পর্দায় নিজ অভিনয়গুণে ছাপ রেখে চলছেন গুণী অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ভালো গল্প ও চরিত্র বেছে কাজ করেন তিনি। তার অভিনয় দর্শকের মনে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়ে থাকে। নতুন বছরে নিজের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
নতুন বছরে আপনার কাজের পরিকল্পনা কী? এ বছর কোন বিষয়গুলোয় বেশি গুরুত্ব দিতে চান?
কাজের পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে, তবে সেটা এখনই জানাতে চাই না। কর্মগুলোর ফল আসবে যখন, তখন নিশ্চয়ই সবাই জানতে পারবে। এ বছরে আত্মিক উন্নয়ন ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে গুরুত্ব দিতে চাই। নতুন বছর থেকে যেন আমরা সত্য, সাম্য, শান্তি আর ন্যায়ের চর্চায় মনোযোগী হতে পারি। পরিবার এবং কাজে সমান সময় ও গুরুত্ব দিতে চাই।
নতুন বছরে নতুন কোনো কাজের খবর আছে কি?
কাজ যেগুলো আসবে, সেগুলো সম্পর্কে দর্শক জানতে পারবে। আগে থেকে তা কখনই বলি না। প্রডাকশন কোম্পানি যখন অনুমোদন দেবে, তখনই বলব।
কাজের ধরনের ক্ষেত্রে নতুন বছরে কি কোনো পরিবর্তন বা নতুনত্ব আনতে চান?
প্রতিটি কাজের মধ্যেই পরিবর্তন বা নতুনত্বের চ্যালেঞ্জ আশা করি। যদিও এমন গল্প আর চরিত্র খুব কমই হয়। এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করি, সেটাই অব্যাহত থাকবে আশা করি।
২০২৫ সাল থেকে পাওয়া কোন অভিজ্ঞতা নতুন বছরে কাজে লাগাতে চান?
জীবন খুবই ছোট। জীবনকে উদযাপন করা উচিত। ছোট ছোট বিষয়েও সুখ থাকে, সেগুলোও উদযাপন করা উচিত। অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা এসব ক্ষণস্থায়ী এবং এগুলো আত্মাকে বস্তুগত কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে টাকার প্রয়োজন আছে, এটা ঠিক। তবে টাকাকে মাথায় চড়ানো যাবে না। ভালোবাসার ভাষা ভালোবাসা হোক, এটাই আশা।
ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান?
ইন্ডাস্ট্রি আগে হয়ে উঠতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি হওয়ার জন্য যারা যে সেক্টরে কাজ করেন, সবাইকে সৎ, সাহসী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। আমাদের দেশের সিনেমা অন্য দেশের সিনেমার মতো মনে হলে হবে না। আমাদের দেশের সিনেমা যেন অন্য দেশের মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ইন্ডাস্ট্রির ডিসেন্ট্রালাইজেশন দরকার। ৬৪ জেলায় অন্তত ৬৪টি সিনেমা হল, কালচারাল সেন্টার এবং কালচারাল স্ট্রিট থাকা উচিত। মোটকথা, কালচারাল প্র্যাকটিস থাকা প্রয়োজন। এ মুহূর্তে কালচারাল রেভল্যুশন ও কালচারাল ইউনিটি সবচেয়ে জরুরি। ২০২৬-এর ঈদ আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে বড় এবং উৎসবমুখর হতে যাচ্ছে। পুরো ইন্ডাস্ট্রির সেরা প্রতিভারা বড় পর্দায় থাকবেন। দেশের বাইরেও আমাদের সিনেমা প্রতিনিধিত্ব করছে। খুবই পজিটিভ আশা করছি আগামী বছর থেকে। আমরা সবাই শান্তিতে, নিরাপদে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব। নীতিনির্ধারক জায়গাগুলোয় যোগ্য ও দক্ষ মানুষ থাকা উচিত। ভালো ইনভেস্টর ও প্রডিউসার দরকার। শক্তিশালী গ্লোবাল প্লাটফর্ম দরকার। তারা ও প্লাটফর্ম সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। ‘দর্শক যা খাচ্ছে’ দোহাই দিয়ে ক্রিঞ্জ কনটেন্টে দর্শকের রুচি তৈরি হতে দেয়া যাবে না। ভালো ও কোয়ালিটি কাজের উৎপাদন বাড়িয়ে দর্শকের রুচি পরিবর্তনে অবদান রাখতে হবে।
কাজের ব্যস্ততার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে নতুন বছরে নিজের জন্য কী প্রত্যাশা রাখছেন?
প্রত্যাশা আমি করি না, আশা করি। প্রত্যাশা পূরণ না হলে মানুষ কষ্ট পায়। আশা ভেতরে সাহস জোগায়। নতুন বছরে দর্শকের মধ্যে যেন সে আস্থা তৈরি করতে পারি, যে দর্শক কাজটি দেখবে এবং ভালো বলবে। দর্শক আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে কাজটি দেখতে পারবে। আস্থা ও বিশ্বাস যেন দর্শকের না ভাঙে, সেটা দেখাই আমার আশা।
নতুন বছরের শুরুতে দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশে বিশেষভাবে কী বলতে চান?
সবাইকে প্রথমে ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানাব, ধ্বংসের পথ নয় বরং গড়ার পথে আহ্বান করব। দেশপ্রেম, সততা, ন্যায় ও শান্তির চর্চা করতে বলব। আমরা ভালো হলেই দেশ ভালো হবে। মানুষের সবচেয়ে বড় সুপারপাওয়ার হলো নির্বাচন করার ক্ষমতা। প্রত্যেকেই তার নিজ কর্মের জন্য দায়বদ্ধ। আশা করি, সুশিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আমাদের রুচি পরিবর্তন হবে এবং আমরা সভ্য জাতিতে পরিণত হব। আমরা সবাই মিলে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে যার যা দক্ষতা আছে, তা দিয়ে গড়ে তুলব এবং বিশ্বে দেশের সুনাম অর্জন করব। পরিবারকে ভালোবাসুন, দেশকে ভালোবাসুন, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। প্রতিটি জেলায় নিজ উদ্যোগে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করুন। কালচারাল ইউনিটি তৈরি করুন। দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করুন এবং নিজেদের সুযোগ্য করে তুলুন।










