অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত এ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন বাকপ্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রে। মুক্তির পর থেকেই কাজটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে দর্শক মহলে।
শুরুতে নাম শুনে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী। মৌসুমি হামিদ বলেন, ‘শুরুতে নাম শুনে একটু ধাঁধায় পড়েছিলাম। আমাদের সংস্কৃতিতে জিন শব্দটি শুনলেই এক ধরনের অতিপ্রাকৃত বা লোকবিশ্বাসের ইঙ্গিত আসে। মনে হয়েছিল হয়তো ভৌতিক বা লোককাহিনী ঘরানার কিছু হবে। কিন্তু স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর পুরো ধারণাই বদলে যায়। এটা আসলে এক নারীর গভীর মানসিক যন্ত্রণার গল্প।
তার মতে, এ গল্প বাহ্যিকভাবে রহস্যময় শোনালেও ভেতরে ভেতরে এটি সমাজবাস্তবতার এক কঠিন চিত্র তুলে ধরে। সিনেমায় তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেই নারী সমাজের চোখে অপূর্ণ। একদিকে তিনি নিঃসন্তান, অন্যদিকে বাকপ্রতিবন্ধী। ফলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলা, প্রতিবেশীদের কটূক্তি মিলিয়ে চরিত্রটি হয়ে ওঠে নিঃশব্দ যন্ত্রণার প্রতীক।
ওয়েব ফিল্মটিতে তার চরিত্র নিয়ে মৌসুমি হামিদ বলেন, ‘এ গল্পে আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সে সমাজের চোখে অপূর্ণ। একে তো নিঃসন্তান, অন্যদিকে বাকপ্রতিবন্ধী। সমাজের চাপ, কুসংস্কার, অবহেলা আর নিঃসঙ্গতার ভেতর দিয়ে এক নারীর মানসিক যাত্রা তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতা। এ গল্পের চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে কয়েক জায়গায় থেমে গেছি, কারণ চরিত্রটির নিঃসঙ্গতা খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করেছি। তখনই মনে হয়েছিল, এটা শুধু আরেকটা প্রজেক্ট নয়। এটা আমার জন্য একটা দায়িত্বও।’
অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ সিরিজে কাজ করা ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত সংলাপের ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়। এখানে সেই সুযোগ ছিল না। শুধু চোখের ভাষা, মুখের পেশির সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও দেহভঙ্গির মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করতে হয়েছে। তার মতে, কথা বলতে পারলে হয়তো কাজটি সহজ হতো, কিন্তু এ সীমাবদ্ধতাই চরিত্রটিকে আরো বাস্তব করে তুলেছে।
দর্শকদের জন্য গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। মৌসুমি হামিদ বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো নিঃসন্তান নারী বা ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষকে নিয়ে নানা কুসংস্কার আছে। অনেক সময় তাদের দোষী বানানো হয়, অপমান করা হয়। এ গল্প সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমি চাই দর্শক যখন কাজটি দেখবেন, তখন শুধু বিনোদন খুঁজবেন না। একটু ভাববেনও। হয়তো তাদের আশপাশে এমন কেউ আছেন, যাকে তারা না বুঝেই বিচার করছেন। যদি এ গল্প কারো দৃষ্টিভঙ্গি সামান্যও বদলাতে পারে, তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।’










