বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের দোসররা জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো বহাল রয়েছে। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

তিনি গতকাল রাজধানীর রমনা এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) সামনে ‘বন্যাপ্লাবিত মানুষের’ চরম দুর্দশায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সার্বিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় অসময়ে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অ্যাবের উদ্যোগে গতকাল সকালে এ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রিজভী বলেন, ‘১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার আমাদের ওপর নানা জুলুম অত্যাচার করেছে। যারা চাকরিরত ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন, তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করেছে। তাদের প্রাপ্য পদোন্নতিও দেয়া হয়নি, ভালো পদায়ন করা হয়নি।’ 

নানা জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তার পরও এসব কর্মকর্তা বিপদ হতে পারে জেনেও কঠিন দুঃসময়ে সম্মিলিতভাবে জাতীয়তাবাদের পতাকা উড্ডীন রেখেছেন। আমরা মুক্ত পরিবেশে শ্বাস নিতে পারছি। কিন্তু জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে। যারা ইঁদুর থেকে হাতি হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে। আমরা নানাভাবে প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কায় আছি। তারা সব জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে।’

আনসার বাহিনীর সদস্যদের কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে তা নিয়ে তারা আলোচনা করতে পারত উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘তারা তা করেননি। রোববার তাদের দাবি মেনে নেয়ার পরও কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখার সাহস তারা পেল কোথায়? আসলে বর্তমান যে অন্তর্বর্তী সরকার রয়েছে, সেই সরকারকে অস্থির করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে।’ 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আজকে যেসব সচিব বহাল তবিয়তে কাজ করছেন তারা কারা? তারা তো পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। যারা এসপি রয়েছেন, তারা কারা? তারা তো কম অত্যাচার করেননি।’

তিনি ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে পুনর্বিন্যাস করার দাবি জানান। কারণ স্বৈরাচারের দোসররা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে প্রতিবিপ্লব করার জন্য এখনো সুযোগের অপেক্ষায় আছে।

বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যাবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহসম্পাদকসহ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।