বয়স ত্রিশের কোঠায় উঠলে আমাদের স্বপ্ন কী থাকে? স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান নিয়ে সুন্দর একটা সংসার হবে। তাইওয়ানের যুব সমাজ অবশ্য তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি থেকে নিজেদের বের করে এনেছেন। স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান নয় পোষাপ্রাণি নিয়েই তারা জীবন কাটিয়ে দিতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ছয় বছর আগে, ভলকন কে নামের এক যুবক তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই শহরের একটি পোষাপ্রাণির দোকানে অপ্রত্যাশিতভাবে পৌঁছে যান। ভলকনের বন্ধু তাকে দোকানটি দেখভালের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ট্যান এবং সাদা কর্গির কুকুরছানা একবার তাকে আঘাত করায় তিনি তেমন সাহস পাচ্ছিলেন না।
ভলকন কখনোই ভাবেননি তিনি কুকুরের মালিক হবে। তবে তিন মাস পরে, তিনি আবার ওই দোকানে যান এবং একটি পোষা কুকুর নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। কুকুরটির নাম রাখেন ‘বাটার’। ৩৩ বছর বয়সী ভলকনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে বাটার। সম্প্রতি তিনি তাইওয়ানের রাজধানীর একটি পোষ্য-বান্ধব এলাকায় তার কুকুরের জন্য একটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট নিয়েছেন। বাটার যখন ভলকনেরর ভবিষ্যতের পরিকল্পনার বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন বিয়ে করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সংসারের স্বপ্ন তার কাছে অনেকটাই ধূসর।
তাইপেই শহরে বেশ কিছু পোষ্য ক্যাফে রয়েছে। একদিন বাটারকে সাথে নিয়ে ক্যাফেতে চা খেতে খেতে কে বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখতাম আমার নিজের একটা বাড়ি থাকবে এবং কারও সাথে সেই বাড়িতে থাকবো। এখন আমি নিজের কুকুর নিয়ে থাকতেই পছন্দ করি, তদানিন্তন পরিবার চাই না। আমি চিরাচরিত চীনা সংস্কৃতি মোটেও পছন্দ করি না।’
ভলকনের বাবা মা তাইওয়ানের একটি গ্রামে থাকেন। ছেলের এমন সিদ্ধান্তে তারা বেশ চিন্তিত। ভলকন অবশ্য বলছেন, ‘আমার বাবা মা প্রত্যন্ত একটি অঞ্চলে বাস করেন। আমি কী ভাবছি তা তারা বুঝতে পারে না, তবে আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে তারা আমার কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।’










