ঝাঁ চকচকে এ মঞ্চে সমান্তরাল ছিল রুপালি পর্দার গ্ল্যামার আর বয়সের সমীকরণ। তবে এ প্রবণতায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে বয়োজ্যেষ্ঠ অভিনেত্রীদের জয়জয়কার পুরনো এজইজম ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
অস্কারের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৬০ বছরের বেশি বয়সে মাত্র সাতজন নারী সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন। ৮০ বছরের বেশি বয়সে জয়ী একমাত্র অভিনেত্রী জেসিকা ট্যান্ডি এবং ৭০-এর বেশি বয়সে জয়ী আরেকজন ক্যাথরিন হেপবার্ন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত সেরা অভিনেত্রী বিভাগে ৩২ জন অভিনেত্রী তাদের ২০-এর কোঠায় থাকাকালীন অস্কার জিতেছেন। এর বিপরীতে সেরা অভিনেতা বিভাগে ৩০ বছরের কম বয়সে অস্কার জেতার রেকর্ড মাত্র একজনের।
একটা সময় কৌতুক করে বলা হতো, হলিউডে কাজ পেতে হলে আপনার নাম জুডি ডেনচ, ম্যাগি স্মিথ বা মেরিল স্ট্রিপ হতে হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। এ পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি নিয়ামক কাজ করছে। বর্তমানে অস্কারে এমন সব ছবি প্রাধান্য পাচ্ছে, যেগুলো ব্যবসায়িক সাফল্যের চেয়ে শিল্পের গুণগত মান বা ক্রাফটের ওপর জোর দেয়। ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ অভিনেত্রীদের সুযোগ বাড়ছে।
সেই সঙ্গে ভূমিকা রাখছে নারী নির্মাতাদের উত্থান। নারী নির্মাতারা পর্দায় জটিল ও জীবনঘনিষ্ঠ নারী চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করেন, যেখানে বয়সের চেয়ে অভিজ্ঞতাই মুখ্য।
এছাড়া অস্কারের ভোটার তালিকায় এখন অনেক বিদেশী সদস্য যুক্ত হয়েছেন। যা হলিউড-কেন্দ্রিক তরুণীনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অস্কারে বিশ্ব চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিচ্ছে।
অস্কারে অভিজ্ঞ ও পরিণত নারীদের সাফল্য বাড়লেও হলিউডের সাধারণ চিত্র এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন। ২০২৫ সালের এক অপ্রকাশিত তথ্য বলছে, শীর্ষ ১০০টি ব্যবসাসফল ছবিতে নারী প্রধান চরিত্রদের গড় বয়স এখনো মাত্র ৩৪ বছর, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৪২। অর্থাৎ তথাকথিত ‘পপকর্ন মুভি’ বা বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবিতে এখনো কম বয়সী নারীদেরই প্রাধান্য দেয়া হয়।
কেবল অভিনয়ের পর্দায় নয়, কলমের জোরেও পিছিয়ে আছেন বয়স্ক নারীরা। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ লিখেছেন ৪০-এর বেশি বয়সী নারী লেখক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্কারের মঞ্চে ডেমি মুর বা ফার্নান্দা তোরেসদের উপস্থিতি দর্শকের মনে বয়সবাদ দূর হওয়ার এক অলীক আশা তৈরি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে ৪০-এর কোঠায় পৌঁছতেই নারী চরিত্র ‘অদৃশ্য’ হতে শুরু করে। যতক্ষণ না পর্যন্ত বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় বয়োজ্যেষ্ঠ নারীরা নিয়মিত হচ্ছেন, ততক্ষণ অস্কারের এ সাফল্যকে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিবিসি অবলম্বনে শামীমা ইসলাম










