কানাডার লেক প্যাট্রিসিয়ার অন্ধকার গভীরে লুকিয়ে আছে এক রহস্য। নিমগ্ন আছে এমন এক গোপন প্রকল্প যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারতো। জার্মানির ভয়ঙ্কর ইউ-বোট ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকার এক আজব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। তারা হিমশৈল (আইসবার্গ) দিয়ে বানিয়ে ফেলতে চেয়েছিল বিমানবাহী জাহাজ। এর পক্ষে যুক্তি ছিল, উত্তর মেরু অঞ্চলে হিমশৈলের অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে যা বিনা খরচে পাওয়া যাবে। আর এসব হিমশৈল কখনো ডুববে না। ব্রিটেনের খেপাটে আইডিয়াবাজদের এমন পরিকল্পনা তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল অনুমোদনও করেছিলেন।
চার মাস অমানুষিক পরিশ্রম করে ব্রিটিশ যুদ্ধ বিশারদ ও প্রকৌশলীরা লেক প্যাট্রিসিয়াতে হিমশৈলের বিমানবাহী জাহাজের একটি প্রোটোটাইপ (নমুনা) বানিয়েও ফেলেছিলেন। এর একটি অংশ ওই হ্রদের ৫০ ফুট গভীরে এখনো রয়ে গেছে। সেই বরফের বিশাল চাঁই এতোদিন গলে গেছে তবে তথাকথিত ‘প্রজেক্ট হাব্বাকুক’ যেন এখনো জীবন্ত!
আজব প্রকল্পটি যার মাথায় এসেছিল তিনিও এক খেপাটে বিজ্ঞানী, নাম জিওফ্রে পাইক। ১৯৪২ সালের কোনো একদিন ব্রিটিশ ওয়ার অফিসের একটি শাখায় তিনি জার্মানির ইউ-বোট ঠেকানোর কৌশল নিয়ে ভাবছিলেন। তখন আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় নাৎসী বাহিনীর সাবমেরিনগুলো মিত্রশক্তির যুদ্ধবিমানগুলোর পাল্লার বাইরে ছিল। ফলে ওই এলাকা সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেয় হিটলার বাহিনী। যুদ্ধ জর্জরিত ইউরোপে তখন অন্যান্য উপাদানের মধ্যে ইস্পাতেরও সংকট দেখা দেয়। ফলে নতুন করে কোনো জাহাজ বানানোর চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয়েছিল। পাইক ভাবলেন, উত্তরমেরু থেকে বড় বড় বরফের চাঁই নিয়ে জোড়া দিয়ে সেগুলো দক্ষিণে মোতায়েন করলে কেমন হয়! হিমশৈল দিয়ে সাগরের উপর যে প্রশস্ত একটি সমতল পাওয়া যাবে সেখানেই অবতরণ করবে মিত্রশক্তির যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ হিমশৈল হবে বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ।










