এক সপ্তাহ হলো মুক্তি পেয়েছে জেমস গানের ‘সুপারম্যান’। ৭ জুলাইয়ে একটি বিশেষ প্রিমিয়ার হয়েছিল। এদিন ডিসি স্টুডিওজের সহপ্রধান পিটার সাফরান মঞ্চে উঠে ধন্যবাদ জানান ডেভিড জাসলাভকে। তিনি ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারির প্রেসিডেন্ট ও সিইও। তিনি জাসলাভকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘জেমস ও আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে ডিসির নতুন যুগ শুরু করার সুযোগ দেয়ার জন্যও ধন্যবাদ।’
এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মাইকেল রোজেনবাউম। তিনি দীর্ঘদিনের টিভি সিরিজ ‘স্মলভিল’-এ লেক্স লুথর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছিলেন উইল রিভ। তিনি প্রয়াত ক্রিস্টোফার রিভের পুত্র এবং সে সূত্রে রিচার্ড ডোনার পরিচালিত সুপারম্যান সিনেমার উত্তরাধিকার বহন করছেন। তবে আয়োজনটি ছিল একটি দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক। এ ফ্র্যাঞ্চাইজি ৫৮টি সিনেমা দিয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। সে যাত্রা ও সাফল্যের সঙ্গী ছিলেন অনেকে। তবে ডিসি সম্প্রতি প্রায় এক যুগের বেশি সময় মার্ভেলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
কিন্তু ২০২২ সালে জেমস গান, পিটার সাফরানের সঙ্গে ডিসির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নতুন সুপারম্যান রচনার পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন। কিন্তু সিনেমাটি সত্যিই ডিসির নতুন দিন শুরু করেছে? ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নির্মিত সুপারম্যান এরই মধ্যে খরচ তুলে নিয়েছে। তাই বলাই যায়, সিনেমাটি সফল।
ডেভিড জাসলাভ ও পিটার সাফরান প্রথম সপ্তাহের মোট আয় জানার আগেই উদযাপন শুরু করেন। কিন্তু সিনেমাটি নিয়ে ভিন্ন মতও আছে। সুপারম্যান যুক্তরাষ্ট্রে ভালো আয় করলেও তার বাইরে আরো বেশি আয় করার কথা বা প্রয়োজন ছিল। এ নিয়ে এক্সিবিটর রিলেশনসের বক্স অফিস বিশ্লেষক জেফ বক বলেন, ‘গ্রীষ্মের অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার হওয়ার জন্য এবং পুরো ইউনিভার্স নতুন করে শুরু করার কথা বিবেচনায় সিনেমাটির প্রথম সপ্তাহে আরো বেশি দাপট দেখানো দরকার ছিল। অবশ্য পরবর্তী সপ্তাহগুলোই বক্স অফিসের প্রকৃত গল্প বলবে। অবশ্য শুরুটা ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রোসের জন্য কিছুটা হতাশাজনক বলেই ধরে নিতে হবে।’
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াল স্ট্রিট এ মুক্তিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। সুপারম্যানের মুক্তির পর ওয়ার্নার ব্রোসের শেয়ারমূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ১১ জুলাইয়ের শেষে যা ছিল ১১ দশমিক ৭৩ ডলার, তা ১৪ জুলাই দিন শেষে দাঁড়ায় ১২ দশমিক শূন্য ১ ডলারে। ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, ‘দেশীয় বাজারে সিনেমার পারফরম্যান্স খুবই প্রশংসনীয় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে যেহেতু মুক্তির আগে কিছুটা শঙ্কা ছিল।’ তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মহলে সিনেমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র হলেও সামগ্রিকভাবে সুপারম্যান সারা বিশ্ব থেকেই বেশ সাড়া পেয়েছে। জাসলাভের উদযাপন বিষয়ে অনেকে মনে করছেন, তাকে এতদিন সমালোচনা করা হয়েছে বলে সুপারম্যানের প্রাথমিক সাফল্য তিনি বড় করে উদযাপন করছেন।
সুপারম্যানের নির্মাণ খরচ ছিল ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া বিশ্বজুড়ে বিপণনে আরো ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খরুচে প্রচারণা কৌশল। যেমন ১ জুলাই লন্ডনের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘দ্য শার্ড’-এর চূড়ায় একটি সুপারম্যান মূর্তি ভেসে থাকার স্টান্ট করা হয়েছে। এক প্রতিদ্বন্দ্বী স্টুডিও নির্বাহী অনুমান করেছেন, শার্ডের এ স্টান্টের খরচই ছিল ১০ লাখ ডলারের মতো। সিনেমার নির্মাতাও বড় অংকের পারিশ্রমিক পেয়েছেন।
সাধারণত কোনো সিনেমার তারকারাই সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পান না। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ছিলেন পরিচালক জেমস গান নিজেই। তিনি ডেভিড ওয়েট (সুপারম্যান) ও র্যাচেল ব্রোসনাহানের (লুইস লেন) তুলনায় ২০ গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, ওয়েট ও ব্রোসনাহান প্রত্যেকে পেয়েছেন সাড়ে ৭ লাখ ডলার। বিপরীতে জেমস গান পেয়েছেন দেড় কোটি ডলার।
নিকোলাস হল্ট সিনেমায় প্রধান খলনায়ক লেক্স লুথার চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন ২০ লাখ ডলার। যদিও ওয়ার্নার ব্রোসের ওয়েট ও ব্রোসনাহানের সঙ্গে সিকুয়ালের জন্য চুক্তি রয়েছে, তবে আপাতত কোনো সিকুয়াল ঘোষণা আসার সম্ভাবনা নেই। বরং সূত্র বলছে, স্টুডিও এখন দ্রুত গতিতে একটি নতুন ওয়ান্ডার উইম্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ম্যাট রিভসের নতুন ব্যাটম্যান নিয়েও তারা উচ্ছ্বসিত। যদিও ওয়ার্নার ব্রোস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সুপারম্যান নিয়ে তারা কতটা এগিয়ে যাবেন, তাও নিশ্চিত নয়। যদি এগোনো না হয়, তবে কোরেন্সওয়েটের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সুপারম্যানও সংকটে পড়বে।
তবুও সব মিলিয়ে বলতে হয়, জ্যাক স্নাইডারের ম্যান অব স্টিলের তুলনায় গানের সুপারম্যান ভালো করেনি। স্নাইডারের সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল ২০ কোটি ডলার। মূল্যস্ফীতির হিসাবে আজকের দিনে তা ২৭ কোটি ডলারের সমান। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভালো আয় না করার বিষয়টি তো থাকছেই।
এর বাইরেও সিনেমাটিকে সফল প্রমাণ করতে দর্শককে হলমুখী রাখতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের আয় বলে দেবে সিনেমাটির সাফল্য। তবে সিনেমাস্কোরে এ মাইনাস পাওয়া সুপারম্যান ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’-এ এগিয়ে আছে। এ সিনেমায় গানের রাজনৈতিক বক্তব্যটি দর্শককে প্রভাবিত করেছে বলেও মনে করেন অনেকে। কিন্তু বিষয়টি তিনি কতটা স্পষ্ট করতে পেরেছেন আর দর্শক কতটা প্রভাবিত হয়েছে তা সময়ই বলে দেবে।
ভ্যারাইটি ও ডেডলাইনের প্রতিবেদন অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










