নিতেশ তিওয়ারি নির্মাণ করছেন ‘রামায়ণ’। সিনেমাটি মুক্তি পাবে দুই পর্বে। প্রথম পর্বের ফার্স্ট লুক প্রকাশ হয়েছে। এর পর থেকেই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরো বেশি আলোটিত হচ্ছে। সিনেমার বিশাল আকার, রণবীর কাপুরের রাম চরিত্র বনাম যশের রাবণ ভূমিকায় মহাকাব্যিক সংঘর্ষ নিয়ে ভক্তদের উত্তেজনার যেন অন্ত নেই। এরই মধ্যে জানা গেল সিনেমার বাজেট নিয়ে। নমিত মালহোত্রা জানালেন, বিশাল বাজেট ও আয়োজন হয়েছে এ সিনেমা নিয়ে। দুই পর্ব মিলে সিনেমাটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার কোটি রুপি।

প্রাইম ফোকাস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নমিত মালহোত্রা। এটি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ভিএফএক্স ও স্পেশাল ইফেক্টস কোম্পানি। সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ সিনেমার বাজেট, নির্মাণের পথচলা ও এর পেছনের দর্শন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নমিত।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ছয়-সাত বছর আগে আমরা সিনেমাটি তৈরির পরিকল্পনা করি। কভিড মহামারীর পর আমরা যখন সত্যিই এটি নিয়ে এগোলাম, তখন বাজেটের কথা শুনে সবাই আমাকে পাগল ভাবল। কারণ এত বড় বাজেটের কোনো ভারতীয় সিনেমা আগে হয়নি। ধারেকাছেও নেই। সহজভাবে বললে, এ দুই পর্ব মিলিয়ে রামায়ণ নির্মাণে মোট খরচ হবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৪ হাজার কোটি রুপিরও বেশি।’

‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’-এর প্রডাকশন বাজেট ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’ ও ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম থ্রি’র বাজেটের সমান। এছাড়া সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সুপারম্যান’-এর বাজেটের (২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) চেয়ে বেশি।

এ বিশাল বাজেট নিয়ে নানা সন্দেহ ও বিরূপ কথা হচ্ছে। কিন্তু নমিত মনে করেন, সিনেমাটির জন্য এ বাজেট প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমি বলি আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা তৈরি করছি। বিশ্বের সবচেয়ে মহান গল্পকে নিয়ে এ সিনেমা। গোটা বিশ্বের এ মহাকাব্য দেখা উচিত। তবে আমি এখনো মনে করি, আমরা বড় সিনেমা বানাচ্ছি, কম খরচে।’

নামিত জানান, ইন্ডাস্ট্রি তাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবতে পারে, কিন্তু এ বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ন্যায্য। তার মতে, রামায়ণ ভারতের সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার একটি মাধ্যম। নমিত বলেন, ‘আমরা এমন কিছু নিচ্ছি, যেটা আমাদের গর্বের বিষয়। এটা আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি এবং আমি এটাকে সবচেয়ে বড় মাত্রায় উপস্থাপন করতে চাই। এর জন্য যত খরচই হোক না কেন, হবে। এটা কি সত্যিই ঝুঁকি? আমি যখন রামায়ণ নিয়ে ভাবি, তখন মনে হয় না এটা কোনো ঝুঁকি। আমি শুধু নিশ্চিত করব যে আমরা মানুষের প্রত্যাশার প্রতি ন্যায্যতা দিতে পারি। এর মধ্যে এমন এক গর্ব থাকতে হবে, যা প্রথমে প্রতিটি ভারতীয় এবং তারপর গোটা বিশ্ব অনুভব করতে পারে। যেন সবাই বলতে পারে—এটা সত্যিই এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক সৃষ্টি।’

পরিচালক নিতেশ তিওয়ারিও একই ভাবনা প্রকাশ করেছেন। সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘রামায়ণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব জাগিয়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস