মার্কিন সেনেট ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করার জন্য মার্কিন সিনেটে তোলা হয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তার চালান ইসরায়েল বাধাগ্রস্ত করছে বলে যারা দাবি করছেন, তাদের সমর্থন পেয়েছে এই প্রস্তাব। সিনেটে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে আইন পাসের জন্য ভোট হতে যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোট বাধা স্বাধীন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স অস্ত্র পাঠানোয় অস্বীকৃতির এই প্রস্তাব পেশ করেছেন। ইসরায়েলের জন্য শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন থাকায় প্রস্তাবগুলো পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সমর্থকরা আশা করছেন যে, প্রস্তাবগুলো ইসরায়েলি সরকার এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে গাজায় বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।

গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই এখন বাস্তুচ্যুত। দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে অঞ্চলটি। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের ১৩ মাসের আক্রমণে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৩ হাজার ৯২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলি এবং পিটার ওয়েলচের যৌথভাবে উত্থাপিত দুটি প্রস্তাবে ১২০ মিমি মর্টার রাউন্ড এবং সরাসরি আক্রমণের গোলাবারুদ (জেডিএএমএস) বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজের উত্থাপিত তৃতীয় প্রস্তাবে ট্যাঙ্ক ও গোলাবারুদ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা রয়েছে।

bernie sanders

বার্নি স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেন, এই যুদ্ধ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমেরিকান অস্ত্র এবং মার্কিন করদাতাদের দেয়া ১৮ বিলিয়ন ডলার দিয়ে পরিচালিত হয়েছে। ইসরায়েল মার্কিন সরবরাহকৃত ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফেলেছে। কয়েকজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করতে গিয়ে শত শত বেসামরিককে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করার খুব কম চেষ্টাই করেছে। এসব কর্মকাণ্ড অনৈতিক এবং অবৈধ।

বাইডেন প্রশাসন অক্টোবর মাসে ইসরায়েলকে জানায় যে, গাজায় সহায়তার প্রবাহ বাড়ানোর জন্য তাদের ৩০ দিন সময় রয়েছে, অন্যথায় মার্কিন সামরিক সহায়তা আগের মতো থাকবে না।

এই সময়সীমার পর ওয়াশিংটন গত ১২ নভেম্বর জানায় যে, ইসরায়েল সহায়তা পৌঁছানোর ব্যাপারে অগ্রগতি করেছে এবং বর্তমানে গাজায় সহায়তা বাধাগ্রস্ত করছে না। তবে ওয়াশিংটনের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারেনি অনেকগুলো সহায়তা সংস্থা।