আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত সিনেমাটি ঘিরে দর্শক চাহিদা তুঙ্গে। সর্বোচ্চ শো নিয়ে সিনেপ্লেক্সে দমের বেশির ভাগ শোই যাচ্ছে হাউজফুল! ক্রমেই বাড়ছে শো।

এমন সময় স্বস্তির খবরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। দর্শক চাহিদার কারণে ঈদুল ফিতরের প্রথম সিনেমা হিসেবে এর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে সিনেমাটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রদর্শন শুরু হয়। চলবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত।

এদিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকসটাউন হলে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সিনেমাটির প্রদর্শনী হয়। আজ বিকাল ৫টায় হবে প্রসপেক্টে। সমাপনী দিন অর্থাৎ ২৯ মার্চ ওয়েরিবি হলে সন্ধ্যা ৬টায় দম দেখা যাবে। এ তথ্য জানিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই দম-কে ঘিরে দর্শকদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে। প্রথম চারদিনে যে দর্শক সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি একটাও নেগেটিভ রিভিউ দেখিনি। ক্রমেই এ সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে। এমন সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ঈদের প্রথম সিনেমা হিসেবে দম মুক্তি পেল। এটা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের খবর।’

মুক্তির তিনদিনে মাল্টিপ্লেক্সে ১ কোটি টাকার গ্রস কালেকশন দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে এ সিনেমা!

সিনেমা হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদে ভায়োলেন্স নয়, পারিবারিক ও কাহিনীনির্ভর সিনেমার প্রতি ঝোঁক বেশি সিনেপ্রেমীদের। যে কারণে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা দম।

অ্যাকশনের বদলে জীবনমুখী গল্পের সিনেমার প্রতি দর্শকের প্রবল আগ্রহ বাড়ায় সিনেমাটির প্রায় সবক’টি শো চলছে হাউজফুল। স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ৩৫টি শোর মধ্যে ২৭টিই ছিল হাউজফুল, যা সিনেমার প্রধান অভিনেতা আফরান নিশোর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং চরকি প্রযোজিত দম নিয়ে দর্শকের মধ্যে কৌতূহল ছিল ঘোষণার পর থেকেই। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ।

দর্শক চাহিদা, বক্স অফিস সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনের মাধ্যমে দম এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও একটি আলোচিত বাংলা সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। ঈদুল ফিতরের মৌসুমে পারিবারিক ও কাহিনীনির্ভর গল্পের প্রতি দর্শক আগ্রহের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা এ সিনেমার সাফল্যকে আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। দেশী মাল্টিপ্লেক্সে হাউজফুল শো, রেকর্ড আয় এবং বিদেশে প্রদর্শন সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সিনেমাটি ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি জনপ্রিয়তার দিকে এগোচ্ছে। নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজনাসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ আন্তর্জাতিক যাত্রা ভবিষ্যতে নতুন বাজারে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনাকে আরো প্রসারিত করবে, দম সে ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।