চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের কাছে টানা হেরেছে ছিয়ানব্বইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াও দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরেছে। চেন্নাইয়ে ভারতের কাছে ও লক্ষ্ণৌতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে অজিরা। লক্ষ্ণৌতে আজ এ দুই হারা দলের লড়াই। দুই দলেরই লক্ষ্য প্রথম জয়। বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায় শুরু হবে অজি-সিংহলিজ দ্বৈরথ।
লংকানরা যখন জিততে মরিয়া হয়ে খেলবে তখন তাদের জন্য বড় আঘাত হয়ে এসেছে অধিনায়ক দাসুন শানাকার চোট। ১০ অক্টোবর হায়দরাবাদে পাকিস্তান ম্যাচে ঊরুর মাংসপেশির চোটে পড়ে তার বিশ্বকাপই শেষ হতে চলেছে। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে, যে সময়ের মধ্যে শ্রীলংকা তাদের রাউন্ড রবিন লিগের প্রায় সব ম্যাচই খেলে ফেলবে।
তাই শানাকার জায়গায় ডাকা হয়েছে চামিকা করুণারত্নেকে। তিনিও শানাকার মতো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। যদিও শানাকার শক্তি তার ব্যাটিং, আর চামিকার শক্তির জায়গা বোলিং। চামিকা স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে আগে থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন। তাই লংকান ম্যানেজমেন্টের জন্য কাজটা সহজ হয়েছে। আজই তাকে একাদশে নামানোর সুযোগ রয়েছে।
লংকান টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, শানাকার অনুপস্থিতিতে শ্রীলংকা দলকে নেতৃত্ব দেবেন ব্যাটার কুশল মেন্ডিস, যিনি দলের সহ-অধিনায়ক। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের ওয়ার্মআপ ম্যাচে শানাকার অনুপস্থিতিতে তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন। খেলতে না পারলেও দলের সঙ্গেই কিছুদিন থাকবেন শানাকা।
রাউন্ড রবিন লিগে প্রতিটি দল খেলবে ৯টি করে ম্যাচ। একটি বা দুটি ম্যাচ হারলেও তাতে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে না। তাই বলে ০-৩ পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে। আজ কিন্তু বাস্তবেই তেমনটি ঘটবে। লক্ষ্ণৌয়ের এ ম্যাচ শেষে হয় অস্ট্রেলিয়া, নয়তো শ্রীলংকার নামের পাশে স্কোরলাইন লেখা থাকবে ০-৩! তাতে সেমিফাইনালের আশা ক্ষীণ হয়ে পড়বে। আর দুই পয়েন্ট পেলে সম্ভাবনা টিকে থাকবে।
অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিশ্বকাপের ফেভারিট থাকলেও এবার তেমনটি উচ্চারিত হয়নি শুরু থেকে। বরং ভারত কিংবা ইংল্যান্ডের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছিল। অজিদের কথা কেন বলা হয়নি, সেটি এখন প্রমাণিত। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে তিন বিভাগেই পর্যুদস্ত হয়েছে তারা।
শ্রীলংকার সমস্যা বোলিং ও ফিল্ডিং। প্রোটিয়া ও পাকিস্তানিদের কাছে হারলেও দুটি ম্যাচেই তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ জড়ো করে লংকানরা। যদিও বোলাররা ৯৮.২ ওভারে দিয়েছেন ৭৭৩ রান। রান দেয়া গড় ৭.৮৬। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শানাকার ইনজুরি। আর আগে থেকেই ছিটকে গেছেন কৃতী অলরাউন্ডার হাসারাঙ্গা ডি সিলভা। পেসাররা খারাপ করলেও স্পিন এখনো আশা দেখায় শ্রীলংকাকে।
ট্রাভিস হেড বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এখনো ভারতে অজি ক্যাম্পে যোগ দেননি। বাকি ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই গত দুই ম্যাচে খেলেছেন। এখনো সুযোগ পাননি শুধু শন অ্যাবট।
অজিদের দুশ্চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। কোনো ব্যাটার এখনো ফিফটি পাননি। টুর্নামেন্টের দলগুলোর মধ্যে রান গড় তাদেই সবচেয়ে কম (১৮.৮০)। প্রথম দুই ম্যাচের কোনোটিতেই এখনো ২০০ রান করতে পারেনি বিশ্বকাপের পরাশক্তিরা।
অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার মিচেল মার্শ আশাবাদী, তাদের দল ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস বলে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তারা সেরা ক্রিকেট খেলে। আমরা চলতি টুর্নামেন্টে শুরুর দিকেই তেমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। এখন আমাদের শ্রীলংকার বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে দুঃসময় তাড়াতে হবে।’
অতীত রেকর্ড আর বর্তমান পরিস্থিতি বিচারে আজ এগিয়ে থেকেই মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। ১০২টি ওয়ানডে ম্যাচের মুখোমুখি লড়াইয়ে অজিরা ৬৩টি জয়ে এগিয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট ব্যবধানে আর লংকানরা জিতেছে ৩৫টি। যদিও গত বছর সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজটা ৩-২-এ জিতেছে শ্রীলংকা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ১১ বারের মুখোমুখিতে আধিপত্য করে এসেছে অজিরা। তারা আটটিতে জয়ের কৃতিত্ব দেখায়। অন্যদিকে, শ্রীলংকা জিতেছে দুটি আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। শ্রীলংকার দুই জয়ের একটি আবার ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে পাওয়া। ১৯৯৬ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে শ্রীলংকার মাঠে খেলতে যায়নি অস্ট্রেলিয়া। পরে লাহোর ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন শ্রীলংকা।
লাহোরে জয়ের পর বিশ্বকাপে সাতবারের চেষ্টায় অজিদের হারাতে পারেনি লংকানরা। ছিয়ানব্বইয়ের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ ২০০৩ ও ২০০৭ সালে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ সালে সেমিফাইনালে ও ২০০৭ সালে ফাইনালে সিংহলিজদের হারায় তারা। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে ৬৪ রানে ও ২০১৯ বিশ্বকাপে ৮৭ রানের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপে প্রথম দেখা ১৯৭৫ সালে, সেবার ৫২ রানের জয় পায় অজিরা। ১৯৯২ সালে অ্যাডিলেডে অজিরা জিতেছিল ৭ উইকেটে। আজ বিশ্বকাপে দ্বাদশ লড়াই দুই দলের। অজিরা ব্যবধান বাড়িয়ে ৯-২ করবে, নাকি সিংহলিজরা ৩-৮ করবে?










