মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম পূর্ণ মন্ত্রিসভা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আকার ছোট করার পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য না হয়েও প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। মাস্ক দাবি করেন, বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট না হলে দেশটি ‘দেউলিয়া’ হয়ে যাবে। তবে তিনি এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বৈঠকে ক্যাবিনেটের সেক্রেটারিদের অংশগ্রহণ ছিল কম। পরিবর্তে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মাস্কের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের ব্যয় সংকোচন কার্যক্রম। তিনি নিজের ভূমিকাকে ‘সরকারি প্রযুক্তি সহায়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, সকল সরকারি সংস্থাকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) প্রধান লি জেলডিন ঘোষণা করেছেন, তিনি সংস্থার ৬৫ শতাংশ কর্মী কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
তবে মোট কতজন সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি মাস্ক। তিনি শুধু বলেন, যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের রাখা হবে।
দৈনিক ৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বৈঠকে। ট্রাম্প প্রশাসনে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডজ) নেতৃত্বে থাকা ইলন মাস্ক জানান, তারা ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। যদিও তিনি নির্বাচনী প্রচারের সময় ২ ট্রিলিয়ন ডলার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মাস্ক বলেন, আমাদের প্রতিদিন ৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে হবে, নইলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে না।
সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের কাছে একটি ইমেইল পাঠান মাস্ক। সেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি অর্জনের কথা জানাতে বলা হয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কিছু সংস্থার প্রধানরা কর্মচারীদের এই আলোচিত-সমালোচিত নির্দেশনা উপেক্ষা করতে বলেন।
এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে মাস্ক বলেন, এটি পারফরম্যান্স মূল্যায়ন নয়, বরং ভুয়া কর্মচারী খুঁজে বের করার চেষ্টা। তিনি জানান, কর্মীরা এখন থেকে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন যে, তারা গোপনীয় প্রকল্পে কাজ করছেন।
বৈঠকে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছে আমেরিকাকে ঠকানোর জন্য। বিশেষ করে ইউরোপীয় গাড়ি আমদানির ওপর শুল্ক বসানো হবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপের সময়সীমা ৪ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প আবারও বলেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য করা উচিত।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জাতীয় ঋণ ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করেন। যদিও ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বৈঠকে তিনি আবারো দাবি করেন যে, ইউক্রেনে দেয়া সহায়তার টাকা ইউরোপ ফেরত দেবে। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সম্প্রতি ওভাল অফিসে সাক্ষাৎকালে এই দাবিকে ভুল বলেছেন।
এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে বাজেট কমানো ও আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পথে আগাচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ইলন মাস্ক।









