ইসরায়েলের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।

এই চালানে মিসাইল, গোলা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি সম্ভব করার জন্য হাউস এবং সিনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পদত্যাগের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। গাজায় বেসামরিক নিহতের সংখ্যা নিয়ে সমালোচনার পরও ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সমর্থন বন্ধের আহ্বান ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলারের ফাইটার জেট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়। সর্বশেষ পরিকল্পিত চালানে রয়েছে এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, হেলফায়ার মিসাইল, আর্টিলারি শেল এবং বোমা।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে ইসরায়েলের নাগরিকদের রক্ষা করার এবং ইরান ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা প্রদান অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) মতে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইসরায়েলের বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্রের আমদানির ৬৯ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করেছে।

২০২৪ সালের মে মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ২ হাজার পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। কারণ সে সময় ইসরায়েল দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি বড় আকারের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু বাইডেন সামরিক সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হন।

অস্ত্র সহায়তার এই পরিকল্পনা বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গৃহীত অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি, যা বিদায়ী প্রেসিডেন্টের তার ঐতিহ্য রেখে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েল গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এতে ৪৫ হাজার ৫৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।