জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতা। একসময় যার সরব উপস্থিতি ছিল নাটক ও সংগীতজগতে। তিনি গত কয়েক বছর কিছুটা আড়ালে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি তার কণ্ঠে প্রকাশ হয়েছে নতুন মৌলিক গান ‘রুপোর ঝলক’। তার কণ্ঠে নতুন গান, কাজে বিরতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

পাঁচ বছর পর আপনার কণ্ঠে রুপোর ঝলক। গানটির পেছনের গল্পটা জানতে চাই।

পাঁচ বছর আগে আমি আসিফ ইকবাল ভাইয়ের একটি নাটকে কাজ করেছিলাম। এর নাম ছিল ‘কেন’। যখন নাটকটির শুটিং করি, তখনই উনি আমাকে রুপোর ঝলক গানটির কথা বলেছিলেন। তখন আমি জানিয়েছিলাম—কেন করব না, অবশ্যই করব। তার পরই গানটি গাওয়া হয়। তবে গানটি করার সময়ও জানতাম না গানটি কেন করা হচ্ছে—এটা কি মিউজিক ভিডিওতে যাবে, কোনো সিনেমায় যাবে, না নাটকে যাবে—এসব কিছু আমি জানতাম না, জিজ্ঞাসাও করিনি। গানটা সুন্দর ছিল, আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। সে কারণেই এসব নিয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। পরে দেখলাম, এটা নাটকে ব্যবহার হয়েছে।

গানটা এত সময় পর প্রকাশ পাওয়ার কারণ কী ছিল?

গানটার ভয়েস দেয়া হয়েছে অলমোস্ট দুই বছর আগে। দুই বছর আগের গান এত সময় নিয়ে প্রকাশ করার কারণ আসলে আমি বলতে পারব না। এটা গাঙচিল কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। গানটা যখন করেছি, তখন আসলে আমি এত গবেষণা করিনি যে কেন হচ্ছে। আমার কাছে সুর আর লিরিকস ভালো লেগেছে, আসিফ ভাই বলেছেন, সে বিশ্বাস থেকেই করা হয়েছে।

দর্শক-শ্রোতাদের প্রত্যাশা থাকার পরও গানে আপনি অনিয়মিত কেন?

বিয়ের পর আসলে মেয়েদের প্রধান ফোকাসটা সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে যায়। আমার ছেলে ক্লাস টেন শেষ করে ফেলেছে, দুই বছর পর ইউনিভার্সিটিতে যাবে। আমি এ মুহূর্তে যে অবস্থানে আছি, আমার কাছে ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে পরিবার। আমার ছেলে ও মেয়ে এখন বড় হয়েছে। এখন ইচ্ছা করলে টুকটাক কাজ করতে পারি। কিন্তু দুই বা চার বছর আগে আমার ছেলে-মেয়ের প্রতি প্রচুর সময় দিতে হয়েছে। এছাড়া আমার মায়ের শরীর খারাপ ছিল। তিনি একজন ক্যান্সার পেশেন্ট ছিলেন। মায়ের সঙ্গেও অনেক সময় কাটিয়েছি। তাই ওই সময়টায় একটা নতুন গান করা বা একটা নতুন নাটক করার থেকে এগুলোই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

যেহেতু এখন পারিবারিক ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে, নতুন নাটকে আপনাকে পাওয়া যাবে কিনা?

এখন যদি ভালো কোনো স্ক্রিপ্ট পাই, বাসায় সময় দেয়ার পর সবকিছু ব্যালান্স করে নিতে পারি, তাহলে অবশ্যই কাজ করব। মাঝেমধ্যেই স্ক্রিপ্ট আসে আমার কাছে। কিন্তু আমি যে রকমটা চাই, সে রকম কিছু পাচ্ছি না। মাসে ১০টা স্ক্রিপ্ট হয়তো পাই না, কিন্তু বছরে অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট পাই। যেহেতু এখন আমি কাজ একদমই কম করি, তাই যদি গল্পটা আমিকেন্দ্রিক হয় বা আমাকে নিয়ে হয়, যেন অনেকের মধ্যে আমি একজন না হই, তাহলে করব। এ দেশের নাটকে আমাদের বয়সী চরিত্র কমই থাকে।

আপনার সময়কার নাটকের সঙ্গে বর্তমান নাটকের কী পার্থক্য দেখেন?

এখন প্রতিযোগিতাটা খুবই বেশি। যে কেউ চাইলে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে নাটক বানানো শুরু করে দিতে পারে। প্রতিদিন অনেক নাটক, অনেক হাউজ থেকে আসছে। আমার ধারণা, অনেক ভালো কাজ এর মধ্যে চাপা পড়ে যায়। আগে দশটা কাজ হলে মানুষের পাঁচটা দেখা সম্ভব হতো। এখন হাজার কাজের ভিড়ে ভালো কাজ খুঁজে বের করে দেখা অনেক কঠিন। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বে একই অবস্থা। এত এত কাজের ভেতরে ভালো কাজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?

এখন শোবিজ নিয়ে আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। যতটুকু ব্যস্ততা, সেটা নিজেকে নিয়ে, পরিবার নিয়ে। পরিবারের পাশাপাশি আমার ছোটখাটো ব্যবসা আছে। সেগুলো নিয়ে আসলে কথা বলতে আগ্রহী নই। একদমই যে বাসায় বসে আছি, তাও নয়। সবসময়ই কিছু না কিছু করছি। আমার ছেলে-মেয়ে এখন বড় হয়ে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে আপাতত একটু চিন্তামুক্ত। যেহেতু তারা বিকাল পর্যন্ত স্কুলে থাকে, এখন আমার হাতে কিছুটা সময় আছে নিজে কিছু করার জন্য। তাই আপাতত নিজের কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি বলা যায়।

সামনে কাজ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

ভালো সুযোগ এলে দু-একটা গান করতে পারি। অভিনয় কিংবা গান—চাইলেই তো আর হয় না। মনের মতো হতে হবে, যেটা করতে আগ্রহ জাগবে। তবে ভালো গান বা নাটক, মনের মতো হলে, ব্যাটে-বলে হলে, অবশ্যই করব।

রুপোর ঝলক গানটি ‘নসিব’ নাটকে যুক্ত করা হয়েছে। নাটকটি দেখেছেন কিনা?

নাটকটি আমি এখনো দেখিনি। তবে যেহেতু আমার গানটা ব্যবহার করা হয়েছে, অবশ্যই নাটকটি দেখব।

আমরা জানি আপনি লেখালেখিও করেন। এখন লেখার অবস্থা কী?

মায়ের অসুস্থতার কারণে অনেকটা সময় ব্যস্ত ছিলাম, যার কারণে অনেক কিছুই বন্ধ ছিল। তবে এখন একটু গোছানো আছি।

নতুনদের জন্য আপনার কোনো দিকনির্দেশনা থাকবে?

নতুনদের জন্য আমি বলব, তারা এমন এক সময়ে যাত্রা শুরু করেছে, যখন তারা শুধু দেশের নয়, বিদেশের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার সংগ্রামে আছে। তাদের জন্য অনেক শুভকামনা রইল। আমি বলব, তারা যেন কখনো নিরাশ না হয়। কারণ ভালো কাজের স্থান সবসময় মানুষের মনে ছিল, আগামীতেও থাকবে।