মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণের খোঁজে বিজ্ঞানীরা নতুন সম্ভাবনার সন্ধান পেয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় সাতটি নক্ষত্রের অদ্ভুত তাপ বিকিরণ চিহ্নিত হয়েছে, যা উন্নত সভ্যতার তৈরি ডাইসন স্ফিয়ারের সম্ভাব্য প্রমাণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৬০ সালে প্রখ্যাত পদার্থবিদ ফ্রিম্যান ডাইসন প্রথম ডাইসন স্ফিয়ারের ধারণা দেন। তিনি বলেন, একটি উন্নত সভ্যতা তার মূল নক্ষত্রকে ঘিরে আয়না বা সৌর প্যানেলের মতো অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, যা সেই নক্ষত্রের সম্পূর্ণ শক্তি ধারণ করবে। এ ধরনের অবকাঠামো থেকে নির্গত তাপ বিকিরণ শনাক্ত করে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।
ডাইসনের মতে, এটি কেবল তাত্ত্বিক ধারণা হলেও মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণের খোঁজে নতুন পথ উন্মুক্ত করেছে। এছাড়া এই অনুসন্ধান মহাজাগতিক নতুন ঘটনারও সন্ধান দিতে পারে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় প্রায় ৫০ লক্ষ নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে সাতটি নক্ষত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর তাপ বিকিরণ ডাইসন স্ফিয়ারের প্রমাণ হতে পারে। গবেষক দলের প্রধান মাতিয়াস সুয়াজো জানান, এসব নক্ষত্রের বিকিরণ মডেল ডাইসন স্ফিয়ারের ধারণার সঙ্গে মেলে। তবে এটি নিশ্চিত করতে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব তাপ বিকিরণের অন্য ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। যেমন— গ্যালাক্সির পটভূমি বা গ্রহের সংঘর্ষ থেকে সৃষ্ট ধুলো কণা থেকেও এই তাপ বিকিরণ সৃষ্টি হতে পারে।
এ ধরনের গবেষণায় নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন। তবে টেলিস্কোপ ব্যবহারের অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডাইসন স্ফিয়ার থাকলেও তা যথেষ্ট বিরল। এটি তৈরি করতে বিপুল কাঁচামাল ও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন, যা বর্তমান মানব সভ্যতার জন্য একরকম অসম্ভবই বটে।
গবেষক জেসন রাইট বলেন, গবেষণাটি প্রমাণ করে যে ডাইসন স্ফিয়ার সম্ভব হলেও তা খুবই বিরল। তবে চিহ্নিত সাতটি নক্ষত্রের তাপ বিকিরণ অবশ্যই আরো গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
ফ্রিম্যান ডাইসনের তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের মহাজাগতিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সাহায্য করছে। তার মতে, আমাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ নতুন কিছু আবিষ্কারের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।
—সিএনএন










