বিশ্বের মোট জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে এই শতকের শেষ দিকে তা দাঁড়াবে ১১শ কোটির কাছাকাছি। বাড়তি এই জনগোষ্ঠীর জন্য আরো ৬১ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি খাদ্যের প্রয়োজন হবে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। একই গবেষণা এও বলছে যে, ক্রমেই মানুষের ওজন ও উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য প্রতিটি মানুষের বাড়তি ক্যালরি প্রয়োজন হবে। তা পূরণ করতে গেলে আরো ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি খাদ্যের প্রয়োজন পড়বে। সবমিলিয়ে এই ধাক্কা সামলে উঠতে সবমিলিয়ে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ বেশি খাবার প্রয়োজন হবে।
জার্মানির গোটিংয়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষক লুৎজ ডিপেনবাস ও স্টিফান ক্লাসেনের যৌথভাবে করা ওই গবেষণা প্লস ওয়ান নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদ্বয় সতর্ক করে বলেছেন, বাড়তি খাদ্যের এই চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে বিশ্বকে আরও বড় ধরনের অসাম্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
২০১০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭০০ কোটি; ২১০০ সাল নাগাদ এটি এক হাজার ১০০ কোটির কাছাকাছি গিয়ে ঠেকবে বলে ধারণা দিয়েছে জাতিসংঘ। এ ধারণাকে নিয়েই হিসাব কষেছেন গবেষকদ্বয়। তারা বলছেন, মানুষের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ও উচ্চতার গড় বৃদ্ধির অনুমান থেকে আমরা ধারণা করছি, ২০১০ সালে জনপ্রতি মানুষের দৈনন্দিন যে শক্তির প্রয়োজন হতো, ২১০০ সাল নাগাদ তার তুলনায় ২৫৩ কিলোক্যালরি বেশি শক্তি লাগবে।
গবেষক দলটির একজন সদস্য লুৎজ ডিপেনবাস; তিনি আবার ওয়ার্ল্ড ভেজিটেবল সেন্টারেরও সদস্য। তিনি বলছেন, অতিরিক্ত এই ক্যালরির অভাব পূরণে প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি বড় বড় কলা কিংবা খানিকটা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে ক্যালরির এ অতিরিক্ত চাহিদা সাব-সাহারান আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোকে বিপদে ফেলতে পারে। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হারের তুলনায় অঞ্চলটিতে এখনই প্রয়োজনীয় ক্যালরির ঘাটতি আছে; ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়লে এবং বৈশ্বিক খাদ্য নীতি তা পূরণে ব্যর্থ হলে খাদ্য ও অর্থনৈতিক অসাম্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলেও গবেষকরা হুঁশিয়ার করেছেন।










