দীর্ঘ রিহার্সাল আর মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে পর্দায় ফুটে উঠেছে চরিত্রটি। সিনেমায় মহীন হয়ে ওঠার জার্নি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে

বনলতা সেন সিনেমায় মহীন হয়ে ওঠার গল্পটা যদি শেয়ার করতেন।

মহীন হওয়ার গল্পটা অডিশন দিয়েই শুরু। পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাই অডিশনের জন্য ডেকেছিলেন। দুই-তিনবার অডিশন দেয়ার পর মহীন চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হই। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ রিহার্সাল ও ক্যারেক্টার প্রিপারেশন। চরিত্রটা হয়ে ওঠার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার ছিল, তা মেকআপ, কস্টিউম হোক কিংবা এর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও চিন্তার প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে একটা দীর্ঘ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই মহীনকে তৈরি করা হয়েছে।

চরিত্রটা করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মহীনের ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্বটা। মহীনের যে মনস্তত্ত্ব, সেটা ধরা খুবই কঠিন ছিল। কারণ এটি তো পুরোপুরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। সে চরিত্রের সাইকোলজি ধরাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আমাকে শারীরিকভাবেও অনেক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে চার-পাঁচ কেজি ওজন কমাতে হয়েছিল, চুল-দাড়ি বড় করতে হয়েছিল। এক কথায়, পুরো চরিত্রটাই আমার জন্য একটা বড় পরীক্ষা ছিল।

সিনেমায় পরিচালকের ভাবনার বাইরে নিজের মতো করে কিছু করার সুযোগ পেয়েছিলেন কি?

উজ্জ্বল ভাইয়ের একটা বিষয় খুবই দারুণ ছিল, সিনেমাটি করতে গিয়ে আমরা একে অন্যকে দারুণ সহযোগিতা করেছি। শুটিং বা ডাবিংয়ের সময় কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্যে যদি মনে হয়েছে নতুন কিছু ইনপুট দেয়া যায় এবং সেটা যদি যুক্তিসংগত হতো, উজ্জ্বল ভাই তা সানন্দে গ্রহণ করতেন। আবার কখনো যদি সেটা চরিত্রের সঙ্গে না যেত, তবে তা বাদ দিতেন। পুরো কাজটি আমরা সহযোগিতামূলক পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ করেছি।

সিনেমার শুটিং শেষ করতে তো অনেক সময় লেগেছে। এ দীর্ঘ সময় ধরে একটা চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকা কতটা কঠিন ছিল?

সিনেমাটির কাজ যেহেতু বছরজুড়ে চলেছে, একজন অভিনেতার জন্য তা অবশ্যই আদর্শ পরিস্থিতি নয়। পর্যাপ্ত আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও প্রজেক্টটি দারুণ ছিল। চমৎকার একটি গল্প এবং একজন ভালো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার তাগিদ থেকেই আমরা ধৈর্য ধরেছি। নানা কারণে সময়টা একটু বেশি লাগলেও দিন শেষে একটি ভালো কাজ তৈরি হয়েছে, এটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।

জটিল বা মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রগুলোয়ই আপনাকে বেশি দেখা যায়। মূল ধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা আছে কি?

আমি বাণিজ্যিক ধারার চরিত্রেও কাজ করেছি। প্রায় ১০ বছর আগে ‘মুসাফির’ করেছিলাম, এরপর করলাম ‘রাক্ষস’। সামনে বাণিজ্যিক সিনেমা করার খুব ইচ্ছা আছে—যেখানে নাচ, গান, ফাইট, অ্যাকশন, মেলোড্রামা আর রোমান্স থাকবে। আমি আসলে একটি ভালো চিত্রনাট্য আর ভালো অফারের জন্য অপেক্ষা করছি। কোনো পরিচালক বা প্রযোজক যদি আমাকে এমন চরিত্রে ভাবেন, আমি যথাসাধ্য নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করব।

আগামীতে দর্শক আপনাকে আর কী কী নতুন কাজে দেখতে পাবে?

আমার একটি সিনেমার কাজ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে। যেখানে আমার সঙ্গে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, আফসানা মিমি ও শিরিন শিলা। সিনেমাটির পোস্ট-প্রডাকশনের কাজ চলছে। সব গুছিয়ে শিগগিরই এটি দর্শকের সামনে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া আরো কিছু সিনেমা ও ওটিটি প্রজেক্ট নিয়ে কথা চলছে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান