নিউজিল্যান্ডের একটি সামাজিক ব্যবসা সংগঠনের নাম ‘মেক গিভ লাইভ’। এ গ্রুপের সদস্যরা মূলত বয়স্ক নারী। নানা ধরনের মানসিক বিকার বা চাপ ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে তারা উল বোনেন। তাদের হাতে তৈরি সেই টুপি বেশ বিক্রিও হয়। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশের পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছে এ সংগঠন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের হাতে বোনা উলের টুপির অর্ডার সারা মাসের মোট অর্ডারকেও ছাড়িয়ে গেছে। গ্রুপের ১২০ সদস্য হঠাৎ করে এতো অর্ডার সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

মেক গিভ লাইভ সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেকি স্মিথ বিবিসিকে জানান, ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। ছবিতে ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ছোট্ট আর্চিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বাপ-ছেলের মাথায় পরা উলের টুপি। ছবিটি দেখে মেক গিভ লাইভের এক সমস্য প্রথম তাকে বিষয়টি জানান। 

বেকি বলেন, আমাদের ধারণাতেই ছিল না এমন কিছু ঘটবে। রাজ পরিবারের কেউ তাদের পণ্য ব্যবহার করবে এমনটি তারা কখনো ভাবেননি। তাছাড়া সেটি যে ব্যবসায় এমন প্রভাব ফেলবে এটি তারা চাননি। তারা চেয়েছিলেন এ উদ্যোগের মূল বার্তাটি যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। 

বেকির ধারণা, ২০১৮ সালে মেগান মার্কেল যখন নিউজিল্যান্ড সফরে এসেছিলেন তখন হয়তো বাচ্চাদের একটি টুপি তাকে উপহার দেয়া হয়েছিল। অবশ্য পরে বেকি জানতে পারেন, মেগান আরো দুটি টুপি কিনেছিলেন। ইনস্টাগ্রামের ছবিতে আর্চির টুপিটি তারই একটি হবে হয়তো।

মেক গিভ লাইভ সাধারণত মাসে ৪৫টি টুপি বিক্রি করে। কিন্তু ১ জানুয়ারির পর গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫০টি অর্ডার পেয়ে গেছে। ফলে অর্ডার করা টুপি হাতে পেতে ক্রেতাকে বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সামাজিক ব্যবসা সংগঠনটির ১১টি বুনন গ্রুপ রয়েছে। তারা নিয়মিত কোনো ক্যাফে, লাইব্রেরি বা কমিউনিটি হাবে জড়ো হয় এবং টুপি বোনে। টুপি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রুপেরই কোনো সমস্যাগ্রস্ত সদস্যকে দিয়ে দেয়া হয়।  সূত্র: বিবিসি