কিংবদন্তি শিল্পীদের কাছে নাদিয়া যেমন ভীষণ স্নেহের, তেমনই তার পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও তিনি ভীষণ প্রিয় একজন। নাদিয়া সবসময়ই একজন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ক্যারিয়ারে তার আছে বহু দর্শকপ্রিয় নাটক। অভিনয়ের দুনিয়ায় পথ চলতে চলতে তিনি অভিনয় জীবনের ‘রজত জয়ন্তী’তে (২৫ বছরে) পদার্পণ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নাদিয়া আহমেদ বলেন, ‘অভিনয় জীবনের দীর্ঘ দিনের এ পথচলায় দিনের পর দিন দেশে কিংবা দেশের বাইরে মানুষের এই যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, এটাই আসলে জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। ভীষণ আনন্দ নিয়েই পরিবার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে জীবন উদযাপন করতে ভালোবাসি।’

নাদিয়া তার ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। ছোটবেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’তে নাচে ও অভিনয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি। এরপর শিশু একাডেমিতে শেখার পর সাত বছরের ডিপ্লোর্মা কোর্স করেন ‘বাফা’ থেকে। তিনি রাইজা খানম ঝুনু, সোহেল রহমান, শিবলী মোহাম্মদ, শামীম আরা নীপা ও দীপা খন্দকারের কাছেও নাচ শিখেছেন। তবে অভিনয়ে তার গুরু অ্যাডওয়ার্ড বারৈ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পোস্টমাস্টার’-এর রতন চরিত্রে বারৈ’র লেখা স্ক্রিপ্টে অভিনয় করেই ‘নতুন কুঁড়ি’তে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। এর পর পরই নাদিয়া বিটিভির ‘বারো রকমের মানুষ’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। মাঝে বিরতির পর ২০০০ সাল থেকে তিনি মূলত অভিনয়ে নিয়মিত হতে শুরু করেন।

অভিনয় জীবনের দীর্ঘদিনের পথচলায় এ অভিনেত্রী বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দীপ্ত টিভিতে প্রচার শেষ হওয়া ‘বকুলপুর’ নাটকের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অভিনয় জীবনের এই সময়ে এসে ধারাবাহিক নাটকটিতে ‘প্রিন্সেস দিবা’, পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান দিবার চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বহু খ্যাতিমান পরিচালক ও শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। নাদিয়া তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার শিক্ষকদের ভীষণ ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। একটা কথাই বিশেষভাবে বলতে চাই, জীবনে বড় হতে গেলে অধ্যবসায় ও সততার বিকল্প নেই। আমি আমার সব সহশিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, নাট্যকারসহ নাচের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি, সর্বোপরি দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায়ই আমি আজকের নাদিয়া।’