শীতল বাতাস আর টানা বৃষ্টির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে জমকালো আয়োজনে শুরু হলো বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব। ছাতা ও রেইনকোটে মোড়া তারকারা যখন লালগালিচায় হাঁটছিলেন, তখন আবহাওয়ার প্রতিকূলতাকেও ছাপিয়ে উঠছিল শিল্পের উচ্ছ্বাস ও আশার সুর।
লালগালিচায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শন বেকার, অভিনেত্রী বেলা র্যামসে, নির্মাতা করিম আইনোজ, অভিনেতা নীল প্যাট্রিক হ্যারিস, রোমানিয়ার পরিচালক রাদু জুড, জার্মান তারকা ড্যানিয়ের ব্রুহল, লার্স আইডিঙ্গার প্রমুখ।
এবারের সম্মানসূচক গোল্ডেন বেয়ার তুলে দেয়া হয় অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মিশেল ইয়োর হাতে। সোনালি পোশাকে উজ্জ্বল ইয়ো বর্তমানে শন বেকারের নতুন চলচ্চিত্র ‘সানদিওয়ারা’য় অভিনয় করছেন। সিনেমাটি ফ্যাশন হাউজ সেলফ পোর্ট্রেইটের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে।
আয়োজনের সূচনায় মঞ্চে উঠে শন বেকার বলেন, ‘বার্লিন বরাবরই সাহসী কণ্ঠ, ঝুঁকি নেয়া শিল্পী এবং নিজস্ব পরিচয়ে অটল স্রষ্টাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মিশেল ইয়ো সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যিনি শুধু পর্দায় হাজির হন না—তিনি পুরো ঘরের আবহ বদলে দেন।’

পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন কণ্ঠে ইয়ো জানান, তিনি আবারো বেকারের সঙ্গে কাজ করতে চান।
বার্লিন তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে যে উষ্ণতা দিয়েছিল, সেটিও স্মরণ করেন ইয়োহ। বাবার কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘আমার এক অংশ এখনো সেই ছোট মেয়েটি, যে শুধু তার বাবা-মাকে গর্বিত করতে চেয়েছিল। বাবা আজ নেই, কিন্তু তার শৃঙ্খলা, স্থিরতা আর বিশ্বাস আমার সঙ্গে আছে। তিনি যদি আজ আমাকে এই গোল্ডেন বেয়ার হাতে দেখতেন, নিশ্চয়ই হাসতেন।’
গত বছরের মতো তীব্র রাজনৈতিক অবস্থান এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তেমন দেখা যায়নি। আগের আসরে টিল্ডা সুইন্টনের জোরালো রাজনৈতিক বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে এবার মঞ্চে মূলত সিনেমা ও শিল্পচর্চার কথাই উঠে এসেছে।
তবে লালগালিচায় কিছু প্রতিবাদী কণ্ঠ শোনা যায়। অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ও ফ্রি ইরান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি প্রধান, কিংবদন্তি জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা রাজনীতির বিপরীত শক্তি—আমরা মানুষের কাজ করি, রাজনীতিবিদদের নয়।’
উৎসবপ্রধান ট্রিসিয়া টাটলও স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিকাশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সহ-প্রোগ্রামার জ্যাকুলিন ল্যাঙ্গা ও মাইকেল স্টুটযকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রশিল্প এখনো প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল, যদিও অবকাঠামোগত উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
এবারের উদ্বোধনী সিনেমা নো গুড মেন নির্মাণ করেছেন আফগান পরিচালক শাহরবানু সাদাত। ২০২১ সালে তালেবানের কাবুল দখলের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই রোমান্টিক কমেডিতে দেখানো হয়েছে এক টিভি স্টেশনের ক্যামেরাওম্যান ও তারকা সাংবাদিকের সম্পর্কের গল্প। এটি প্রথম আফগান চলচ্চিত্র যেখানে পর্দায় চুম্বন দৃশ্য রয়েছে। সাদাত বলেন, ‘আমার সিনেমার কোনো বিশেষ এজেন্ডা নেই। তবে আফগান সমাজে যা নিষিদ্ধ, তার চাহিদাই বরং বেশি।’
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে পপ তারকা চার্লি এক্সসিএক্সের ‘দ্য মোমেন্ট’-এর ইউরোপীয় প্রিমিয়ার, কারিম আইনুজের রোজবুশ প্রুনিং, কর্নেল মুন্ডরুচোর অ্যাট দ্য সি ইত্যাদি।










