দুই দশকের ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান। এরই মধ্যে অভিনয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। টেলিভিশন নাটক থেকে শুরু করে সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে তার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেতে সাহায্য করেছে। এ বছর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার বেশ কয়েকটি সিনেমা। আসন্ন সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। শুনেছেন অহিদুর রহমান

পরিকল্পনার চেয়ে প্রত্যাশায় স্বাচ্ছন্দ্য

‘‌আমি একজন অভিনেত্রী, তাই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে প্রত্যাশা রাখতে পারি। আমার কাজের ধরনটাই এমন যে আমার কাছে যে কাজের প্রস্তাব আসে, সেখান থেকে যেগুলো আমার ভালো লাগে বা যেগুলোর গল্প ও চরিত্রের প্রতি আগ্রহ বোধ করি, সেগুলোর সঙ্গেই যুক্ত হই। আমি পরিকল্পনা নয় বরং ভালো কাজের প্রত্যাশা করি। ২০ বছর ধরে আমি এভাবেই কাজ করে আসছি এবং সামনের দিনগুলোতেও এভাবেই কাজ করব। ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রত্যাশা রাখি।’

এ বছর দর্শকের জন্য যা আসছে

‘‌আমার বেশ কয়েকটি কাজের শুটিং এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার কাজও শেষ করেছি। আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার শুটিং সামনে করতে যাচ্ছি। এ কাজগুলো দর্শকের সামনে এ বছরই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বছরের ঠিক কোন সময়ে মুক্তি পাবে, সেটা পরিচালক বা প্রযোজকই ভালো বলতে পারবেন। আমার হাতে থাকা সব কাজই এখন মুক্তির জন্য প্রস্তুত। আমি আশা করি, দর্শকরা এগুলো দেখার জন্য আগ্রহী হবেন।’

অভিজ্ঞতা থেকেই সামনে এগোনো

‘‌আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই। আমি চেষ্টা করি সেই অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে যেগুলো মানুষ হিসেবে আমাকে আরো ভালো করে তোলে এবং আশপাশের মানুষের জন্য ইতিবাচক হয় সেগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করতে। সেই ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো নিয়েই আমি সামনে এগোতে চাই।’

ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই

‘‌আগের তুলনায় এখন কাজের ক্ষেত্র অনেক বেড়েছে। একসময় পেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের জায়গা ছিল মূলত বিটিভি। পরে ধীরে ধীরে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল যুক্ত হয়েছে। দেশীয় চ্যানেলের পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্মও এসেছে। এখন এ প্লাটফর্মগুলোতে দারুণ সব কাজ হচ্ছে। আমি আশা করি, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। নানা ধরনের গল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে, এ বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার ধারা যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে। শিল্পী হিসেবে আমি চাই, দর্শকরা সবসময় নতুন ও মানসম্মত গল্পের অভিজ্ঞতা পাক।’

ব্যক্তিগত জীবনে সুস্থতাই বড় চাওয়া

‘‌কাজের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমার একটাই চাওয়া—পরিবারের সবাই যেন সুস্থ থাকে। আমি পারিবারিকভাবে খুব শান্ত, নদীর মতো নিরিবিলি জীবন যাপন করি। আমার পরিবার এবং আশপাশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিজের সুস্থতাও চাই। আমি যে জীবনটা যাপন করি, সেটি আমার কাছে পরিপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ। সেখানে সুস্থতার বাইরে আর কিছু চাওয়ার নেই। কাজ আমার জীবনের মাত্র ১০ শতাংশ, বাকি ৯০ শতাংশজুড়ে আছে পরিবার ও প্রিয়জনরা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য বার্তা

‘‌দর্শকদের জন্য আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও শুভকামনা। সবাই যেন সুস্থ থাকেন। নিজের ভালো থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আশপাশের মানুষকে ভালো রাখাও জরুরি। জীবন খুবই ছোট। হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ বা অন্যের ক্ষতি না করে আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করি। একে অন্যের প্রতি সহনশীল হই, মানবিক হই। এ পৃথিবী আমাদের সবার, দেশের সব মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে। সবার জন্য ভালোবাসা, সবার সুস্থতা ও শান্তি কামনা করি। আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা ও সহানুভূতিই আমাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে।’