বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেত্রী জয়া আহসান। ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিষেকের পর থেকে একের পর এক নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। দক্ষ অভিনয় দিয়ে দুই বাংলার দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। ‘চোরাবালি’, ‘পুত্র’, ‘দেবী’ ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘আর্তনাদ’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শক প্রশংসিত হয়েছে। জয়ার অভিনয় ও নিজেকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
ক্যারিয়ারে শুধু জনপ্রিয়তার পেছনে না গিয়ে জয়া এমন সব চরিত্র বেছে নিয়েছেন, যা তাকে করে তুলেছে সবার থেকে আলাদা। ‘বিসর্জন’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক সাড়া ফেলেন। সিনেমাটির জন্য কলকাতা, ভেনিসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার অর্জন করেন।
বর্তমান সময়টা জয়ার ক্যারিয়ারের সেরা সময় বলাই যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় পর্দায়ও মুক্তি পাচ্ছে তার সিনেমা।

ভারতে মুক্তি পেয়েছে অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী পরিচালিত সিনেমা ‘ডিয়ার মা’, যা ১৮ জুলাই ভারতে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর থেকে ভারতের দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে আলোচনায় রয়েছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এ সিনেমা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারড্যামে প্রদর্শিত হয়েছে এবং আগামী ১ আগস্ট মুক্তির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এ সিনেমায় জয়া ও আবির চট্টোপাধ্যায় আবারো একসঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। বিসর্জন ও বিজয়ার মতো প্রশংসিত জুটি দর্শকের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। এতদিন যে চরিত্রগুলো বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল, এবার সিনেপ্রেমীরা মুখিয়ে রয়েছেন তাদের পর্দায় দেখার জন্য। ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে। গুটি বসন্তে আক্রান্ত সে। ব্যস ওইটুকুই। তাকে ট্রেলারে আর সেভাবে দেখানো হয়নি। দেখা গেল গ্রামবাংলার সেই রূপ। সম্পর্কের টানাপড়েন। সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে ট্রেলারের প্রথম ঝলকে। এককথায় জীবনের নানা অবস্থায় বদ্ধ থেকে মুক্ত হওয়া কাহিনী ফুটে উঠবে। এর পরই কিছু কিছু ঝলক ফুটে উঠেছে, যেখানে দেখা গেছে আবির ও পরমব্রতর বন্ধুত্ব, ব্যর্থ প্রেমের কথা, জয়া ও আবিরের ভালোবাসার কাহিনী।
জয়া আহসান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পেয়েছেন বহু সম্মাননা ও পুরস্কার। বিশেষ করে ‘বিসর্জন’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর খেতাব। এছাড়া বিজয়া ও অর্ধাঙ্গিনী ছবিতেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।










