পশ্চিমবঙ্গের সিনেমার অন্যতম দর্শকপ্রিয় জুটি দেব-শুভশ্রী। এক যুগের বেশি আগে তাদের এ জনপ্রিয়তা তৈরি হয় এবং তারা একসঙ্গে বেশকিছু ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেন। তারাই জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন ‘ধূমকেতু’ সিনেমায়। ২০১৫ সালে শুটিং শেষ হলেও সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। এক দশক পর সিনেমাটি হলে এল এবং বলা চলে ধূমকেতুর মতোই প্রত্যাবর্তন হলো দেবের। ধূমকেতু যেমন বহু বছর পর একবার দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের সিনেমার ইতিহাসে দেব সেভাবেই যেন ফিরলেন। সঙ্গে শুভশ্রীও আছেন।

কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির ১৫ দিনে আয় করেছে ২১ কোটি ৩৬ লাখ রুপি। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমার ইতিহাসে একে মাইলফলক বলা চলে। দেব নিজেই সিনেমার আয় প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘অপ্রতিরোধ্য। অতুলনীয়। অবিশ্বাস্য।’ এছাড়া দেব এ সাফল্যকে বায়লা সিনেমার এক নতুন রেকর্ড বলেও উল্লেখ করেন। এছাড়া মুক্তির প্রথম দিনই পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার জায়গাটি নেয় ধূমকেতু।

সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে এ সিনেমা নিয়ে ক্রমাগত আলোচনাও ভূমিকা রেখেছে। প্রথমত সিনেমাটি মুক্তি পেল নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১০ বছর পর। এটি সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহের একটি কারণ। সিনেমার পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সেরা পরিচালক তিনি। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ‘আর্ট ফিল্ম’ও বানান। ফলে নিজের দর্শকশ্রেণী বাদেও তার ওপর বড় পরিসরের দর্শকের একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে।

তৃতীয় ও অন্যতম বড় কারণ দেব ও শুভশ্রীকে একসঙ্গে দেখা। সিনেমাটি দর্শককে নস্টালজিয়া যাপনের সুযোগ দিচ্ছে। একসময় যারা দেব-শুভশ্রী জুটিকে দেখে বড় হয়েছেন, তাদের সিনেমার গান শুনেছেন, তারা এ সিনেমার প্রতি আগ্রহী।

সিনেমার প্রচারও এবার হয়েছে তুলনামূলক বড় করে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমার প্রচার যেমন হয়, ধূমকেতু সে তুলনায় আড়ম্বর দেখিয়েছে। এ সিনেমার প্রচারণার জন্য দেব ও শুভশ্রীকে একত্রে দেখার কথা ভেবেছিলেন অনেকে। তারা একসঙ্গে হাজির হননি। আলাদাভাবে প্রচার করেছেন সিনেমার। কিন্তু দুজনই দুজনের প্রতি সম্মান রেখে কথা বলেছেন। এ বিষয়ও গণমাধ্যমে বেশ বড় করে এসেছে এবং বর্তমান সময়ের দর্শক বিষটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছেন। সব মিলিয়ে ধূমকেতু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটা আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, যা ধূমকেতুর ক্ষেত্রেই হয়।