বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের জন্য এক গৌরবময় অর্জন এনে দিয়েছে ‘মাস্টার’। নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (আইএফএফআর) এর ৫৫তম আসরে মর্যাদাপূর্ণ বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের সিনেমাটি। এটি উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগের শীর্ষ পুরস্কার জয় করেছে। গত শুক্রবার রাতে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। মাস্টার এ বিভাগের ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পুরস্কারটি অর্জন করে।
আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি বাংলাদেশী সমসাময়িক সিনেমার জন্য নতুন এক মাইলফলক ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন সিনেমাটির অন্যতম অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও অন্যরা। ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্টারের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সিনেমার পুরো টিম।
জয়ের মুহূর্ত ও স্মারক গ্রহণের ছবি শেয়ার করে সিনেমাটির অভিনেত্রী বাঁধন লেখেন, ‘আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতলাম। অভিনন্দন পরিচালক ও সিনেমার পুরো টিমকে। বাংলাদেশের জন্য কী দারুণ একটি দিন!’
আরেকটি পোস্টে বাঁধন লেখেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কী দারুণ এক অর্জন! এ অসাধারণ চলচ্চিত্রে দলের অংশ হতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত ও গর্বিত। কী অবিশ্বাস্য এক যাত্রাই না ছিল এটি! আমাদের চরিত্রগুলোর দায়িত্ব দেয়ার জন্য রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতকে ধন্যবাদ।’

সিনেমাটির আরেক অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম লিখেছেন, ‘আইএফএফআরের ৫৫তম আসরে বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড উইনার সিনেমা মাস্টার।’
সরকারি অনুদানে নির্মিত মাস্টার সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি উপজেলার স্থানীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার টানাপড়েনকে ঘিরে। এতে আজমেরী হক বাঁধন ও জাকিয়া বারী মমের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান, ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ, শরিফ সিরাজসহ আরো অনেকে।
আইএফএফআরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এ পুরস্কারের সঙ্গে মাস্টার সিনেমা পেয়েছে ১৫ হাজার ইউরোর প্রাইজমানি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি ছবিটির ডাচ ডিস্ট্রিবিউশন স্বত্ব অর্জনকারী পরিবেশককেও ১৫ হাজার ইউরো দেয়া হয়েছে। এ হিসাবে মোট বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৩ লাখের বেশি টাকা পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি।
রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে মাস্টারের এ স্বীকৃতি শুধু একটি সিনেমার সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের সমসাময়িক সিনেমার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জোরালো প্রমাণ। সাহসী গল্প ও শক্তিশালী অভিনয় যে বৈশ্বিক দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে, এ অর্জন সেই বাস্তবতাকেই আরো দৃঢ় করল।










