সম্প্রতি টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৬১ বছর বয়সী এ অস্কারজয়ী অভিনেতা নিজের বিলাসবহুল ঘড়ির সংগ্রহ থেকে সাতটি প্রিয় ঘড়ি তুলে ধরেন। মুখভরা হাসি আর শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে তিনি জানান, পুরো সংগ্রহ দেখাতে গেলে অনেক সময় লাগবে, কারণ তিনি ‘আক্ষরিক অর্থেই ঘড়ি নিয়ে আবিষ্ট’।

ভিডিওর শুরুতেই তিনি দেখান সুইস ব্র্যান্ড ওমেগার বিশেষ সংস্করণ সিমস্টার ডাইভার ৩০০এম, সিক্সটি ইয়ার্স অব জেমস বন্ড। জেমস বন্ড চরিত্রের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি এ ঘড়ির নীল ডায়াল মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৫ সালের গোল্ডেন আইয়ে জেমস বন্ডরূপে পিয়ার্স ব্রসনানের হাতে দেখা সেই বিখ্যাত ঘড়িকে। দাম প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ডলার। তবে ক্রো জানান, বন্ডপ্রেমের জন্য নয়, বরং টেনিস ডাবলস পার্টনারের সঙ্গে ম্যাচিং ঘড়ি পরে কোর্টে মানসিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এটি সংগ্রহ করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ সালে ব্রসনানের পর বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাব্য তালিকায় ক্রোর নামও ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ।

টেনিসের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি দেখান মরিস দে মরিস রÅvলিমাস্টার থ্রি। উইম্বলডনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি সবুজ ডায়ালের সীমিত সংস্করণ, যার সংখ্যা মাত্র ১০০টি। তবে তার সংগ্রহের সবচেয়ে দৃষ্টিকাড়া ঘড়িটি নিঃসন্দেহে রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা। এর টিফানি-নীল ডায়াল ঘড়িপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ ডলারের এ ঘড়ি সম্পর্কে ক্রোর মন্তব্য, স্যুটের হাতার ফাঁক দিয়ে যখন নীল রঙের ঝলক দেখা যায়, তখন তা অনায়াসেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

নীল রঙের প্রতি তার অনুরাগ যেন বারবার ফিরে আসে। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য তিনি এখন বেছে নিয়েছেন টিউডর ব্ল্যাক বে ক্রোনো ফ্লেমিঙ্গো ব্লু। এর উজ্জ্বল ডায়াল মায়ামির সাউথ বিচের আবহ মনে করিয়ে দেয়। তার সংগ্রহে আরো রয়েছে রোলেক্স স্কাই ডুয়েলার, বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য জ্যাগার-লেকোল্টার রিভার্সো ট্রিবিউট জিওগ্রাফিক এবং ২০২৪ সালে উন্মোচিত রোলেক্স ১৯০৮—প্রতিটি ঘড়িই নিজস্ব নকশা ও মর্যাদায় অনন্য।

ঘড়ির প্রতি এ অনুরাগ অবশ্য নতুন নয়। সাত বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছিলেন প্যানেরাই লুমিনোর জিএমটি, যার প্রতি তার ভালোবাসা জন্ম নেয় Ridley Scott পরিচালিত ২০০০ সালের চলচ্চিত্র Gladiator-এর সেটে। সেই সিনেমার জন্যই তিনি জিতেছিলেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড। ক্রোর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্কার মনোনয়নের সময় তিনি সম্ভবত এই ঘড়িটি কিনেছিলেন এবং দায়িত্বপূর্ণ সেই সময়ে এটি তার নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে।

রাসেল ক্রোর কাছে ঘড়ি কেবল সময় জানানোর যন্ত্র নয়; প্রতিটি ঘড়ি যেন জীবনের এক একটি অধ্যায়ের স্মারক। কখনো তা টেনিস কোর্টে আত্মবিশ্বাস জোগায়, কখনো স্মরণ করিয়ে দেয় চলচ্চিত্রের সাফল্যের মুহূর্ত, কখনো আবার নিছক রঙের প্রেমে হৃদয় জয় করে। অভিনেতা হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতির পরও তার এ ব্যক্তিগত অনুরাগ প্রমাণ করে, সময়কে ধারণ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে গল্প, স্মৃতি ও একান্ত আবেগের দীপ্তি।