হাওয়াইয়ের অনন্য আবহাওয়া পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্যকে রংধনু দেখার জন্য পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্থান করে তুলেছে। নিয়মিত রোদ, স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি ও পরিষ্কার বায়ুর সংমিশ্রণ রংধনু গঠনে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। সূর্যের আলো বায়ুতে থাকা বৃষ্টির ফোঁটার মাধ্যমে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে উজ্জ্বল এবং ঘনঘন রংধনু সৃষ্টি করে। এটি এতটাই সাধারণ দৃশ্য যে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক হাওয়াইকে ‘বিশ্বের রংধনুর রাজধানী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ, হাওয়াইয়ে রংধনু এত বেশি ও সুন্দরভাবে দেখা যায় যে বিশ্বের অন্য কোনো স্থান এ বিস্ময়কর দৃশ্যের সঙ্গে অতুলনীয়।
দ্বীপ রাজ্যটিতে বর্তমানে শীত-বর্ষার মৌসুম চলছে। তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে সেখানে আরো বেশি রংধনুর দেখা মিলছে। হাওয়াইয়ে রংধনু এত বেশি দেখা যায় যে এটি দ্বীপের জীবনযাত্রায় একটি পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। মানুষ ভবন, গণপরিবহন, এমনকি গাড়ির নম্বর প্লেটেও হরহামেশা রংধনু এঁকে থাকেন। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার দলগুলোর নামও রংধনুর নামে রাখা হয়েছে।

হাওয়াইয়ের কামুয়েলা শহরের একটি বাজার থেকে রংধনুর দৃশ্য ছবি: এপি
হাওয়াইয়ের হনলুলু শহরে অবস্থিত চিলড্রেনস ডিসকভারি সেন্টার। এর বাইরের দেয়াল ও শিক্ষণ কক্ষগুলোয় রংধনুর ছবি আঁকা আছে। সেন্টারটির প্রেসিডেন্ট লিয়ান উশার বলেন, ‘আমার জন্য রংধনু সত্যিই আশা ও নতুন সূচনার প্রতীক। বৃষ্টির পরে যখনই আমি রংধনু দেখি আমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।’
সূর্যের আলো বৃষ্টির ফোঁটার ভেতর দিয়ে যখন দেখা হয় তখন নানা রঙের সৃষ্টি হয়। আর ঠিক সে সময় রংধনুর দেখা মেলে। এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় যখন একসঙ্গে রোদ ও বৃষ্টি থাকে এবং সূর্যের বিপরীতে অবস্থান করে। শীত-বর্ষা (অক্টোবর-এপ্রিল) মৌসুমে রংধনু আরো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কারণ এ সময় হাওয়াইয়ের বায়ু পরিষ্কার থাকে এবং ছোট ছোট বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে। রংধনু দ্বীপ রাজ্যটিতে এত বেশি দেখা যায় যে হাওয়াইয়ান ভাষায় এর জন্য প্রায় ২০টি ভিন্ন নাম রয়েছে।

হাওয়াইয়ের হনলুলু শহরের আকাশে রংধনু ছবি: এপি
হাওয়াইয়ান ঐতিহ্যে রংধনু ঈশ্বরীয় শক্তি ও পূর্বপুরুষদের উপস্থিতির প্রতীক। এটি দেবতা কানের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রাচীন কাহিনীগুলোয় এর উল্লেখ রয়েছে। রংধনু দ্বীপের পরিচিত প্রতীক, যা ভবন ও ক্রীড়া দলে ব্যবহাত হয়। ১৯২৪ সালে এক খেলায় রংধনু দেখার পর হাওয়াইয়ের দলগুলোর নাম ‘রংধনু’ রাখা হয়। ২০০০ সালে এটি বাদ দেয়া হলেও ২০১৩ সালে আবারো রাখা হয়।
অধ্যাপক কিম্বার্লি কার্লসন জলবায়ু পরিবর্তন রংধনুর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার মতে, ২১০০ সালের মধ্যে ব্রাজিল, ভূমধ্যসাগর ও মধ্য আফ্রিকায় রংধনু কমতে পারে। তবে আলাস্কার মতো বরফপ্রবণ এলাকায় এটি বাড়তে পারে। এ সময়ে হাওয়াইয়ে রংধনু থাকবে, তবে শুকনা এলাকায় কমতে পারে। —এপি অবলম্বনে










