মহাকাশের গভীর থেকে ভেসে আসছে রহস্যময় রেডিও সংকেত। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে আসা এ রহস্যময় রেডিও পালস বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। নতুন এই রেডিও পালসের প্রকৃতি এতটাই ব্যতিক্রমী যে, এর আগে কখনোই এমন কিছু দেখা যায়নি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার নির্দিষ্ট সময় ধরে এই রেডিও পালস পাওয়া যায়। ৩০ থেকে ৯০ সেকেন্ড স্থায়ী এই সংকেত উরসা মেজর নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে আসছে। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা পালসগুলোর উৎস চিহ্নিত করতে পেরেছেন। এটি একটি মৃত নক্ষত্র বা শ্বেত বামন, যা একটি ছোট লাল বামন নক্ষত্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় আছে।

এর আগে, এই ধরনের দীর্ঘ রেডিও পালস শুধুমাত্র নিউট্রন নক্ষত্র থেকে আসতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার একেবারেই ভিন্ন ধরনের নক্ষত্র থেকে এই সংকেত ধরা পড়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. আইরিস ডি রুইটার বলেন, এই প্রথম আমরা নির্ধারণ করতে পেরেছি, কোন নক্ষত্র থেকে এই দীর্ঘ সময়ের রেডিও পালস নির্গত হচ্ছে। এটি আমাদের মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

গবেষকদের ধারণা, দুটি সম্ভাব্য কারণে এই সংকেত তৈরি হতে পারে। হয়তো শ্বেত বামন নক্ষত্রের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে, যা নিয়মিতভাবে পালস তৈরি করছে। অথবা লাল বামন ও শ্বেত বামনের চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া থেকেও এই সংকেত তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পালসগুলো একসময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরে আবার ফিরেও আসতে পারে। তাই তারা রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. কাস্তুভ রাজওয়াডে বলেন, আমরা আমাদের ডেটার মধ্যে আরো এমন রেডিও পালসের সন্ধান করছি। এটি মহাজাগতিক রহস্যের এক নতুন অধ্যায় হতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা আরো অনেক রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে।

—সিএনএন