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০ বার এবং এর তীব্রতা ১৫৬ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, হয়তো বিপদের আভাস দিতে বা আত্মরক্ষার তাগিদে এ শব্দ করে তারা। ট্যাঙ্কে স্থানান্তরের সময় হাঙ্গরগুলো সবচেয়ে বেশি শব্দ করে, যা তাদের মানসিক অবস্থার সঙ্গেও জড়িত হতে পারে।
পৃথিবীতে ৫০০ এর বেশি প্রজাতির হাঙ্গর রয়েছে। অন্যান্য হাঙ্গরও কি এমন শব্দ তৈরি করতে পারে, তা যদিও এখনো অজানা। তবে গবেষকদের বিশ্বাস, এ আবিষ্কার হাঙ্গরদের জীবনযাত্রা ও আচরণ সম্পর্কে আরো অনেক অজানা তথ্য উন্মোচন করবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য গবেষণার পথ দেখাবে। যেন নীরব সমুদ্রের গভীরেও লুকিয়ে আছে আরো কত সুর, যা আমরা শুনিনি আগে!
—সিএনএন










