দেশীয় সিনেমার পাশাপাশি ভারতীয় বক্স অফিসে জমজমাট উপস্থিতি জানাচ্ছে হলিউড। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক আন্তর্জাতিক সিনেমা মুক্তি পেয়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোয় দর্শক টানছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষত ‘সুপারম্যান’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ’ এবং ‘এফ১: দ্য মুভি’—এ তিন সিনেমার বক্স অফিস সাফল্য বলছে, ভারতীয় দর্শকের মাঝে হলিউড সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়ছে।

কভিড-পরবর্তী সময়টায় ভারতে হলিউড সিনেমা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে ২০২৫ সালে এসে চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে।

মুক্তির পর প্রথম তিন দিনেই সুপারম্যান আয় করেছে ২৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সংযোজন, মাত্র ১২ দিনে আয় করেছে ৭৮ কোটি টাকা। গত ১৮ দিনে এফ১: দ্য মুভির ঘরোয়া সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭১ কোটি টাকায়। সর্বশেষ মে মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মিশন ইম্পসিবল: দ্য ফাইনাল রেকনিং’ ভারতে আয় করেছে ১১৫ কোটি রুপি, যা বছরের অন্যতম সফল হলিউড সিনেমা হিসেবে বিবেচিত।

এ প্রসঙ্গে সিনেমা বিশ্লেষক তারান আদর্শ বলেন, এটা নিঃসন্দেহে হলিউডের হ্যাটট্রিক সাফল্য। এফ১: দ্য মুভি, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ ও সুপারম্যান—এ তিন সিনেমা একের পর এক ভারতীয় বক্স অফিস দখলে নিচ্ছে। বলিউড সিনেমার পাশাপাশি হলিউড কনটেন্টও এখন দর্শকের বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

শুধু চেনা ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, বিস্ময় জাগিয়েছে নতুন ধরনের গল্পনির্ভর সিনেমার সাফল্যও। এফ১: দ্য মুভি কিংবা ফাইনাল ডেস্টিনেশন: ব্লাডলাইনস—এ সিনেমাগুলোও দর্শক টেনেছে গল্প ও নির্মাণগুণে। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রযোজক ও চলচ্চিত্র বিশ্লেষক গিরীশ জোহর বলেন, ‘ভারতীয় দর্শক এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং বেছে বেছে সিনেমা দেখছেন। কভিডের পর মানুষ সাধারণত বড় বাজেটের ‘‘টেন্টপোল’’ ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যেত। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গল্প যদি ভালো হয় এবং সিনেমার নির্মাণ যদি মানসম্পন্ন হয় তাহলে সেটি ভাষা-সীমানা ছাড়িয়ে সাড়া ফেলে। এ পরিবর্তন আমাদের শিল্পের জন্য ইতিবাচক।’

এদিকে দেশীয় মাল্টিপ্লেক্স চেইনগুলোর জন্যও বিষয়টি ভালো খবর। পিভিআর-আইনক্স লিমিটেডের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও কৌশলপ্রধান কামাল জিয়ানচান্দানি বলেন, হলিউডের প্রত্যাবর্তন দর্শক ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টিকিট বিক্রির পরিমাণ, দর্শকের অংশগ্রহণ—সবকিছুতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সুপারম্যান, এফ১ ও জুরাসিক ওয়াল্ডের মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা একের পর এক মুক্তি পাওয়ায় হলগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। এতে আবারো প্রমাণিত হলো, হলে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।

অরম্যাক্স মিডিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে—এ পাঁচ মাসে ভারতে মোট বক্স অফিস আয়ের ৮ শতাংশ এসেছে হলিউড সিনেমার দখলে।

সূত্র ও ছবি: বিজনেসলাইন