বলিউডের কাল্ট ক্ল্যাসিক সিনেমা ‘ডন’। সেলিম-জাভেদের চিত্রনাট্যে সিনেমাটি নির্মাণ করেন চন্দ্র বারোট। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় ডন। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ২০ জুলাই মারা গেছেন ডনের নির্মাতা চন্দ্র বারোট। তার স্ত্রী দীপা বারোট জানান, পালমোনারি ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, ফারহান আখতার ও কুনাল কোহলি। তারা চন্দ্র বারোটকে নিজেদের পরিবারের অংশ বলে মন্তব্য করেন। টাম্বলারে অমিতাভ লিখেছেন, ‘আবার আরেকটি দুঃখের মুহূর্ত। আমার সিনেমা ডনের পরিচালক চন্দ্র বারোট মারা গেছেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু তিনি ছিলেন পরিবারের সদস্যের মতো।’
এদিকে ফারহান আখতার (ডনকে নতুন করে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি) লিখেছেন, ‘আসল ডনের নির্মাতা চলে গেলেন। খুবই দুঃখ অনুভব করছি। তার পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি।’
এক সময় চন্দ্র বারোটকে অ্যাসিস্ট করেছিলেন নির্মাতা কুনাল কোহলি। তিনিও চন্দ্র বারোটের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বিনোদ খান্না অভিনীত বস নামের সিনেমাটি আলোর মুখ দেখেনি। সেসব স্মরণ করে কুনাল বলেছেন, ‘অসাধারণ মেধাবী ছিলেন তিনি। বলিউডের অন্যতম স্টাইলিশ সিনেমা উপহার দেয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ।’
ডনের মতো সিনেমা নির্মাণ করলেও এরপর তার ক্যারিয়ার এগোয়নি। ‘বস’ নামের সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। কলকাতায় একটি বাংলা সিনেমা নির্মাণ করেন, নাম ‘আশ্রিত’। এ-ই তার ক্যারিয়ার। একটা সময় তিনি মনোজ কুমারকে অ্যাসিস্ট করতেন। ‘পূর্ব অওর পশ্চিম’, ‘ইয়াদগার’, ‘শোর’ ও ‘রোটি কাপড়া অওর মাকান’ তার হাত ধরেই এসেছিল। এ সিনেমা হিট হওয়ার পেছনে অবদান ছিল মনোজ কুমারের।
ডনের কাছাকাছি সময়ে মুক্তি পেয়েছিল যশ চোপড়ার ‘ত্রিশুল’, শশী কাপুরের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’। প্রথম দিন ডনকে ফ্লপ তকমা দেয়া হয়। এক সাক্ষাৎকারে সে সময়ের কথা স্মরণ করেছিলেন চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালের ১২ মে মুক্তি পায় ডন। দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পেয়েছিল ত্রিশূল। আমাদের কাছে সিনেমার প্রচার করার মতো কোনো অর্থ ছিল না। কারণ প্রযোজক মারা যান ছয় মাস আগে। ওই সময় সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’, প্রকাশ মেহরার ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’ও মুক্তি পেয়েছিল। তাদের মধ্যে আমি ছিলাম একটা বামন।’
এ সময়ই মনোজ কুমারের একটি উপদেশ তাকে ও সিনেমাকে বাঁচিয়ে দেয়। মূলত সিনেমাটি দর্শককে না টানলেও সিনেমার ‘খাইকে পান বানারাসওয়ালা’ দর্শককে টেনেছিল। দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়েছিল বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘মনোজ কুমার আমাকে বলেছিলেন, সিনেমার দ্রুতগতির মধ্যে মানুষকে একটু শ্বাস নেয়ার সময় দেয়া দরকার ছিল। সেজন্য একটা গান রাখতে বলেছিলেন আমাকে। শেষ পর্যন্ত গানটাই সিনেমাকে বাঁচিয়ে দেয়।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










