অস্কারজয়ী নির্মাতা শন বেকার। তার নতুন সিনেমা ‘সান্দিওয়ারা’। এতে অভিনয় করেছেন মিশেল ইয়ো। সিনেমাটি নির্মাণের পেছনে আছে কৌতূহলোদ্দীপক গল্প। এর প্রাথমিক চিত্রনাট্য আক্ষরিক অর্থেই ছুঁড়ে ফেলেছিলেন তিনি। কেননা তার মনে হয়েছিল, বিষয়টা হাস্যকর হচ্ছে। তার মতে ওই চিত্রনাট্যে বাস্তবতা ছিল কম। তবে পেনাংয়ে কিছু সময় কাটানোর পর তার মনে হয়েছে নতুন করে গল্পটা দাঁড় করানো যায়। ফ্যাশন হাউজ সেলফ পোর্ট্রেটের রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের সহযোগিতায় নির্মিত সিনেমাটি। আইফোনে শুট করা সান্দিওয়ারায় ইয়ো পাঁচটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, একজন ইনফ্লুয়েন্সার, ফুড ক্রিটিক, শেফ, রেস্তোরাঁর সার্ভার ও গায়িকা (সবাই সেলফ পোর্ট্রেটের পোশাক পরিহিত), যাদের গল্প পেনাংয়ের একটি ফুড কোর্টে এসে একত্র হয়।

সিনেমাটিকে সেলফ পোর্ট্রেটের ক্যাম্পেইন মনে হতে পারে। সেলফ পোর্ট্রেটের প্রতিষ্ঠাতা হান চং এ নিয়ে বলেন, ‘মিশেল ইয়ো এশিয়ায় সম্ভাবনার প্রতীক, তাই সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি শুধু একটি ক্যাম্পেইন করতে চাইনি, চেয়েছিলাম তিনি আমাদের এশীয় সংস্কৃতির পক্ষে বৈশ্বিক মঞ্চে কিছু প্রতিনিধিত্ব করুন এবং তার প্রতিভাও তুলে ধরুন।’

সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং ইয়োর সঙ্গে কাজ করার সুযোগে আকৃষ্ট হয়ে বেকার শিগগিরই প্রকল্পে সই করেন। হান চং বলেন, ‘ওদের দুজনের এনার্জি ছিল অসাধারণ। দুজনই চাইছিলেন, এটি ভালোভাবে হোক। তারা যে পরিমাণ সময় দিয়েছেন, যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য।’

মিশেল ইয়োর সঙ্গে ‘অ্যানোরা’ নির্মাণ করেছিলেন শন বেকার। সম্প্রতি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সাম্মানিক গোল্ডেন বিয়ার জেতেন মিশেল। উৎসবের উদ্বোধনে একই মঞ্চে ছিলেন নির্মাতা ও অভিনেত্রী। সান্দিওয়ারা, মিশেল ও পরবর্তী সিনেমাসহ নানা প্রসঙ্গে ভ্যারাইটির সঙ্গে আলাপ করেছেন শন বেকার। অনুবাদ করেছেন মাহমুদুর রহমান

সান্দিওয়ারার ধারণা কীভাবে এল এবং কোন বিষয়টি আপনাকে আগ্রহী করেছিল?

‘লেফট-হ্যান্ডেড গার্ল’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার ঠিক আগে বিষয়টি আসে। যেটি তাইওয়ানের নাইট মার্কেটকে কেন্দ্র করে এবং এটিও আইফোনে শুট করা। তাই আমি ভেবেছিলাম, এটা তো পারব, সদ্যই তো এমন কাজ করেছি। কিন্তু দ্রুত বুঝলাম, আমি একটু সরল ভাবছিলাম। হান চং নাইট মার্কেট আর ফুড কোর্টের কথা বলছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম আমার ভাবনার সঙ্গে মিলে যাবে। বাস্তবে দেখা গেল, এটা একেবারেই আলাদা। সে আবিষ্কারও ছিল চমৎকার। কারণ আমি সেখানে দুদিনের শুটের আগে নয়দিন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছিলাম।

মিশেল ইয়োর সঙ্গে সেটে প্রথম দেখা। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এটা ছিল তাৎক্ষণিক এক সংযোগ। আমি ভীত হইনি। মিশেল খুবই উদারমনা। শুটের পর থেকেই আমরা টেক্সট মেসেজে আলাপ করতাম। দ্রুতই বন্ধুত্ব হয়ে যায়, কারণ তিনি সত্যিই খুব সহজ-সরল। একেবারেই কোনো গ্ল্যামারাস নায়িকার মতো ভাব নেই। দুদিনই আমরা ২ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করেছি আর তিনি একবারই আপত্তি করেননি। বলেছিলেন, ‘কিছু যায় আসে না, এটা শেষ করি। আমাদের হাতে এ সময়ই আছে।’

আইফোনে শুটিংয়ে ফেরা এবং পেনাংয়ের রাস্তায় সাইকেলে শুট করার অভিজ্ঞতা কেমন?

