বিশ্বমানের বেশকিছু কনসার্ট আয়োজন করেছে সিঙ্গাপুর। কনসার্টে দর্শক আকর্ষণের মাধ্যমে পর্যটন ও জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে দেশটির। কৌশলগত চুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এটিকে এশিয়ার শীর্ষ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
দুই বছরে সিঙ্গাপুর বৈশ্বিক কনসার্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী দেশটিতে ভিড় করছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক কনসার্টগুলো। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত টেইলর সুইফটের ‘এরাস ট্যুর’ এবং একই বছরের শেষে কোল্ডপ্লে কনসার্ট বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
টেইলর সুইফটের কনসার্ট থেকেই পর্যটন ব্যয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বাথ (সিঙ্গাপুরের মুদ্রা) পর্যন্ত বেড়েছে, যা ৪ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এ কনসার্ট উপলক্ষে বিদেশী দর্শনার্থীরা ইভেন্টে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে ভিড় করেছে। সেই সঙ্গে হোটেলে বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে লেডি গাগার ‘মেইহেম ট্যুর’ আরো এক ধাক্কায় হোটেল বুকিংকে ২০২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে তোলে। শুধু আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা অংশ নিয়েছেন।
সিঙ্গাপুরে এত বড় কনসার্ট আয়োজনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে বেশকিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে অন্যতম হলো একচেটিয়া আঞ্চলিক চুক্তি। উদাহরণস্বরূপ, টেইলর সুইফটের ২০২৪ সালের ‘এরাস ট্যুর’-এর জন্য সিঙ্গাপুর একমাত্র আসিয়ান দেশ হিসেবে একচেটিয়া স্বত্ব পেয়েছিল। ফলে মোট দর্শকের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল বিদেশী, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সিঙ্গাপুরের ‘গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট হাব’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা বিশ্বমানের ইভেন্টের গন্তব্য হিসেবে দেশটিকে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর ট্যুরিজম বোর্ড আন্তর্জাতিক শিল্পী ও ইভেন্টকে আকৃষ্ট করতে ফান্ডিং ও লজিস্টিক সেবা প্রদান করছে। তারা একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করেছে, যা বিদেশী ইভেন্ট সংগঠকদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করেছে।
বিশ্বমানের অবকাঠামোও সিঙ্গাপুরের সফলতার আরেকটি বড় কারণ। দেশটি ৫৫ হাজার আসনবিশিষ্ট ন্যাশনাল স্টেডিয়াম এবং ১২ হাজার আসনবিশিষ্ট ইনডোর এরিনা তৈরি করেছে, যেগুলো বিশেষভাবে বড় কনসার্ট আয়োজনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিলাসবহুল হোটেল ও চমৎকার পরিবহন ব্যবস্থা দর্শকের যাতায়াতকে সহজ করে তোলে।
সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে থাইল্যান্ড। দেশটিতে (থাইল্যান্ড) কনসার্টগুলো মূলত মুয়াং থং থানির ইমপ্যাক্ট এরিনায় অনুষ্ঠিত হতো। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ১৫ হাজার। বড় ইভেন্টগুলো রাজামাঙ্গালা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে হতো। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজার। তবে বর্তমানে থাইল্যান্ডের বেসরকারি খাত এ খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।
দুটি প্রধান প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো ইমপ্যাক্ট মুয়াং থং থানির নতুন মিক্সড-ইউজ ডেভেলপমেন্ট, যা মুয়াং থং থানির লেকের পাশে নির্মাণ হচ্ছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি বাথ মূল্যের দুটি নতুন হোটেল ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হোটেল ধারণক্ষমতা পাঁচ হাজার কক্ষেরও বেশি বাড়বে। প্রকল্পে আরো একটি নতুন শপিং মল ও ওয়াটার পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সূত্র : নেশন থাইল্যান্ড










