সময়টা ১৯৩০ সালের দিকে। স্কটল্যান্ডের আইমাউথের রাস্তা ধরে স্কুলে যেত শিশু জিম দোগাল ও বেটি ডেভিডসন। ছোট্টবেলায় যেমনটা হয়, হাতে হাত রেখে ছুটোছুটি আর দুরন্তপনায় কাটত তাদের সময়। তবে সেই সোনালী দিনে ভাটা পড়ে ১৯৩৯ সালের দিকে। জিমকে পরিবারের সঙ্গে চলে আসতে হয় আইমাউথ থেকে। সেখানেই সব শেষ।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৮৫ বছর। প্রাণের দুই বন্ধুর মধ্যে হয়নি কোনো যোগাযোগ। নিজেদের জীবন-পরিবার সব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন দুজনই। তবে দীর্ঘ সময় পর তাদের আবার এক করেছেন জিম দোগালের ছেলে অ্যালিস্টার। ১৯৩৬ সালে তোলা বাবা ও ক্লাসমেটদের একটি ছবি তার হাতে আসে। সেখান থেকেই আবার সবাইকে এক করার উদ্যোগ নেন।

বুধবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইংল্যান্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ারে এক পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন অ্যালিস্টার। সেখানেই দেখা হয়ে জিম দোগাল ও বেটি ডেভিডসনের। অ্যালিস্টার বলেন, একে জাদুকরী মুহূর্ত বললেও হয়ত কম হবে।

এখন জিমের বয়স এখন ৯৬, থাকেন এসেক্সের রেনেতে। ১৯২৮ সালে স্কটল্যান্ডের আইমাউথে তার জন্ম। ছেড়ে আসার পর আর সেখানে যাওয়া হয়নি জিমের। জীবনের এক পর্যায়ে এসেক্সে এক আর্মি ক্যাম্পে জীবনসঙ্গী ইরিস জিবসকে খুঁজে পান। সেখান থেকেই শুরু করেন পরিবার জীবন।

এদিকে বেটির বয়সও জেমির মতোই। ১৯৫০ সালে জীবনসঙ্গী আইভর ডেভিডসনকে পান, ছাড়েন আইমাউথ। প্রথমে তারা টুইডমাউথ ও পরে সেখান থেকে নর্থ ইয়র্কশায়ারে যান তারা। সেখানে এখনো থাকেন বেটি।

গত বছর আইমাউথে গেলে ১৯৩৬ সালে তোলা বাবার স্কুলের একটি ছবি হাতে পড়ে অ্যালিস্টারের। তখন তার বাবার বয়স মাত্র ৮। ওই ছবিতে বাবা ও বেটিসহ মোট ৩২ জন ছিলেন।

সেখান থেকেই বাবার সেই পুরনো বন্ধুদের নিয়ে পুনর্মিলনীর চিন্তা করেন অ্যালিস্টার। এর জন্য সবার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন, বাবার বন্ধুদের অধিকাংশই মারা গেছেন। যারা আছেন তারাও এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছেন। কেউ আছে কানাডায়, কেউ অস্ট্রেলিয়ায়, কেউ নিউজিল্যান্ডে।

ফিচার ২

ছবি দেখে একে একে খুঁজে বের করতে শুরু করেন তাদের। প্রথমে সাড়া দেন মারগারেট। এরপরই বেটি। অ্যালিস্টার বলেন, পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও মনে হচ্ছিল বেটিকে নর্থ ইয়র্কশায়ারে খুঁজে পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত তাদের স্কুলের ছবিটা সেখানকার এক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে সাহায্য চাই। বেটির ভাতিজি মোরেন স্টিভেনসন এতে জবাব দেন, বলে এটা তার খালা, তিনি বেঁচে আছেন এবং নর্থ ইয়র্কশায়ারে আছেন।

এরপরই বেটিকে চিঠি পাঠান অ্যালিস্টার। সেটা পেয়ে তাকে কল করেছিলেন বেটি। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জানিয়েছিলেন এতো বছর পর ছোট্টবেলার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহের কথা। অন্যদিকে ছেলের কাছে বেটির খোঁজ পেয়ে একইভাবে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন জেমিও।

অবশেষে তাদের দেখা হয় ইংল্যান্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ারে। ছবির ৩২ জনের মধ্যে মাত্র তিনজনই সেখানে আসতে পেড়েছিলেন- মারগারেট, বেটি আর জিম। তিনজনই সেদিন ফিরে গিয়েছিলেন তাদের ছোটবেলায়। একজন আরেকজনের কাঁধে হাত রেখে ছবি তুলেছেন, আড্ডা দিয়েছেন,হাসি-তামাশা করেছেন যেমনটি করতেন ৮৫ বছর আগের কোনো এক বিকেলে।

১৯৩৬ সালে ছবিটি তোলার ৯০ বছর পর একটা গল্পের শেষ হলো পুনর্মিলনীর মধ্য দিয়ে।