ও জানত সাইকেলে থাকবে, তাই আমিও সাইকেলে। ‘ট্যানজেরিন’-এ আমরা এমনই করেছিলাম, সান্তা মনিকাজুড়ে। প্রথম টেকেই আমরা পড়ে গিয়েছিলাম। তখন ভাবলাম, এটা ভালোভাবে হবে না। কিন্তু পরে ঠিকঠাক হয়েছে।

29

অ্যানোরায়ও কিছুটা করেছি এভাবে। তবে এখানে প্রায় পুরোটা ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বড় ফুড কোর্টে শুটের অনুমতি ছিল ঠিকই, কিন্তু পেছনের ৯৫ ভাগ মানুষই আসল, কোনো ভাড়া করা এক্সট্রা নয়। সেখানে প্রথম সারির একজন তারকা মিশেল ইয়োকে পাঠানো আমার কাছে দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল। আগে আমার অভিনেতারা পরিচিত ছিলেন, কিন্তু কিছুটা মিশে যেতেন। এখন চ্যালেঞ্জ ছিল একই পরিবেশে একজন প্রথম সারির তারকাকে নিয়ে কাজ করা।

চলচ্চিত্র ও ফ্যাশনের সংযোগ আপনাকে কীভাবে টানে?

ফ্যাশন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে, কারণ আমার সব সিনেমায় চরিত্রদের পোশাক খুবই ইচ্ছাকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ। আমি স্টাইল নিয়ে পরীক্ষা করতে ভালোবাসি, এটা সেই সুযোগ। টেলিভিশন একটা বিশাল যন্ত্রের মতো। বিজ্ঞাপন পরিচালকের নিজের নয়, ফ্যাশন জগৎই একমাত্র জায়গা, যেখানে মনে হয় আমি নিজের সিনেমা বানাচ্ছি। হান আমাকে পূর্ণ সৃজনশীল স্বাধীনতা দিয়েছেন।

অ্যানোরার পুরস্কার-ঝড়ের পর জীবন কি শান্ত হয়েছে?

অ্যানোরা থেকে সরাসরি লেফট-হ্যান্ডেড গার্লে চলে গেছি। সেখান থেকে এখানে। তাই শ্বাস নেয়ার সময়ই পাইনি। প্রক্রিয়াটা বুঝতেও সময় লেগেছে। আবার লেফট-হ্যান্ডেড গার্লের জন্য প্রচারণা করতে হচ্ছিল। সিনেমাটা নিয়ে আমি গর্বিত, কিন্তু আবার পুরো প্রক্রিয়া পার হওয়া সম্ভব কিনা জানি না। অনেক চাপ। তবে এখন সামান্থা (সামান্থা কুয়ান, তার প্রযোজক ও স্ত্রী) আর আমি অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছি। পাম ডি’অর জেতা ছিল আমার জীবনের স্বপ্ন, এটা বাড়িয়ে বলছি না। সেটা হয়ে গেছে, এরপর অস্কার, বাফটা—সবই বাড়তি প্রাপ্তি। এখন আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আমরা মাটির কাছেই থাকছি। আমি ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সিনেমা বানাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছি না।

স্টুডিও থেকে প্রস্তাব এসেছে?

ডেভেলপমেন্ট ডিলের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি স্বাধীনভাবে সিনেমা বানাতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন যদি আবার আমার সিনেমা বিতরণ করে, দারুণ হবে। কিন্তু আমরা স্বাধীনভাবে বানাচ্ছি, যাতে কাস্টিং থেকে বিষয়বস্তু—সবকিছুর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, একটাও নোট নিতে না হয়।

পরবর্তী সিনেমা? ইতালির পটভূমিতে, ভেরা জেম্মা অভিনীত গুঞ্জন কি সত্যি?

হ্যাঁ। এটা ষাট ও সত্তরের দশকের ইতালীয় কমেডির প্রতি আমার ভালোবাসার চিঠি। আমরা এ বছরই শুট করতে চাই।