বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সারাহ বেগম কবরী। ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন এ কিংবদন্তি অভিনেত্রী। আজ তার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী। অভিনয়ের পাশাপাশি কবরী ছিলেন একজন সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদও।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, জাফর ইকবাল, বুলবুল আহমেদের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী সিনেমা। এ সময়ের মধ্যে রয়েছে ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘পারুলের সংসার’, ‘চোরাবালি’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্র।
স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত অভিনয় ও সৌন্দর্যের জন্য তিনি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন ‘মিষ্টি মেয়ে’ খেতাবে। ষাট ও সত্তরের দশকে রাজ্জাক-কবরী জুটি হয়ে ওঠে দর্শকের প্রথম পছন্দ। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও থেমে থাকেননি তিনি। জীবনের শেষ পর্বে পরিচালনায়ও নাম লেখান—‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি ভেঙে পরিচালনায় ফেরেন কবরী।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন সবসময়।
কবরী পেয়েছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ঋষিজ পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু স্বীকৃতি ও সম্মাননা। তার প্রকৃত নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল ও মা লাবণ্য প্রভা পাল।
পারিবারিক জীবনে কবরী ছিলেন পাঁচ সন্তানের মা। প্রথমে বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে, পরে সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ব্যক্তিজীবনে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম এবং হালকা খাবারের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস বজায় রাখতেন তিনি। ভালোবাসতেন সোনালি বা হালকা সাদা রঙের সিল্ক শাড়ি ও হালকা গয়না পরতে।
২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল বহু অসম্পূর্ণ স্বপ্ন ও একটি চলমান সিনেমার কাজ ফেলে রেখে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ অনন্য শিল্পী। আজ তার জন্মদিনে চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা চলচ্চিত্রের এ কালজয়ী অভিনেত্রীকে।
এদিকে কবরীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ে ১৯-২১ জুলাই তিন দিনব্যাপী বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।
এ উৎসবে প্রদর্শিত হবে কবরী অভিনীত তিনটি কালজয়ী চলচ্চিত্র—প্রথম দিন ‘মাসুদ রানা’, দ্বিতীয় দিন ‘বধূ বিদায়’ ও শেষ দিন ‘বিনিময়’।
পাশাপাশি প্রচার হবে ‘এবং সিনেমার গান’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠান, যেখানে থাকবে কবরীর অভিনীত চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান।
২০ জুলাই বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে আবদুর রহমানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় সম্প্রচার হবে কবরীর শেষ সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘কিউট সাময়িকী’।
অন্যদিকে ২১ জুলাই দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মৌসুমীর উপস্থাপনায় ‘অভিনেত্রীর পঞ্চাশ বছর’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার হবে, যেখানে কবরীর পাঁচ দশকের অভিনয় জীবন ও চলচ্চিত্র জীবন নিয়ে আলোচনা করা হবে।










