কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে অন্তত ৩০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউএমই উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও বিদ্যালয়টিতে একইভাবে ৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রথম শিফটে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির ৫০১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দ্বিতীয় শিফটে দুপুর দেড়টা থেকে সপ্তম ও নবম শ্রেণির ৪২৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে কেন্দ্রেই ছাত্রীরা অসুস্থ হতে থাকে। একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়ায় স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নবম শ্রেণির সামিয়া সুলতানা জানায়, কোনো কারণ ছাড়াই তারা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। জ্ঞান ফিরে দেখে হাসপাতালের বেডে আছে।
সপ্তম শ্রেণির রিয়া মনি ও জান্নাতুল ফেরদৌসী জানায়, তাদের এক সহপাঠীকে অসুস্থ হওয়া দেখে আরেকজন চিৎকার দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা দেখে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর বুঝতে পারে তারা হাসপাতালে ভর্তি।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম শুভ বলেন, বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১১ জন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এটাকে হিস্টিরিয়া রোগ বলে। ভয় থেকে এটা হয়, একজনের দেখাদেখি আরেকজন অসুস্থ হয়। এখানে ভয়ের কিছু নেই, বিশ্রামে থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে।
বড়শালঘর ইউএমই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, অসুস্থ ছাত্রীদের দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ১৫ দিন আগেও এভাবে ৪ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।










