বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার সাবিনা ইয়াসমিন রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা ও উপস্থাপক আফজাল হোসেন মঞ্চে উঠে সাবিনা ইয়াসমিনের নাম ঘোষণা করলে মিলনায়তনে উপস্থিত শত শত দর্শক করতালির মধ্য দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। উপস্থিত শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শকের উচ্ছ্বাসে পুরো মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে। সম্মাননা গ্রহণের সময় তার দীর্ঘদিনের সহশিল্পী খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, ফেরদৌস আরা, নকিব খান, পার্থ বড়ুয়া ও আগুনসহ অনেকে পাশে দাঁড়ান।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এককভাবে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি বলেন, ‘এ সম্মাননা আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করবে গান ও সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে। আমি কৃতজ্ঞ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি এবং যারা সামনে ও নেপথ্যে থেকে অনুষ্ঠানটি সফল করেছেন—সবার প্রতি। বিশেষ ধন্যবাদ আমার সহশিল্পী ও প্রিয় মিউজিশিয়ানদের।’
অনুষ্ঠানে সাবিনা ইয়াসমিনের গানকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিবেশনা ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ মঞ্চস্থ হয়। শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা তার জনপ্রিয় গানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর মাইক্রোফোন হাতে উঠে তিনি একে একে পরিবেশন করেন তার অমর সব গান—‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’, ‘আমি আছি থাকবো’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ ও ‘সে যে কেনো এলো না’। প্রতিটি গান দর্শক মুগ্ধ হয়ে শোনেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
দর্শকের অনুরোধে খুরশীদ আলম, রফিকুল আলম ও আগুন তার সঙ্গে দ্বৈত গান পরিবেশন করেন, যা অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিটি গানের ফাঁকেই উপস্থিত সংগীত ব্যক্তিত্বরা সাবিনা ইয়াসমিনের শিল্পী জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মতো তার অবদান ও কৃতিত্ব।
অনুষ্ঠানের আরেক আবেগঘন মুহূর্ত ছিল প্রয়াত মহানায়ক বুলবুল আহমেদের স্মৃতিচারণ। এ সময় তার স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও দুই কন্যা তিলোত্তমা ও ঐন্দ্রিলা ‘বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। দর্শকও করতালির মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সংগীতজীবনে দীর্ঘদিনের অবদান, জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অমূল্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রদত্ত এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের সংগীত ইতিহাসেও একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










