গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মানেই লাল গালিচা, ঝলমলে আলো আর বিশ্বজোড়া তারকাদের উপস্থিতি। কিন্তু গ্র্যামি ২০২৬-এর সেই ব্যস্ত ও বর্ণিল রাত থেকে বহু দূরে, ভারতেই নিজের সঙ্গীতযাত্রায় মগ্ন ছিলেন আনুশকা শঙ্কর। এবছর দু’টি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্র্যামি অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হিসেবে সামনে আনেন নিজের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিল্পী হিসেবে যে গভীর ও মানবিক সংযোগকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানের দিন ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন আনুশকা। কোথাও তাকে দেখা যায় সেতার হাতে মঞ্চে, কোথাও আবার নিজের টিমের সঙ্গে হাসি-আড্ডায়। ছবিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ এক অনুভূতিপূর্ণ নোটে তিনি জানান, তার অ্যালবাম ‘চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট’ এবং সেই অ্যালবামের লিড গান ডেব্রেক-এর জন্য এবছর গ্র্যামিতে দু’টি মনোনয়ন পেয়েছেন। এই নিয়ে তার মোট মনোনয়নের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ ও ১৩—যা নিজেই তার কাছে বিরাট প্রাপ্তি।
তবে এই গর্বের পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, গ্র্যামির মতো বড় পুরস্কার অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা উত্তেজনা ও চাপ তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। তাই এবছর তিনি সচেতনভাবেই সিদ্ধান্ত নেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে না গিয়ে গ্র্যামির সময় ভারতে সফরে থাকবেন। তার কথায়, বড় পুরস্কার অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর অনিশ্চয়তার সেই ঘূর্ণিতে নিজেকে আর জড়াতে চাননি তিনি। বরং তিনি চেয়েছেন নিজের বিশ্বাসকে কাজে লাগাতে—যে বিশ্বাস বলে, পুরস্কারের চেয়ে মানুষের সামনে সঙ্গীত পরিবেশন করার অভিজ্ঞতাই একজন শিল্পীর কাছে বেশি মূল্যবান।
নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন আনুশকা। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গ্র্যামির আগের দিনগুলোতে যে প্রস্তুতি চলে—হাজার হাজার ডলার খরচ করে ভ্রমণ, প্রচার, পোশাক নির্বাচন, রেড কার্পেটের চিন্তা—সব মিলিয়ে তা একজন শিল্পীর উপর বড়সড় মানসিক চাপ তৈরি করে। তার সঙ্গে জয়ের আশা, আর শেষে বারবার না জেতার হতাশা—এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চললে সেটি মানসিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।’

সেতার বাজাচ্ছেন আনুশকা শঙ্কর। ছবি: শিল্পীর ফেসবুক
গ্র্যামির পর্দার আড়ালের বাস্তবতাও তার লেখায় উঠে আসে। আনুশকার মতে, গ্লোবাল ক্যাটাগরিগুলোতে প্রায়ই এমন বড় মূলধারার শিল্পীরা ঢুকে পড়েন, যাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকে মার্কেটিংয়ের জন্য। অনেক শিল্পী মাসের পর মাস নেটওয়ার্কিং করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভোটারদের সামনে নিজেদের নাম ও কাজ তুলে ধরেন। এই বাস্তবতা নিয়ে তার কোনও তিক্ততা নেই বলেই জানান তিনি—বরং এটি সিস্টেমের একটি স্বাভাবিক দিক হিসেবেই দেখেন।
আনুশকা স্পষ্ট করে বলেন, যদি এবছর প্রথমবার গ্র্যামি জেতেনও, তা নিঃসন্দেহে আনন্দের হবে। কিন্তু গভীরভাবে তিনি বিশ্বাস করেন, এই পুরস্কার শিল্পী হিসেবে তার সত্তা বা কাজের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে না। তার কাছে আসল বিষয় হলো সঙ্গীত সৃষ্টি করা এবং তা মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।
এই মুহূর্তে ভারতে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেই আনুশকা তার ‘সত্যিকারের শিল্পী জীবন’ বলে মনে করেন। এখানেই চ্যাপ্টার থ্রি: উই রিটার্ন টু লাইট অ্যালবামের যাত্রা শুরু হয়েছিল। নিজের ব্যান্ড ও টিমের সঙ্গে কাজ করা, হাসা, মঞ্চে সঙ্গীত ভাগ করে নেওয়া—এই মুহূর্তগুলিই তার কাছে বাস্তব ও মূল্যবান। নোটের শেষে তিনি সব মনোনীত শিল্পীদের জন্য শুভকামনা জানান এবং মুম্বইয়ের দর্শকদের উদ্দেশে জানান, খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে দেখা হবে।
সূত্র: ইয়ন










