‘ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি, পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;

ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া, বিরহ-বালুতে খালিপায়ে’

রফিক আজাদের কবিতার এ দুইলাইনে খুঁজে পাওয়া যায় প্রেমময় হৃদয়ের উভয়সংকট। তবু এমন কোনো হৃদয় কি আছে যাকে ভালোবাসা আন্দোলিত করেনি? বোধ করি ভালোবাসার সঙ্গে এমন বাস্তবতা জড়িত বলেই এর প্রতীক হয়েছে লাল গোলাপ। যে লাল ভালোবাসার প্রতীক, সে লালই তো বিপদেরও আভাস দেয়। হয়ে ওঠে বিদ্রোহ-বিপ্লবের প্রতীক। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে লাল গোলাপ হয়ে উঠেছে সর্বজনের ভালোবাসার ভাষা। ভালোবাসা দিবসে মানুষ তাই তার প্রিয় মানুষের হাতে তুলে দেন লাল গোলাপ। প্রশ্ন জাগে, গোলাপ কীভাবে ভালোবাসার প্রতীক হলো। অবশ্য এর একমাত্রিক উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এ নিয়ে অনেক বচন রয়েছে।

কথিত আছে, ভালোবাসার প্রতীক হয়ে লাল গোলাপের প্রচলন হয়েছে গ্রিক লোককাহিনিতে। প্রাচীন গ্রীসে প্রেম, সৌন্দর্যের দেবী ছিলেন অ্যাফ্রোদিতি। রোমানরা তাকে ডাকতেন ভালোবাসার দেবী ভেনাস নামে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এক সাদা গোলাপের কাঁটার আঁচড়ে গ্রিক প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির শরীর থেকে রক্ত ঝরেছিল। সেই রক্তে রাঙা হয়েছিল সাদা গোলাপ। আবার প্রচলিত আছে, আফ্রোদিতির প্রেমিক অ্যাডোনিসের মৃত্যুর পর আফ্রোদিতি যেখানে অশ্রু বিসর্জন দেন, সেখানেই প্রথম লাল গোলাপের জন্ম। রোমানরা বিশ্বাস করতেন যে গোলাপ হল দেবী ভেনাসের ফুল।

এদিকে বলা হয়, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গির তার সম্রাজ্ঞী নুরজাহানকে খুশি রাখতে প্রতিদিন এক টন তাজা লাল গোলাপ দিতেন। আর রানি ভিক্টোরিয়ার যুগে প্রেমিক-প্রেমিকারা ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পরস্পরকে লাল গোলাপ উপহার দিতেন। উল্লেখ্য, ভালোবাসা প্রকাশে গোলাপ দেয়া-নেয়া ব্যাপকতা লাভ করে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে’। ভ্যালেন্টাইন দিবস নিয়েও নানা জনশ্রুতি রয়েছে। সে আলাপ গোলাপের কেচ্ছা থেকে দূরে নিয়ে যাবে বিধায় তা আপাতত উহ্য রাখাই শ্রেয়।

যেভাবেই ভালোবাসার প্রতীক হোক না কেন, গোলাপ আজ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্যে ভালোবাসার উপমা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবি শামসুর রাহমান একদা বলেছিলেন- ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এবার আমি গোলাপ নেব’।

কবির সুরেই বলতে হয়, পৃথিবীতে দ্বন্দ্ব সংঘাত লোপ পাক, সেখানে গোলাপ জায়গা করে নিবে এটিই প্রত্যাশা। ভালোবাসা দিবসে ঘর থেকে বেরোলে প্রায় সবার হাতে দেখা যায় লাল গোলাপ। প্রেম নিবেদনের এমন আবেদন যেন কখনো না ফুরায়। ভালোবাসা দিবসে সবাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।