ইসরায়েলি চলচ্চিত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বয়কট করা হচ্ছে। বয়কট করছেন হলিউডের অভিনেতা, নির্মাতা ও কিছু প্রতিষ্ঠান। এবার বয়কটকারীদের আইনি নোটিস পাঠাল আইনজীবীদের একটি সংগঠন। যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের সংগঠন ইউকে লইয়ারস ফর ইসরায়েল এ নোটিস পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ বয়কট—যা হলিউডের অভিনেতা জোয়াকিন ফিনিক্স, এমা স্টোন, অলিভিয়া কলম্যান এবং মার্ক রাফালোসহ অনেকেই সমর্থন করেছেন—যুক্তরাজ্যের ইকুয়ারিটি অ্যাক্ট টু ২০১০ লঙ্ঘন করে এবং এতে অর্থায়ন ও বীমার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

যেসব সংস্থা এ আইনি চিঠি পেয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে কার্যরত নেটফ্লিক্স, ডিজনি, অ্যামাজন স্টুডিওস, অ্যাপল ও ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি। এছাড়া যুক্তরাজ্যের দেশীয় প্রতিষ্ঠান যেমন বিবিসি, ফিল্ম ফোর ও আইটিভি এবং চলচ্চিত্র সংস্থা যেমন বিএফআই ও প্যাক্ট, এজেন্সির মধ্যে কার্টিস ব্রাউন ও ইউনাইটেড এজেন্টসও এ তালিকায় আছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০ যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে মূল আইন। যদি যুক্তরাজ্যের টিভি ও চলচ্চিত্র শিল্প এ ধরনের আচরণে সহযোগিতা করে, তাহলে সেই সংস্থাগুলোও আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়বে। এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করে, যেখানে শুধু জাতীয়তা, জাতিগত পরিচয় বা ধর্মের ভিত্তিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করার অনুমোদন দেয়া হয়।’

চিঠিতে আরো দাবি করা হয়েছে, বয়কটের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জাতি, ধর্ম ইত্যাদি পরিচয়ে নির্বাচিত বা বাদ দেয়া হচ্ছে। ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন নামের এ প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনটি প্যালেস্টাইনিয়ান ইসরায়েলিদের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। ফলে বলা হচ্ছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ম ও জাতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তবে বয়কটটি দাবি করে যে তা শুধু ইসরায়েলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। অন্যদিকে ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়কেই সুরক্ষা দেয়। এটি চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অনেক অভিনেতা ও প্রযোজক তাদের সেবা কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকেন।

আইনি চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কোনো সংস্থার ‘স্টাফ বা এজেন্টরা’ যদি আইন লঙ্ঘন করে, তবে সেই সংস্থাও দায়ী হতে পারে। অভিনেতা, প্রযোজক, এজেন্ট, ম্যানেজার, প্রোডাকশন কোম্পানি, এমনকি কোনো ব্যক্তি (যারা এ বয়কট বাস্তবায়নে সহায়তা করে বা উৎসাহ দেয়) যদি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানকে বর্জন করতে সহকর্মীকে উৎসাহিত করা বা চুক্তিতে বয়কটের শর্ত যোগ করার মতো কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি এ চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে এ বয়কটের ফলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তাদের অনুদান, বরাদ্দ ইত্যাদি বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে সাবধানবাণী দেয়া হয়েছে চিঠিতে।

সূত্র: ভ্যারাইটি