জিমি কার্টার এবং জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির মধ্যে ৪০ বছরের বেশি ব্যবধান। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট কার্টার হয়েছিলেন, তা বর্তমান হোয়াইট হাউসের বাসিন্দার জন্যও খুবই পরিচিত মনে হওয়ার কথা। খবর বিবিসি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়তে হয়েছে কার্টারকে। ইরানের বন্দি সংকটের সময় তা করুণভাবে স্পষ্ট হয়েছিল। সে সময় তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ১২ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দি করে রাখা হয়।

এই অসহায়ত্বের অনুভূতি ১৯৮০ সালে কার্টারের বিরুদ্ধে রোনাল্ড রিগ্যানের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিল এবং অবশেষে কার্টার হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই বন্দিদের মুক্তি দেয়া হয়।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের বিশৃঙ্খল সময়ে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার একই ধরনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বাইডেন। শেষ পর্যন্ত দুই দশকব্যাপী আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতি গঠনের ব্যর্থ প্রকল্পের পর্দা নামিয়ে দেয় সেনা প্রত্যাহার।

আর সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকানরা একটি চীনা নজরদারি বেলুনকে উত্তর আমেরিকার আকাশের উপর দিয়ে ভেসে যেতে দেখেছে— যা সমালোচকদের মতে, নিজেদের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতার দৃশ্যমান প্রতীক।

কার্টার এবং বাইডেন উভয়কেই দাঁড়াতে হয়েছে বৈশ্বিক শক্তির আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সামনে। সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণে অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোয় সমালোচিত হয়েছিলেন কার্টার। মার্কিন ক্রীড়াবিদদের ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বর্জনের আদেশ দেয়ার জন্যও ব্যাপক নিন্দিত হয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাফল্য দেখিয়েছেন বাইডেন। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তা ও কার্যকারিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত আফগানিস্তানকে অস্থিতিশীলতার এক চুল্লিতে পরিণত করেছিল— যা শেষ পর্যন্ত আল-কায়েদা এবং বৈশ্বিক জিহাদের জন্ম দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব একই রকম অপ্রত্যাশিত এবং প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে— যার সমস্ত দোষ চাপানো হতে পারে বাইডেনের কাঁধে।