প্রবাল সাধারণত স্থির থাকে। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রবাল প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন, যারা জেলিফিশের মতো নীল আলোর দিকে হাঁটতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা প্রবালের আচরণ নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল গবেষক ‘সাইক্লোসেরিস সাইক্লোলাইটিস’ নামের এক বিশেষ প্রবাল প্রজাতির মধ্যে এই অদ্ভুত আচরণ লক্ষ্য করেছেন। অধিকাংশ প্রবালই সবসময় কোনো কিছুর সাথে স্থায়ীভাবে লেগে থাকে। কিন্তু এই প্রজাতির প্রবাল পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর তাদের পা তৈরি হয়। তখন তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে।

এই প্রবালগুলো সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। কিছু গবেষণা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, তারা ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগরেও থাকতে পারে। শক্তিশালী ঢেউ ও স্থানস্বল্পতার কারণে ছোট প্রবালগুলো দ্রুত গভীর জলে চলে যেতে বাধ্য হয়। নতুন জায়গায় কম ঢেউ ও সূর্যের আলো পাওয়ার সুবিধায় তাদের বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধি সহজ হয়।

গবেষকরা ক্যার্নস উপকূল থেকে পাঁচটি প্রবাল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালান। দেখা যায়, প্রবালগুলোর নীল আলোর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। কিছু প্রবাল ২৪ ঘণ্টায় ২২০ মিলিমিটার পর্যন্ত হেঁটেছে। সাদা আলোর ক্ষেত্রে তাদের নড়াচড়া কম দেখা যায়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, সাইক্লোসেরিস সাইক্লোলাইটিস ‘পালসড ইনফ্লেশন’ পদ্ধতিতে চলে। এতে টিস্যু স্ফীতি, সংকোচন ও প্যাডের প্রসারণ একসঙ্গে কাজ করে। জেলিফিশও একই কৌশল ব্যবহার করে সাঁতার কাটে। তবে প্রবাল এটি হাঁটার জন্য ব্যবহার করে।

গবেষকরা ধারণা করছেন, জেলিফিশের মতো সাইক্লোসেরিস সাইক্লোলাইটিসেরও একই রকম স্নায়ু সিস্টেম রয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা অন্যান্য প্রবাল প্রজাতির মধ্যেও অনুরূপ নড়াচড়ার প্যাটার্ন সম্পর্কে কিছু সূত্র দিতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে সংরক্ষণ কৌশল উন্নয়নেও সাহায্য করতে পারে।

—সিএনএন