হলিউডের বক্স অফিস ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। জোয়ি সালদানা অভিনীত সিনেমাগুলো বক্স অফিস থেকে আয় করেছে প্রচুর অর্থ। এ সাফল্যের মুকুটে সর্বশেষ পালক ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। সিনেমাটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন জোয়ি। এর মধ্য দিয়ে সালদানা হয়ে উঠলেন বক্স অফিসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মোট বৈশ্বিক আয় এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৪৭ কোটি ডলার।

এ ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আবেগাপ্লুত সালদানা বলেন, ‘আজ সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হওয়ার যে অসাধারণ যাত্রা, তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞ। এ অর্জন একান্তই সম্ভব হয়েছে সেই সব ফ্র্যাঞ্চাইজি ও মানুষের কারণে, যাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছি।’

তিনি কৃতজ্ঞতা জানান ‘স্টার ট্রেক’-এর পরিচালক জে জে আব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এর রুশো ব্রাদার্স, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’র জেমস গান এবং বিশেষভাবে ‘অ্যাভাটার’-এর স্রষ্টা জেমস ক্যামেরনকে। ক্যামেরনকে উদ্দেশ করে সালদানা বলেন, ‘আমার মধ্যে এমন কিছু দেখার জন্য ধন্যবাদ, যা আমি নিজেও সবসময় দেখতে পাইনি। আপনার বিশ্বাস, দিকনির্দেশনা আর দৃষ্টিভঙ্গি শুধু এই সিনেমাগুলো নয়, একজন শিল্পী হিসেবে আমাকেও গড়ে তুলেছে।’

বিশ্বজুড়ে ভক্তদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন আর উৎসাহই এ মাইলফলকের প্রকৃত ভিত্তি। আপনারা বারবার হলে এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ সাফল্য আমাদের সবার।’

২০২৫ সাল সালদানার ক্যারিয়ারে আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায় যোগ করেছে। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমার জন্য জিতেছেন সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর অস্কার। ইতিহাসে প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান হিসেবে এ সম্মান অর্জন করেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত সিনেমাটি তাকে এনে দেয় গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, এসএজি ও ক্রিটিকস চয়েসসহ একাধিক পুরস্কার।

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ তিনি আবারো নে’ইতিরি চরিত্রে ফিরেছেন। অভিনয় প্রসঙ্গে সালদানা বলেন, ‘জিমের (জেমস ক্যামেরন) কাছে অভিনয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের সব মনোযোগ আর অনুভূতি দৃশ্যের মুহূর্তটায় ঢেলে দেয়ার সুযোগ দেয়—এ কারণেই এ জগৎ এত বাস্তব মনে হয়।’

সূত্র: ভ্যারাইটি