বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা গেছে রটারড্যামে। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে ‘দেলুপি’, ‘রইদ’ ও ‘মাস্টার’। এর মধ্যে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের মাস্টার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কোয়ানন ফিল্মস। রটারড্যামে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের আগেই এ ঘোষণা এসেছে।
সুমিতের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’ একটি রাজনৈতিক থ্রিলার। বাংলাদেশের একটি ছোট বনঘেরা শহরকে পটভূমি করে নির্মিত ‘মাস্টার’-এর গল্প। এতে দেখা যায় জাহিরকে। তিনি একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। হাইস্কুলে ইতিহাস পড়ান। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। শুরুতে মহৎ উদ্দেশ্যে চালিত হলেও ক্রমবর্ধমান চাপ ও দাবি ধীরে ধীরে তার নীতিবোধকে ক্ষয় করে দেয়। ক্ষমতার মোহ বাড়তে থাকলে তিনি সমাজের নায়ক থেকে পরিণত হন ভীতিকর স্বৈরশাসকে।
কোয়ানন ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা অসীম ভাল্লা ও কারমেন চ্যাপলিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মাস্টার এমন এক সমাজের বিরল ঝলক দেখায়, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে খুব কমই দেখা যায়। সিনেমাটি শুধু সমসাময়িক সমস্যার প্রতিফলন নয়, রাজনীতির অন্তর্নিহিত স্বভাব নিয়েও গভীর মন্তব্য করে। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা সম্মানিত। তিনি এক সাহসী কণ্ঠস্বর, যার গল্প সর্বজনীন।’
সুমিত বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সিনেমাটির সময়টা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মাস্টার-এ আমি অনুসন্ধান করেছি, কীভাবে ক্ষমতা সবচেয়ে মহৎ মানবিক প্রবৃত্তিকেও ক্ষয় করে নেয়। এটি একটি বৈশ্বিক থিম, যা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। এ বিপুল পরিবর্তন আমাদের সমাজকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, কিন্তু যে ব্যবস্থাগুলো অবিচার টিকিয়ে রাখে, সেগুলো এখনো আমাদের তাড়া করে বেড়ায়।’
তিনি আরো জানান, জনজীবনের নেতৃত্বের ব্যক্তিগত মূল্য তাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে।
সুমিত বলেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করেছি, একজন জননেতার পারিবারিক জীবন এক বিশাল, অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্র। আমার কাছে আসল গল্পটা নির্বাচন নয়; বরং সেই ঘরোয়া ভাঙন—যে ধারণা অনুযায়ী আপনি একটি জাতির কাছে নায়ক হতে পারেন, অথচ নিজের ডিনার টেবিলে হয়ে উঠতে পারেন একজন অচেনা মানুষ।’
সিনেমায় অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। তিনি বলী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বুসান নিউ কারেন্টস পুরস্কার জিতেছিলেন। আছেন আজমেরী হক বাঁধন। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু ও শরিফ সিরাজ।
কোয়ানন থেকে এসেছে চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘চ্যাপলিন: স্পিরিট অব দ্য ট্র্যাম্প’। সিনেমাটি পরিচালনা করেন কারমেন চ্যাপলিন। এটি সান সেবাস্তিয়ানে ইরিজার পুরস্কার জিতে নেয়।
কোয়ানন ফিল্মস মাস্টারের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার ফলে সিনেমাটি বিশ্বের আরো নানা প্রান্তে পৌঁছে যাবে। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক এ সংযুক্তির বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের ছবি মাস্টার-এর সঙ্গে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হলো যুক্তরাজ্যের “কোয়ানন ফিল্মস”। তারা “চ্যাপলিন: স্পিরিট অব দ্য ট্র্যাম্প”সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ছবির প্রযোজক।’
সিনেমার প্রিমিয়ার ও দেশীয় দর্শকদের সিনেমা হলে আমন্ত্রণ করে তিনি বলেন, ‘রটারড্যামে আমাদের প্রিমিয়ার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে! সামনে আরো দুটি শো আসছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আমাদের সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ রইল। দেখা হচ্ছে সিনেমা হলে!’










