এক যুগের বেশি সময় হলিউডে রাজত্ব করেছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স। কিন্তু কভিড-১৯ শেষ হতেই ছন্দপতন। সম্প্রতি কোনো সিনেমাই দর্শককে তুষ্ট করতে পারছে না। এ অবস্থায় সবারই প্রশ্ন—মার্ভেলের নতুন পরিকল্পনা কী হবে। সম্প্রতি ভ্যারাইটিকে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিলেন মার্ভেল স্টুডিওর প্রেসিডেন্ট কেভিন ফাইগি। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃতভাবে কথা বলেন তিনি। ‘দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’ মুক্তির ঠিক আগে মার্ভেলের বারব্যাংক অফিসে বসেছিলেন তিনি। সেখানেই আলাপে জানালেন, ‘এন্ডগেম’-এর পর কেন মার্ভেলের পড়তি দশা তৈরি হলো এবং এ থেকে উত্তরণে কী ভাবছে মার্ভেল। তিনি মনে করেন, এখন গতি ও সংখ্যা কমিয়ে ভালো কনটেন্ট আনায় মনোযোগী হচ্ছে মার্ভেল।
২০১৯ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির পর অল্প সময়ে বেশি কনটেন্ট এনেছে মার্ভেল। ২০০৮-১৯ অবধি যত কনটেন্ট এসেছিল, পরবর্তী ছয় বছরে এসেছে তার দ্বিগুণ। সিনেমা ও টিভি কনটেন্ট মিলিয়ে প্রায় ১০০ ঘণ্টার বেশি সময়ের কনটেন্ট এনেছে মার্ভেল, যেখানে আগে ছিল ৫০ ঘণ্টা। ফাইগি স্বীকার করেছেন যে এসব অতিরিক্ত হয়ে গেছে। মাল্টিভার্স সাগা রীতিমতো দর্শকের পাশাপাশি মার্ভেলের টিমকেও ক্লান্ত করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অপরিচিত চরিত্র ও শো (যেমন থান্ডারবোল্টস) দর্শককে বিভ্রান্ত করেছে। সিনেমাটি ভালো রিভিউ পেলেও বক্স অফিসে সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ডলার আয় করেছে। এটিই বলে দেয়, মানুষ বুঝতে পারছে না কোন গল্পের সঙ্গে কোনটা যুক্ত।’

এ কারণে মার্ভেল সরল কনটেন্ট বানানোর চিন্তা করছে। এছাড়া তারা বাজেট কমাবে বলেও চিন্তা করছে।
কেভিন জানালেন, মার্ভেল এখন বছরে সর্বোচ্চ তিনটি সিনেমা ও এক বা দুটি টিভি সিরিজ বানানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ এখন আর মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের মূল ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না, বরং নিজস্ব গল্প বলবে। সঙ্গে সঙ্গেই বাজেটেও বড় রদবদল এসেছে। ফাইগি জানান, ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ ও ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর মতো সাম্প্রতিক সিনেমাগুলো ২০২৩ সালের আগের সিনেমাগুলোর চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম খরচে তৈরি হচ্ছে। এমনকি তারা দ্য ক্রিয়েটর টিমের সঙ্গে দেখা করেছেন। জানতে চেয়েছেন কীভাবে তারা ৮ কোটি ডলারে হাই-ভ্যালু ভিজুয়াল তৈরি করেছে।
‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ নামে একটা তত্ত্ব ইদানিং খুব জনপ্রিয়। এ তত্ত্ব অনুসারে সুপারহিরো সিনেমায় দর্শক ক্লান্তি অনুভব করছে। এ নিয়ে ফাইগি দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি ডিসির সুপারম্যানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এ সিনেমা ৪০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। অর্থাৎ দর্শকের আগ্রহ এখনো আছে। সমস্যা ক্লান্তি নয়, সমস্যা হলো অনেক বেশি কনটেন্ট দেয়া।’
ভবিষ্যতের বিষয়ে তিনি জানান, মার্ভেল আবার জনরা-ভিত্তিক একক গল্পে ফিরে যাবে। শ্যাং চির গল্পটা এ রকম ছিল।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে কেভিন যা বলছেন, তা আসলে কবে থেকে শুরু হতে পারে। এর উত্তরও কেভিনের কথায় আছে। তিনি জানাচ্ছেন, সিক্রেট ওয়ার থেকে শুরু হবে মার্ভেলের নতুন যুগ। ২০২৭ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: সিক্রেট ওয়ার’ হবে মাল্টিভার্স সাগার সমাপ্তি। সেখান থেকেই এমসিইউর নতুন যাত্রা হবে।
সে যাত্রায় নতুন এক্স-মেন কাস্ট থাকবে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে গল্প বলা হবে। ফাইগি বলেন, ‘কমিকের মতোই যেকোনো চরিত্রের যেকোনো জায়গায় দেখা দিতে পারে।’
টিভি শো নিয়েও ভিন্ন পরিকল্পনা আছে মার্ভেলের। আয়রনহার্ট ও ওয়ান্ডার ম্যানের মতো শোগুলো নির্মাণের পরও এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রচারে আসেনি। ডিসেম্বরে ওয়ান্ডার ম্যান মুক্তি পাচ্ছে। ‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ ও ‘স্পাইডার ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’তে পানিশার চরিত্রে জোন বার্থনালের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
মার্ভেল অ্যাভেঞ্জার্সকে নতুন করে সাজানোর চিন্তা করেছিল। তরুণদের আনার চেষ্টা ছিল। সেটা থাকবে কিনা তা অনিশ্চিত। মিস মার্ভেলে ইমান ভেলানিকে মার্ভেলের সেরা কাস্টিং বললেও ফাইগি নিশ্চিত করেননি তিনি আবার কোথায় দেখা দেবেন। ইয়ং অ্যাভেঞ্জার্স সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সম্ভব, যদি গল্প ও রসায়ন ঠিক হয়। তবে বৈচিত্র্য অবশ্যই থাকবে।’
দ্য মার্ভেল মেথড ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগোতে চান ফাইগি। যেমন সিনেমার দুনিয়া জানে ডিসির জেমস গান সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট ছাড়া প্রজেক্ট শুরু করেন না। কিন্তু মার্ভেলের ‘প্লাসিং’ কৌশল অনুসারে শুটিং চলাকালীন পরিবর্তন চালু থাকবে। ফাইগি বলেন, ‘আমরা কখনো পূর্ণ স্ক্রিপ্ট ছাড়া সিনেমা শুরু করিনি। তবে আমরা সবসময় ভালো করতে চাই।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










