জেনেরেশন ওয়াই বা মিলেনিয়ালরা এখন বেবি বুমার্সদের ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এর পরের আলোচিত প্রজন্ম জেনারেশন জেড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে এই প্রজন্ম। তাদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭ কোটি ৮০ লাখে। 

১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা প্রজন্মটিই হলো জেনারেশন জেড। আর বেবি বুমার্সরা হলো ১৯৪৬-১৯৬৪ সালে জন্ম নেয়া প্রজন্ম। ১৯৮১-১৯৯৬ এ জন্মগ্রহণ করা প্রজন্ম মিলেনিয়াল।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ এর মধ্যেই দুনিয়ার বৃহত্তম ভোক্তা শ্রেণিতে পরিণত হবে জেনারেশন জেড। প্রত্যক্ষ ব্যয়ের খাতায় তাদের অবদান থাকবে ২৯ থেকে ১৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে এ প্রবণতা শুধু এ প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাসান্ড্রার এক জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশ বাবা-মা স্বীকার করেছেন, গৃহস্থালী খরচে ছেলে-মেয়েদের প্রভাব বাড়ছে। ফলে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাকে পরোক্ষভাবেও প্রভাবিত করবে জেনারেশন জেড।

তবে এই মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেডের সব বড় প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। কারণ অনুপাতের দিক থেকে এ জেনারেশনের হার সবচেয়ে বেশি থাকবে এদেশে। 

এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এ দুই প্রজন্ম মিলে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি, চাহিদা, মজুরি ও আবাসন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। তারা অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে জানিয়েছে নিউইয়ার্ক ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলি। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি১০- এ যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে এ প্রজন্মই। এ জোটের অন্য সদস্যরা হলো- (বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি জাপান, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। 

একটি দেশের শ্রমশক্তি বৃদ্ধি পেলে উৎপাদনশীলতা, আয় ও ভোক্তা ব্যয় বেড়ে যায়। বেবি বুমার্সরা এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়েক দশক ধরে এই প্রজন্মটি কর্ম ও উপার্জনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক তৎপরতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। 

মিলেনিয়ালরা এখন পুরোটাই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমশক্তিতে নিয়োজিত। জেনারেশন জেডের কেউ কেউ সবে কলেজের পাঠ চুকিয়ে কাজে নেমেছে। মরগান স্ট্যানলির মতে, এই দুই প্রজন্ম মিলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমশক্তিতে অভূতপূর্ব ঐক্যতান তৈরি হবে। তরুণ মিলেনিয়নরা ২০২১ সাল নাগাদ জীবনের মূল কর্মক্ষম সময়ে উপনীত হবে। আর জেনারেশন জেড ২০২২ থেকে ২০৩০ সালে শেষার্ধের মধ্যে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরাই পরে মার্কিন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

মরগান স্ট্যানলির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ এর মাঝামাঝিতে শুরু হবে ‘ইয়ুথ বুম’। ফলে জনমিতিতে অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। 

জেনারেশন জেডের তরুণরা মিলেনিয়ালদের চেয়ে শক্তিশালী চাকরি বাজার ও কম খরচে পড়াশোনার সুবিধা নিয়ে অধিক স্থিতিশীল অর্থনীতিতে পদার্পণ করবে। এই প্রজন্মটি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত খাত হিসেবে দেখবে। আর আগামী দশকে এই দুটি খাতই চাকরির বাজারের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে অবদান রাখবে। এছাড়া জেনারেশন জেড পূর্বসূরীদের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা প্রযুক্তির মধ্যেই বেড়ে ওঠে। এ প্রজন্মের ৬০ শতাংশ সদস্য ১৪ বছর বয়সের আগেই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শুরু করে। তবে শিক্ষা ও মূল্যবোধে জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়ালদের  মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই। 

ফোর্বস ও মরগান স্ট্যানলি অবলম্বনে মুরশিদা খানম মুন্নি