আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন রয়েছে আগ্রহ, তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস। নির্বাচন নিয়ে দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা প্রকাশ করেছেন তাদের চিন্তা ও প্রত্যাশার কথা। নির্বাচন ও নতুন সরকারের প্রতি তাদের এ কথাগুলো তুলে ধরেছেন অহিদুর রহমান
আবুল হায়াত
আমরা চাই দেশে সাংস্কৃতিক চর্চা স্বাধীনভাবে চলুক
একটা ভালো নির্বাচন সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশায় বসে ছিলাম, কবে নির্বাচন হবে, কবে মানুষ নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পাবে। আমরা আশাবাদী মানুষ। আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার আসবে, তারা নতুন উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করবে। মানুষের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দেবে, যেন সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকে, স্বস্তিতে থাকে আর নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে।
আমরা চাই দেশে সাংস্কৃতিক চর্চা স্বাধীনভাবে চলুক, মত প্রকাশের জায়গা সংকুচিত না হোক। ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্ম নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে পালন করতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভোটারদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের হাতে থাকা একটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান। এ ভোটই আপনার অধিকার, আপনার কণ্ঠস্বর। ভোট দেয়া জরুরি, ভোট দেয়াটাই বেটার। যার যার পছন্দের, যোগ্য মানুষকে সবাই দায়িত্ববোধ থেকে ভোট দিন।
তারিক আনাম খান
দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তি আসুক
আমরা অনেক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস, মবের কারণে মন খারাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমরা কামনা করি দেশে স্থিতিশীলতা ও শান্তি আসুক।
সংস্কৃতি তো একটি দেশের পরিচয়। আমি দেখলাম, কোনো দলই আমাদের সংস্কৃতির উন্নয়ন বা আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলছে না। এটা খুবই হতাশা জনক।
আমাদের নাটক, সিনেমা, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ভয়ংকর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে কারোই কোনো পরিকল্পনা দেখিনি, এটা আমাকে হতাশ করেছে।
ভোটাররা বুঝে-শুনে ভোট দেবেন। দেশের সম্প্রীতি, হানাহানি, বিভেদ, বৈষম্য এগুলো কমে যাক এটাই চাই। একটা দেশের বড় পরিচয় সে দেশের সংস্কৃতি। তাই সাংস্কৃতিক অঙ্গন উজ্জীবিত হোক, ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ হোক, দেশটা ভালো থাকুক, এটাই প্রত্যাশা করি ।
ফজলুর রহমান বাবু
আশা করি সংস্কৃতির আরো উন্নয়ন ঘটবে
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ নির্বাচনে কারা জিতবে, তাদের নীতি ও কৌশল কী হবে, তা পরে বোঝা যাবে। তবে সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা এক লাইনে শেষ করার মতো নয়। আমরা আশা করি, সংস্কৃতির আরো উন্নয়ন ঘটবে।
ভোটারদের উদ্দেশে বলতে চাই, যেখানে ভালো মনে করবেন, সেখানেই ভোট দেবেন। কারণ প্রত্যেকেরই নিজস্ব বিচারবোধ আছে। এবারের নির্বাচন নিয়ে বলতে গেলে এর আগে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। সব দলের অংশগ্রহণ সেখানে ছিল না। এবারো দেখা যাচ্ছে, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি।
কোনো দলের কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে সে ব্যক্তির বিচার আইন অনুযায়ী হওয়াই উচিত। কিন্তু সে কারণে কোনো দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখা ঠিক নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি।
এবারের নির্বাচনটি পুরোপরি অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা কঠিন। নির্বাচনটি যদি সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতো, তাহলে আমার মনে হয় এটি একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারত। তখন জাতি দেখতে পারত একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন হয়েছে, মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে।
রেজাউদ্দিন স্টালিন
সাংস্কৃতিক কর্মীরা যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়
একজন নাগরিক হিসেবে আামি মনে করি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করবে, সেটাই প্রত্যাশা।
নতুন সরকার এলে তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন যেন আরো বিকশিত করে দেয়া হয়। আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীরা কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী সবাই যেন মত প্রকাশের সাধীনতা পায়। একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকরা যেন ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টা যেন নতুন সরকার নিশ্চিত করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কবি সাহিত্যিকদের জন্য যে পুরস্কারগুলো থাকে, সেগুলোর মূল্যমান যেন বাড়ানো হয়। তারা যেন সমাজে সম্মানিত মানুষ হিসেবে কদর পায়, গুণীজনের যেন সমাজে কদর হয়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা নতুন সরকারের কাছে।
ভোটারদের উদ্দেশে বলতে চাই, তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে, সেটাই তাদের স্বাধীনতা। ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিক এবং রাষ্ট্র সমাজ ও সবাই তাদের সাহায্য করবে, সেটাই প্রত্যাশা।










