আগামী ১ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে ‘উড়াল’—একটি গল্প, যেখানে বন্ধুত্ব ও আবেগকে নতুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নতুন প্রজন্মের তিন অভিনেতা। তাদের একজন মাহাফুজ মুন্না। এ সিনেমায় অভিনয়, অভিজ্ঞতা ও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

উড়াল সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী মাসে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনজনের মধ্যে আপনিও আছেন। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ও আপনার চরিত্রটি নিয়ে যদি জানাতেন।

চলচ্চিত্র উড়াল আগামী ১ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে বলে শেষ করা যাবে না। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি এবং নতুনভাবে নিজেকে চিনতে পেরেছি। আমার চরিত্রটি নিয়ে আসলে সিনেমা রিলিজের আগে তেমন কিছু বলতে পারছি না।

এ চলচ্চিত্রে কাজের জন্য আপনাকে কীভাবে বাছাই করা হলো? অডিশনের প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল?

এ চলচ্চিত্রের জন্য একটা ওপেন অডিশন কল করা হয়েছিল। আমি অডিশনের মাধ্যমে এখানে প্রধান চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হই। অডিশনের প্রক্রিয়াটি খুবই দারুণ ছিল। যেহেতু পরিচালক ও প্রযোজক সবাই তরুণ, তাই তাদের অডিশন প্রক্রিয়াটাও ছিল একেবারে ভিন্ন ও চমৎকার।

উড়ালের গল্পে বন্ধুত্ব ও আবেগকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেটি আপনাকে কীভাবে স্পর্শ করেছে?

ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে অনেকটা সময় কেটেছে। সেই দুরন্তপনা, হৈ-হুল্লোড়, ছোটাছুটি, সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো—এসব ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। এ গল্পের বন্ধুত্ব ও আবেগ আমাকে সেই ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করিয়েছে।

একজন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা হিসেবে উড়াল আপনাকে কতটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে?

উড়াল আমাকে আমার শৈশব ও কৈশোরে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। স্মৃতি বা অতীত—যা-ই বলি না কেন, বর্তমানে বেঁচে থাকার জন্য এগুলো আত্মবিশ্বাসের ভরসা জোগায় এবং আমার সে ভরসার জায়গাটিকে পরিপূর্ণ করেছে।

এ সিনেমার মুক্তির জন্য আপনার কী প্রত্যাশা? দর্শককে কী বার্তা দিতে চান?

উড়াল সিনেমাটি মুক্তির জন্য আমার প্রত্যাশা অনেক। দর্শক সিনেমাটি পছন্দ করবেন, এটা আমার বিশ্বাস। দর্শকের ভালোবাসা প্রতিটি অভিনেতার জন্য খুবই প্রয়োজন। আমি আমার অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেতে চাই এবং তাদের মনে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিতে চাই।

আপনার অভিনয়ের যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল?

আমার অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল থিয়েটারের মাধ্যমে, বাংলাদেশের প্রথম সারির থিয়েটার দল আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে। যদিও স্কুলে থাকতে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করতাম, ছোট নাটিকা করতাম। আরণ্যকের সঙ্গে যাত্রা শুরু করার পর নিজেকে আরো গভীরভাবে বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছি এবং ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছি।

চলচ্চিত্র ও নাটকের বাইরে গায়ক হিসেবে আপনার কাজ নিয়ে যদি জানাতেন।

গানটা আমার ভালোবাসার আরেকটি জায়গা। ছোটবেলা থেকেই গান গুনগুন করে গাইতাম। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কখনো গান শেখা হয়নি। তাও এখন পর্যন্ত দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে নিজেকে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে তৈরি করতে চাই।

ভবিষ্যতে কী ধরনের চরিত্র বা সিনেমায় অভিনয় করতে আগ্রহী?

আমি একজন অভিনেতা, তাই অভিনয়টাই করতে চাই। ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন জনরার গল্প ও চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ আছে।