শীতলক্ষ্যা নদীর দুই তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাগব হতে যাচ্ছে। নবনির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল উদ্বোধন করবেন। এ সেতুর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। এ নিয়ে নদীর দুই তীরে মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উচ্ছ্বাস, আনন্দ।
নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুটি নির্মাণ করেছে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২২ দশমিক ১৫ মিটার প্রস্থে ছয় লেনবিশিষ্ট সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ৬০৮ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৬৩ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫ দশমিক ২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে। ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। এ সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এসব রুটের পরিবহনগুলো আগে কাঁচপুর সেতু দিয়ে চলাচল করত। কিন্তু নাসিম ওসমান শীতলক্ষ্যা তৃতীয় সেতু খুলে দেয়া হলে গাড়িগুলো বন্দর হয়ে মদনপুর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে মিলবে। এতে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় বাঁচবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের। একই সঙ্গে দুর্ভোগ লাঘব হবে শীতলক্ষ্যা দুই তীরের মানুষের। দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি সময় বাঁচবে নদী পারাপারে।
সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর টোল প্লাজার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ৫০ মিটার রাস্তার নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। উদ্বোধনের পরই সেতুটি যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হবে।
শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ নয়, শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম ও পূর্বতীরের মানুষের যাতায়তের একমাত্র অবলম্বন ছিল খেয়া নৌকা। এ নৌকায় যাত্রী পারাপার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় অনেক মানুুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ হওয়ায় এ দুর্ভোগ বা দুর্ঘটনায় প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাবে উভয় পারের মানুষ। আগে সড়ক পথে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বন্দর উপজেলার মানুষকে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে আসতে হতো। সেতুটি খুলে দিলে এ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে বন্দরবাসীর।
শীতলক্ষ্যার পশ্চিম তীরের সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, শীতলক্ষ্যা পূর্ব ও পশ্চিম তীরের মানুষসহ সমগ্র নারায়ণগঞ্জবাসীর একটি স্বপ্ন ছিল এ সেতুটির বাস্তবায়ন। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হওয়ার পর দুই তীরের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। কাউকে ট্রলার কিংবা নৌকা দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হবে না।
জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, সেতু উদ্বোধনের পর রাতেই ট্রাকসহ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে সেতুটি। সেতু পশ্চিম পাড়ে ৫০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ বাকি আছে। সেখানে বালি ও খোয়া ফেলে দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে। পরে সড়কটি কার্পেটিং করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর সেতু নির্মাণ বন্দর ও সদর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সে দাবি বাস্তবায়ন করেছেন। আগামীকাল প্রধামন্ত্রী এ সেতুর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই পাড়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ বলেন, আগামীকাল সেতুটির উদ্বোধন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজকের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। সেতুটি ছয় লেনের। দুই লেন হচ্ছে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য। বাকি চার লেন দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে। এরই মধ্যে সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের জন্য টোল নির্ধারণ করে দিয়েছে সেতু বিভাগ।










